অবশেষে উদ্ধার হল রাশিয়ায় নিখোঁজ হওয়া ভারতীয় ছাত্রের মৃতদেহ। নিখোঁজ হওয়ার ১৯ দিন পর বৃহস্পতিবার রাশিয়ার উফা শহরের একটা বাঁধ থেকে তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ মৃত্যুর তদন্ত শুরু করেছে।
রাজস্থানের আলোয়ারের লক্ষ্মণগড়ের কাফনওয়াদা গ্রামের বাসিন্দা ২২ বছরের অজিত সিং চৌধুরী ২০২৩ সালে ডাক্তারি পড়ার জন্য বাশকির স্টেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিলেন। ১৯ অক্টোবর রাশিয়ার উফা শহর থেকে তিনি নিখোঁজ হন। একটা সূত্র জানিয়েছে, ওই দিন সকাল ১১ টা নাগাদ অজিত সিং দুধ কিনতে যাওয়ার কথা বলে ওই ছাত্র হোস্টেল থেকে বেরিয়ে যায়। তারপর আর ফিরে আসেনি।
এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়। পুলিশ তদন্ত শুরু করে। ১৯ দিন আগে উফার হোয়াইট নদীর তীরে অজিত চৌধুরীর পোশাক, মোবাইল ফোন এবং জুতো পাওয়া যায়। কিন্তু তাঁর দেহ মেলেনি। অবশেষে বৃহস্পতিবার অজিতের পচাগলা মৃতদেহ পুলিশ উদ্ধার করেছে। অজিতের বন্ধুরা তাঁর দেহ শনাক্ত করেন। রাশিয়ার ভারতীয় দূতাবাস থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনও বিবৃতি দেওয়া হয়নি। তবে দূতাবাসের পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার অজিত চৌধুরীর পরিবারকে তাঁর মৃত্যুর কথা জানিয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ছাত্রের মৃত্যুর ব্যাপারে এখনও কোনও বিবৃতি জারি করা হয়নি। অল ইন্ডিয়া মেডিকেল স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের বিদেশি মেডিকেল স্টুডেন্টস শাখা অজিত চৌধুরীর মৃতদেহ দেশে নিয়ে আসার জন্য বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ‘একই বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠরত অজিতের বন্ধুরা তাঁর মৃতদেহ শনাক্ত করেছে।’
প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং আলোয়ার রাশিয়ায় ছাত্র মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে বলেন, ‘কাফানওয়াড়া গ্রামের অজিতকে তার পরিবার অনেক আশা নিয়ে রাশিয়ায় পাঠিয়েছিল। কষ্টার্জিত অর্থ সঞ্চয় করে ডাক্তারি পড়তে। অজিতের মৃতদেহ পাওয়ার খবরটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। আলোয়ারের কাছে এটা খুবই দুঃখজনক ঘটনা। আমরা একটা সম্ভাবনাময় তরুণ ছেলেকে হারালাম। এই কংগ্রেস নেতা বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের কাছে ছাত্রের মৃতদেহ ভারতে আনতে সাহায্য করার জন্য অনুরোধ করেছেন। তিনি বলেন, ‘সন্দেহজনক পরিস্থিতিতে ছেলেটির সাথে একটি অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। এটা সম্পূর্ণ গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা উচিত।’