অস্ট্রেলিয়ার কাছে ছিল সিরিজ বাঁচানোর ম্যাচ। আর ভারত হারলেও লজ্জা নিয়ে ফিরতে হত না। কারণ, সিরিজে ২–১ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল। সিরিজের পঞ্চম ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেস্তে যাওয়ায় লজ্জায় পড়তে হল অস্ট্রেলিয়াকে। টি২০ সিরিজে হার। অন্যদিকে, টি২০ সিরিজ জিতে একদিনের সিরিজ হারের ক্ষতে প্রলেপ ভারতের।
টি২০ সিরিজের প্রথম ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেস্তে গিয়েছিল। দ্বিতীয় ম্যাচ জিতে সিরিজে এগিয়ে গিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। পরপর দুটি ম্যাচ জিতে এগিয়ে যায় ভারত। সিরিজ ড্র রাখতে গেলে অস্ট্রেলিয়াকে জিততেই হত। আশঙ্কা নিয়েই টি২০ সিরিজের শেষ ম্যাচে মাঠে নেমেছিল দুই দল। এদিনও টসে হার সূর্যকুমার যাদবের। তবে ভারত অধিনায়কের অবশ্য টস হারে আর কোনও আক্ষেপ নেই। ভবিতব্যটা মেনেই নিয়েছেন। টস হারের থেকেও তাঁর কাছে বেশি গুরুত্ব দলের জয়। কম্বিনেশনের জন্য যদি গুরুত্বপূর্ণ সদস্যকেও ডাগ আউটে বসাতে হয়, তাতে কোনও অনুশোচনা নেই সূর্যর। যেমন এদিন তিলক ভার্মাকে বসিয়ে রিঙ্কু সিংকে প্রথম একাদশে নিয়ে আসা। তাও আবার সিরিজ নির্ধারণের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে। আসলে যাবতীয় পরীক্ষা–নিরীক্ষা আগামী বছর বিশ্বকাপের কথা মাথায় রেখে। পরীক্ষা–নিরীক্ষার মাঝেও অবশ্য সিরিজ জয়।
বৃষ্টিতে ম্যাচ ভেস্তে গেলেও ভারতীয় ইনিংসে অবশ্য ঝড় তোলার কাজটা শুরু করেছিলেন শুভমান গিল। অস্ট্রেলিয়া সফরে প্রথম ৫ ম্যাচে ব্যাটে রান ছিল না। ফর্ম নিয়ে শুভমান নিজে যেমন অস্বস্তিতে ছিলেন, চিন্তায় ছিল টিম ম্যানেজমেন্টও। আগের ম্যাচে রান পেলেও অনেকটাই মন্থর ছিলেন। গাব্বার গতিময় বাইশ গজে শুরুতে শুভমানের ব্যাটে যেন ফেরারির গতি। ডরশুইসকে এক ওভারে পরপর তিনটি বাউন্ডারি। কোনও অক্রিকেটীয় শট নেই। ভারতের দুই ওপেনার যখন তাণ্ডব শুরু করেছেন, বাধা হয়ে দাঁড়াল বৃষ্টি। সবেমাত্র ৪.৫ ওভার খেলা গড়িয়েছে। ততক্ষণে ভারত ৫২/০।
ম্যাচের দেওয়াল লিখন তৃতীয় ওভারেই যেন পরিস্কার হয়ে গিয়েছিল। অভিষেক শর্মার মতো বিধ্বংসী টি২০ ব্যাটারকে দু’দুবার জীবন দেওয়ার পরিণতি যে কতটা ভয়ঙ্কর হতে পারে, টের পেলেন মিচেল মার্শরা। ইনিংসের পঞ্চম বলেই ডরশুইসের ওভারে সহজ ক্যাচ ফস্কালেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। অভিষেক তখন ৫ রানে দাঁড়িয়ে। ২ ওভার পর আবার অভিষেককে জীবন দান। এবার ১১ রানের মাথায় ফস্কালেন ডরশুইস নিজেই। বোলার নাথান এলিস।
তার আগেই অবশ্য নজির গড়ে ফেলেছেন অভিষেক শর্মা। টি২০ ক্রিকেটে সবচেয়ে কম বলে ১০০০ রানের মাইলস্টোনে পৌঁছে যান। ভেঙে দিয়েছেন সূর্যকুমার যাদবের বিশ্বরেকর্ড। ৫৭৩ বল খেলে ১০০০ রানের মাইলস্টোনে পৌঁছেছিলেন সূর্যকুমার যাদব। অভিষেক পৌঁছলেন ৫২৮ বল খেলে। সূর্যকুমার ছাড়াও লোকেশ রাহুলের রেকর্ড ভেঙে দিয়েছেন অভিষেক শর্মা। ইনিংসের বিচারে ভারতীয়দের মধ্যে দ্বিতীয় দ্রুততম ১০০০ রানের মাইলস্টোনে পৌঁছলেন অভিষেক। লোকেশ রাহুলের লেগেছিল ২৯ ম্যাচ। অভিষেক নিলেন ২৮ ইনিংস। ভারতীয়দের মধ্যে রেকর্ড রয়েছে বিরাট কোহলির। ২৭ ইনিংসে তিনি এই মাইলস্টোনে পৌঁছেছিলেন।