শুরু হল মহিলাদের প্রিমিয়ার লিগ। এবারের লিগ যে জমে যাবে, প্রথম ম্যাচেই তার ইঙ্গিত। উদ্বোধনী ম্যাচেই টানটান উত্তেজন। প্রায় হারা ম্যাচ নাটকীয়ভাবে শেষ বলে জিতে দারুণভাবে এবারের মহিলা প্রিমিয়ার লিগ শুরু করল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। উদ্বোধনী ম্যাচে ৩ উইকেটে হারিয়েছে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সকে। শেষ বলে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে দলকে দুর্দান্ত জয় এনে দেন নাদিন ডি ক্লার্ক।
মুম্বইয়ের ডিওয়াই পাটিল স্টেডিয়ামে উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল মুম্বই ইন্ডিয়ান্স এবং রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা খুবই খারাপ করেছিল মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। ১৫ বলে মাত্র ৪ রান করে আউট হন অ্যামেলিয়া কের। ন্যাট সিভার–ব্রান্ট (৪), জি কমলিনি (২৮ বলে ৩২) এবং হরমনপ্রীত কাউরও (১৭ বলে ২০) দ্রুত আউট হন। ফলে মুম্বই মাত্র ৬৭ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ফেলে।
সজীবন সাজনা এবং নিকোলা ক্যারির জুটির দুর্দান্ত ব্যাটিং মুম্বইকে লড়াইয়ে ফিরিয়ে আনে। সজীবন সাজনা ২৫ বলে ৪৫ রান করেন। মেরেছেন ৭টি চার এবং ১টি ছক্কা ছিল। অন্যদিকে, নিকোলা ক্যারি ২৯ বলে ৪০ রান করেন। এই দুই ব্যাটেরের সৌজন্যে মুম্বই ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৫৪ রানে পৌঁছয়। বেঙ্গালুরুর লরেন বেল ডব্লুপিএলের অভিষেক ময়াচেই এক ভয়াবহ স্পেল করেন। ৪ ওভারের মাত্র ১৪ রান দেন। তুলে নেন ১টি উইকেট। ১৯টি ডট বল করেন বেল। নাদিন ডি ক্লার্ক ৪ ওভারে ২৬ রান দিয়ে ৪ উইকেট নেন।
জয়ের জন্য ১৫৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু শুরুটা ভাল করেছিল। গ্রেস হ্যারিস এবং অধিনায়ক স্মৃতি মানধানা ওপেনিং জুটিতে ৩.৫ ওভারে ৪০ রান যোগ করেন। ১৩ বলে ১৮ রান করে আউট হন মানধানা। এরপরই ধস নামে। পরের ওভারেই ফিরে যান গ্রেস হ্যারিস (১২ বলে ২৫)। পরপর আউট হন দয়ালান হেমলতা (৭), রিচা ঘোষ (৬) ও রাধা যাদব (১)।
একসময় ১২১ রানে ৭ উইকেট হারায় বেঙ্গালুরু। ফলে ম্যাচটি তাদের হাত থেকে সরে যেতে থাকে। নাদিন ডি ক্লার্কের ইনিংস ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। শেষ ২ ওভারে জয়ের জন্য বেঙ্গালুরুর প্রয়োজন ছিল ২৯ রান। ১৯ তম ওভারে নাদিন ডি ক্লার্ক ও প্রেমা রাওয়াত মিলে ১১ রান তোলেন। শেষ ওভারে ১৭ রান দরকার ছিল। ন্যাট সিভার–ব্রান্টের প্রথম ২ বলে কোনও রান নিতে পারেননি ক্লার্ক। তৃতীয় বলে ছক্কা হাঁকান, চতুর্থ বলে চার। পরের বলে আবার ছক্কা। শেষ বলে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে বেঙ্গালুরুকে নাটকীয় জনয় এনে দেন ক্লার্ক। ৪৪ বলে ৬৩ রান করে তিনি অপরাজিত থাকেন। মারেন সাতটি চার এবং দুটি ছক্কা। তিনিই ম্যাচের সেরা।