মঙ্গলবার বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা এবং জম্মু–কাশ্মীর লিবারেশন ফ্রন্টের (জেকেএলএফ) প্রাক্তন কমান্ডার জাভেদ মীরকে গ্রেফতার করল জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ। ১৯৯৬ সালে শ্রীনগরে এক গণ সংঘর্ষের ঘটনায় তিনি অভিযুক্ত ছিলেন। এক নিহত কমান্ডারের মৃতদেহ নিয়ে একটা মিছিলের নেতৃত্ব দেওয়ার সময় পুলিশ কর্মীদের ওপর হামলা করার অভিযোগ রয়েছে জাভেদ মীরের বিরুদ্ধে। ওই মিছিল চলাকালীন শ্রীনগরের নাজ ক্রসিং এলাকায় মিছিলে যোগ দেওয়া জনতা পুলিশ কর্মীদের ওপর আক্রমণ করে।
২০১৯ সালের পুলওয়ামা হামলার পর কঠোর সন্ত্রাসবিরোধী আইন বেআইনি কার্যকলাপ (প্রতিরোধ) আইনের অধীনে কেন্দ্রীয় সরকার রাজনৈতিক বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন জম্মু–কাশ্মীর লিবারেশন ফ্রন্টকে নিষিদ্ধ করেছিল। জাভেদ মীর জম্মু–কাশ্মীর লিবারেশন ফ্রন্টের একজন প্রাক্তন কমান্ডার। পুলিশ জানিয়েছে, কাশ্মীরে জঙ্গিবাদের শীর্ষে থাকাকালীন জাভেদ নলকা নামে পরিচিত মীরকে মঙ্গলবার শেরগড়ি পুলিশ গ্রেফতার করে। ১৯৯৬ সালের এই মামলাটি মামলাটি ইউএপিএ এবং অস্ত্র আইনসহ একাধিক ধারার অধীনে নথিভুক্ত করা হয়েছে।
একদিন আগেই শ্রীনগর পুলিশ একই মামলায় বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা শাকিল আহমেদ বকশিকে গ্রেফতার করেছিল। জম্মু–কাশ্মীর লিবারেশন ফ্রন্ট জঙ্গি সংগঠন অস্ত্র ত্যাগ করার পরও জাভেদ মীর বিচ্ছিন্নতাবাদী রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। ২০১৯ সালে ৩৭০ ধারা বাতিলের পর থেকেই তিনি আত্মগোপন করেন। জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশের এক কর্তা জানিয়েছেন, ‘শ্রীনগরের পুরাতন শহরের জয়না কাদালের বাসিন্দা জাভেদ মীর এবং বাটামালুর বাসিন্দা বকশিকে ১৯৯৬ সালের ১৭ জুলাই একটা মিছিল থেকে পুলিশের ওপর হামলা সম্পর্কিত মামলায় (এফআইআর নং ১৯২/১৯৯৬) হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। মামলার নথি অনুসারে, মীর এবং আরও বেশ কয়েকজন বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতার বিরুদ্ধে নিহত জঙ্গি হিলাল আহমেদ বেগের মরদেহ বহনকারী একটা বিশাল জানাজা মিছিলের নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছিল। নাজ ক্রসিং দিয়ে যাওয়া এই মিছিলটি পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।’
এফআইআর–এ সৈয়দ আলি শাহ গিলানি, আবদুল গণি লোন, মহম্মদ ইয়াকুব ভাকিল, নঈম খান, সাবির শাহ, বকশি এবং মীরসহ বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট বিচ্ছিন্নতাবাদী ব্যক্তিত্বের নাম ছিল। যদিও গিলানি, লোন এবং ভাকিল মারা গেছেন। নঈম খান এবং সাবির শাহ ২০১৭ সাল থেকে তিহার জেলে বন্দী রয়েছেন। মঙ্গলবার বকশি এবং মীরকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
জঙ্গিগোষ্ঠীতে যোগদানের আগে জাভেদ মীর ওয়াটার–ওয়ার্কস বিভাগে কাজ করতেন। ১৯৮০•এর দশকের শেষের দিকে তিনি জম্মু ও কাশ্মীর লিবারেশন ফ্রন্টে যোগ দেন এবং উপত্যকায় বিদ্রোহ শুরু হওয়ার সময় ইয়াসিন মালিক এবং অন্যান্যদের সঙ্গে সংগঠনের প্রাথমিক জঙ্গি নেতৃত্বের অংশ ছিলেন। ১৯৯০–এর দশকের গোড়ার দিকে অভিযানের মাধ্যমে বেশিরভাগ সিনিয়র জেকেএলএফ কমান্ডারকে হত্যা করা হয়। কিন্তু মীরকে গ্রেফতার করা যায়নি। সেই সময়ের জীবিত নেতাদের মধ্যে তাঁকে দেখা যায়।
১৯৯০ সালের ২৫ জানুয়ারী শ্রীনগরের রাওয়ালপোরায় যে হামলা হয়, সেই হামলায় চারজন ভারতীয় বিমান বাহিনীর (আইএএফ) সদস্য নিহত এবং বেশ কয়েকজন জঙ্গি আহত হয়। জম্মুর এক বিশেষ এনআইএ আদালত ওই মামলায় মীর, ইয়াসিন মালিক এবং অন্যদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনের আওতায় হত্যা, ষড়যন্ত্র এবং অপরাধের অভিযোগ গঠন করেছে। ২০১৯ সালে আদালতে হাজির না হওয়ার জন্য সিবিআই মীরকে জামিন অযোগ্য পরোয়ানা দিয়ে গ্রেফতার করে। কিন্তু একই দিনে তাঁকে জামিন দেওয়া হয়। ২০১৯ সালে বেআইনি কার্যকলাপ (প্রতিরোধ) আইনের অধীনে জেকেএলএফ নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। মীরের গ্রেফতারের ফলে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা মামলাগুলির পুনর্বিবেচনার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।