রেলওয়েজ ম্যাচের পর আসামের বিরুদ্ধেও কি বোনাসসহ ৭ পয়েন্ট তুলে নিতে পারবে বাংলা? সকাল থেকেই কল্যাণীর মাঠে প্রশ্নটা ইতিইতি ঘোরাফেরা করছিল। আসামের নীচের সারির ব্যাটারদের দুরন্ত লড়াই বাংলার মুখের গ্রাস কেড়ে নিল। ম্যাচ অমীমাংসিতভাবে শেষ হল। প্রথম ইনিংসে এগিয়ে থাকার সুবাদে বাংলার ঝুলিতে এল ৩ পয়েন্ট, আসামের ১।
টস হেরে ব্যাট করতে নেমে মহম্মদ সামি, সূরজ সিন্ধু জয়ওয়াল, মহম্মদ কাইফদের দাপটে ২০০ রানে গুটিয়ে গিয়েছিল আসাম। বাংলার হয়ে মহম্মদ সামি ও সূরজ সিন্ধু জয়সওয়াল ৩টি করে উইকেট নেন। জবাবে বাংলা প্রথম ইনিংসে তোলে ৪৪২ রান। ২৪২ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে মহম্মদ সামি ও সূরজ সিন্ধুর দাপটে শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে আসাম। ৬ ওভারের মধ্যে ৮ রানে ৩ উইকেট হারায়। তৃতীয় দিনের শেষে ৩ উইকেট হারিয়ে ৯৮ রান তুলেছিল আসাম। ডেনিশ দাস ৬৩ ও সুমিত গাদিগাঁওকার ৩০ রানে ক্রিজে ছিলেন।
১৪৪ রানের ঘাটতি নিয়ে চতুর্থ দিন সকালে ব্যাট করতে নামে আসাম। সাত সকালেই আগের দিনের অপরাজিত ব্যাটার ডেনিস দাসকে (১৩৩ বলে ৭৩) তুলে নেন ঈশান পোড়েল। তখন আসামের রান ১১৯। মনে হচ্ছিল সামি, ঈশান, সুরজদের দাপটে আসামে ইনিংস হয়তো বেশিক্ষণ স্থায়ী হবে না। কিন্তু সুমিত গাদিগাঁওকার ও শিবশঙ্কর রায়ের দুরন্ত লড়াই বাংলার ৭ পয়েন্টের আশা ক্রমশ ফিকে করে দেয়। তাদের ৫৮ রানের জুটি আসামকে শক্ত জায়গায় দাঁড় করিয়ে দেয়।
১৭৭ রানের মাথায় সুমিত গাদিগাঁওকারকে (২২২ বলে ৬৭) তুলে নিয়ে জুটি ভাঙেন শাহবাজ আমেদ। এরপর লড়াই জারি রাখেন শিবশঙ্কর রায় ও ঋতুরাজ বিশ্বাস। ৮৬তম ওভারের প্রথম বলেই ঋতুরাজকে (৩৪ বলে১৩) তুলে নিয়ে বাংলাকে স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন শাহবাজ। আসামের রান তখন ২২০/৬। কিন্তু শিবশঙ্কর রায় (১৪৪ বলে ৫২) আকাশ সেনগুপ্ত (৬০ বলে১৩), আব্দুল আজিজ কুরেশি (৬৮ বলে অপরাজিত ২৩), আয়ুষ্মান মালাকর (২০ বলে ৯) , মুক্তার হুসেনের (২৪ বলে অপরাজিত ০) মতো টেলএন্ডারদের দুরন্ত লড়াই বাংলার জয়ের স্বপ্ন শেষ করে দেয়।
১১৩.২ ওভারের মাথায় ২৬৯ রানে নবম উইকেটের পতন ঘটেছিল আসামের। তারপর ৭ ওভার খেলা সত্বেও আসামের দুই ব্যাটার আব্দুল আজিজ কুরেশি ও মুক্তার হুসেনকে আউট করতে পারেননি মহম্মদ সামি সমৃদ্ধ বাংলার বোলাররা। ১২০.৪ ওভারে ৯ উইকেটে আসাম ২৮২ রান তোলার পর ম্যাচ ড্র হয়ে যায়। আসামের সঙ্গে ড্র করে ৫ ম্যাচে ২৩ পয়েন্ট পেয়ে গ্রুপ সি–তে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষেই থাকল বাংলা। অন্যদিকে, হরিয়ানাকে ২১১ রানে হারিয়ে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে সার্ভিসেস। ৫ ম্যাচে তাদের পয়েন্ট ১৯। ৫ ম্যাচে ১৮ পয়েন্ট পেয়ে তৃতীয় স্থানে হরিয়ানা।