যৌন হেনস্থার শিকার মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শেনবাউম। রাজধানী মেক্সিকো সিটিতে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের কাছে রাস্তার মাঝখানে শ্লীলতাহানির শিকার হন তিনি। উরিয়েল রিভেরা মার্টিনেজ নামে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
কিছুদিন আগেই মেক্সিকোর প্রথম মহিলা প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ক্লদিয়া শেনবাউম। মঙ্গলবার তিনি মেক্সিকোর রাজধানী মেক্সিকো সিটিতে জনসংযোগ করছিলেন। রাস্তায় নেমে সাধারণ মানুষের সঙ্গে হাত মেলাচ্ছিলেন, তাদের সঙ্গে ছবিও তুলছিলেন। সেই সময় উরিয়েল রিভেরা মার্টিনেজ নামে এক ব্যক্তি এসে ক্লদিয়া শেনবাউমকে জড়িয়ে ধরে। কাঁধে হাত রাখে। আর একটা হাত দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে স্পর্শ করে। এমনকী, প্রেসিডেন্টের ঘাড়ে চুমু দেওয়ারও চেষ্টা করে। এরপরই ক্লদিয়া শেনবাউমের এক নিরাপত্তারক্ষী দ্রুত ওই ব্যক্তিকে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নিয়ে যান।
মার্টিনেজকে অবশ্য তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেফতার করা হয়নি। কয়েক ঘন্টা পরে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তারপর পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয় এবং যৌন অপরাধের জন্য প্রসিকিউটরের অফিসে হাজির করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃত ওই ব্যক্তি নেশাগ্রস্থ ছিল। শুধু প্রেসিডেন্টই নন, ওইদিন ভিড়ের মাঝে আরও কয়েকজন মহিলার শ্লীলতাহানি করেছিল অভিযুক্ত ব্যক্তি। এই কথা জানার পর প্রেসিডেন্ট সরকারিভাবে পুলিশে অভিযোগ জানান।
ক্লদিয়া শেনবাউম বলেন, ‘ওই ব্যক্তি অন্য আরও মহিলাকে হয়রানি করেছে। এটা জানার পরই আমি পুলিশে অভিযোগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এরপর পুলিশ ওই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে। আমি যদি অভিযোগ দায়ের না করি, তাহলে মেক্সিকোর বাকি মহিলাদের কী হবে। ওর যদি প্রেসিডেন্টের সঙ্গে এইরকম আচরণ করে, দেশের বাকি মহিলারা সুরক্ষিত থাকবে কী করে।’ যুবতী বয়সেও এই ধরণের আচরণের শিকার হয়েছিলেন বলে জানান শেনবাউম।
মার্টিনেজের অন্যান্য শাস্তির পাশাপাশি ছয় বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। ক্লদিয়া শেনবাউম বলেন, ঘটনাটি ঘটার সময় মার্টিনেজ মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন। শেনবাউম আরও বলেন যে, তিনি এলাকার অন্যান্য মহিলাদের হয়রানি করছিলেন, যা তার সাজা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। মেক্সিকার প্রেসিডেন্ট দেশের রাজ্যগুলিকে নারীদের জন্য হয়রানির প্রতিবেদন করার পদ্ধতি সহজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে নারীদের ব্যক্তিগত স্থান লঙ্ঘন করা উচিত নয়।
মেক্সিকোয় ৩২টি ফেডারেল এলাকা রয়েছে। সব এলাকার আলাদা আলাদা দণ্ডবিধি রয়েছে। প্রেসিডেন্ট শেনবাউমের সঙ্গে ওই ব্যক্তি যে আচরণ করেছেন, তা মেক্সিকো সিটিতে অপরাধ হিসেবে গন্য করা হয় না। এমনকী, সব ফেডারেল এলাকাতেও শাস্তিযোগ্য অপরাধ নয়। প্রেসিডেন্টের শ্লীলতাহানির পর এই ধরণের আচরণকে গোটা মেক্সিকো জুড়ে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গন্য করার চিন্তাভাবনা শুরু করছে সরকার।