বিশ্বের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে একই ক্যালেন্ডার বর্ষে এক হাজার রানের রেকর্ড, দ্রুততম ৫ হাজার রানের রেকর্ড। স্মৃতি মানধানার সব নজিরই মূল্যহীন হয়ে গেল অ্যালিসা হিলির দুরন্ত সেঞ্চুরির কাছে। ম্লান হয়ে গেল বিশ্বকাপে ভারতের সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড। মহিলাদের একদিনের বিশ্বকাপে রেকর্ড রান তাড়া করে ৩ উইকেটে জয় তুলে নিল অস্ট্রেলিয়া। ১ ওভার বাকি থাকতে ভারতের ৩৩০ রান অনায়াসে টপকে গেল অসিরা (৩৩১/৭)।
টস জিতে ভারতকে প্রথমে ব্যাট করতে পাঠান অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক অ্যালিসা হিলি। প্রতীকা রাওয়াল ও স্মৃতি মানধানার ওপেনিং জুটিকে একেবারেই চাপে ফেলতে পারেননি অস্ট্রেলিয়ার জোরে বোলাররা। ওপেনিং জুটিতে দুজনে তোলেন ১৫৫। ৯টি ৪ ও ৩টি ছক্কার সাহায্যে ৬৬ বলের ৮০ রানের দুরন্ত ইনিংস খেলেন স্মৃতি মানধানা। আগের তিন ম্যাচে রান পাননি। এদিন ফর্ম ফিরে পাওয়ার পাশাপাশি বিশ্বরেকর্ডও গড়ে ফেললেন। মহিলাদের একদিনের ক্রিকেটে বিশ্বের প্রথম ব্যাটার হিসেবে এক ক্যালেন্ডার বছরে ১০০০ হাজার রানের মাইলস্টোনে পৌঁছে গেলেন। আরও একটা বিশ্বরেকর্ডের মালিক হয়ে গেলেন মানধানা। ৫৮ রান করার সঙ্গে সঙ্গে মহিলাদের একদিনের ক্রিকেটে দ্রুততম ৫ হাজার রানে পৌঁছে যান। আগের রেকর্ড ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্টেফানে টেলরের। ১২৯ ম্যাচে তিনি ৫ হাজার রান করেছিলেন। সেখানে মানধানা মাইলস্টোনে পৌঁছেছেন ১১২ ম্যাচে।
শুধু স্মৃতি মানধানাই রান পেলেন না। প্রতীকা রাওয়ালও (৯৬ বলে ৭৫) ধারাবাহিকতা ধরে রাখেন। এরপর মিডল অর্ডারে হরলীন দেওল (৪২ বলে ৩৮), হরমনপ্রীত কাউর (১৭ বলে ২২), জেমাইমা রডরিগেজ (২১ বলে ৩৩), রিচা ঘোষরা (২২ বলে ৩২) স্কোর বোর্ডকে সচল রাখেন। ফলে বড় রানে পৌঁছে যায় ভারত। ৪৮.৫ ওভারে তোলে ৩৩০ রান। বিশ্বকাপে ভারতের এটাই সর্বোচ্চ রান। আগের রেকর্ড ছিল ৩১৭/৮, ২০২২ বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে। লোয়ার অর্ডার একটু দায়িত্ব নিলে অনায়াসে ৩৫০ রানের গণ্ডি পার করতে পারত ভরত। শেষ ৬ ওভারে ভারত ৩৬ রানে ৬ উইকেট হারায়। অ্যানাবেল সাদারল্যান্ড দুরন্ত বোলিং করে ৪০ রানে ৫ উইকেট নেন।
অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক অ্যালিসা হিলিও আগের ৩ ম্যাচে রান পাননি। ৩ ম্যাচে সংগ্রহ মাত্র ৫১। ভারতের বিরুদ্ধেই শুধু ফর্মেই ফিরলেন না, দুরন্ত ইনিংস খেলে দলকে জেতালেন। বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে জয়ের ভিতটা তৈরি করে দিয়েছিলেন অসি অধিনায়কই। ৩৫ বলে হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। হিলির সৌজন্যেই ১১ ওভারে ৮৫ রানে পৌঁছে যায় অস্ট্রেলিয়া। দ্বাদশ ওভারে ভারতকে প্রথম ব্রেক থ্রু এনে দেন বাঁহাতি স্পিনার শ্রী চরণি। নিজের দ্বিতীয় বলেই তুলে নেন ফোবে লিচফিল্ডকে (৩৯ বলে ৪০)। ১৫ ওভারে ১০০/১ রানে পৌঁছে যায় অস্ট্রেলিয়া। দলকে ভালই এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন হিলি ও আলিসে পেরি। পেশিতে টান লেগে পেরি (৩২) মাঠ ছাড়তেই ছন্দপতন অস্ট্রেলিয়ার। দ্রুত আউট হন বেথ মুনি (৪) ও অ্যানাবেল সাদারল্যান্ড (০)।
দ্রুত ২ উইকেট তুলে নিয়েও সুবিধা ধরে রাখতে পারেনি ভারত। চাপ সামলে অ্যাশলে গার্ডনারকে (৪৬ বলে ৪৫) সঙ্গে নিয়ে দলকে জয়ের দিকে এগিয়ে নিয়ে যান অ্যালিসা হিলি। ১০৭ বলে ১৪২ রানের দুরন্ত ইনিংস খেলে তিনি যখন আউট হন, জয়ের জন্য অস্ট্রেলিয়ার তখনও প্রয়োজন ছিল ৬৬ রান, হাতে ৬৮ বল। সুযোগটা কাজে লাগাতে পারেননি ভারতীয় দলের বোলাররা। এদিনও ষষ্ঠ বোলারের অভাব প্রকট হয়ে উঠল। হিলি আউট হওয়ার পর অস্ট্রেলিয়াকে জয়ের দিকে এগিয়ে দেন এলিসে পেরি (৫২ বলে অপরাজিত ৪৭), গার্ডনার (৪৬ বলে ৪৫), ম্যাকগ্রাথ (১২), মোলিনেক্স (১৮), গার্থরা (অপরাজিত ১৪)। ৬ বল বাকি থাকতেই ৩৩১/৭ রান তুলে ম্যাচ জিতে নেয় অস্ট্রেলিয়া। ভারতের হয়ে শ্রী চরনি ৪১ রানে ৩ উইকেট নেন। পরপর দুটি ম্যাচে হারতে হল ভারতকে।