গতবছর ভারতের বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজ জিতলেও এদেশের মাটিতে কখনও একদিনের সিরিজ জেতেনি নিউজিল্যান্ড। অবশেষে সেই আক্ষেপ মিটল। ৩৭ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম ভারতের মাটিতে একদিনের সিরিজ জিতল নিউজিল্যান্ড। ইন্দোরে বিরাট কোহলির দুরন্ত সেঞ্চুরিও হার বাঁচাতে পারল না ভারতের। সিরিজের শেষ ম্যাচে ৪১ রানে জিতল নিউজিল্যান্ড। একইসঙ্গে ২–১ ব্যবধানে জিরিজ জিতে নিল না কিউয়িরা। ভারতের বিরুদ্ধে আবার সেঞ্চুরি করে নিউজিল্যান্ডের জয়ের ভিত গড়ে দেন ড্যারিল মিচেল। যোগ্য সহায়তা গ্লেন ফিলিপসের।
সিরিজ নির্ণায়ক ম্যাচে টস জিতে নিউজিল্যান্ডকে প্রথমে ব্যাট করতে পাঠিয়েছিল ভারত। ইনিংসের চতুর্থ বলেই নিউজিল্যান্ডকে ধাক্কা দেন অর্শদীপ সিং। হেনরি নিকোলসের (০) স্টাম্প ছিটকে দেন। অথচ তাঁকে প্রথম একাদশে খেলাতে তীব্র অনীহা কোচ গৌতম গম্ভীরের। পরের ওভারেই ডেভন কনওয়েকে (৫) তুলে নেন হর্ষিত রানা। ৫ রানে ২ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় কিউয়িরা। চাপ আরও বাড়ে ১৩তম ওভারে উইল ইয়ংকে (৪১ বলে ৩০) হর্ষিত রানা তুলে নেওয়ায়।
এরপর ক্রিজে নেমেই ভারতীয় বোলারদের পাল্টা আক্রমণ শুরু করেন গ্লেন ফিলিপস। ড্যারেল মিচেলও আক্রমণাত্মক মেজাজে ব্যাটিং করতে শুরু করেন। এই জুটি ভারতকে ব্যাকফুটে পাঠিয়ে দেয়। দুরন্ত সেঞ্চুরি করেন ড্যারেল মিচেল। সিরিজের শেষ ম্যাচে ১৩১ বলে ১৩৭ রান করেন তিনি। মারেন ১৫টি চার এবং তিনটি ছক্কা। আগের ম্যাচেও সেঞ্চুরি করেছিলেন মিচেল। এই সিরিজে ৩ ম্যাচে তাঁর মোট রান ৩৫২। যার মধ্যে দুটি সেঞ্চুরি এবং একটা হাফ সেঞ্চুরি রয়েছে।
মিচেলের সঙ্গে দুর্দান্ত জুটি গড়ে তোলেন গ্লেন ফিলিপস। দুজনের জুটিতে ওঠে ২১৯। ২৭৭ রানের মাথায় ফিলিপসকে (৮৮ বলে ১০৬) তুলে নিয়ে জুটি ভাঙেন অর্শদীপ। পরের ওভারেই মিচেলকে (১৩৭) ফেরান সিরাজ। পরপর ২ ওভারে দুজন আউট হওয়ার পর মনে হচ্চিল ভারত প্রত্যাবর্তনের জন্য প্রস্তুত। কিন্তু কিউই অধিনায়ক মাইকেল ব্রেসওয়েল (১৮ বলে ২৮) ঝোড়ো ইনিংস খেলে নিউজিল্যান্ডকে ৩৩৭/৮ রানে পৌঁছে দেয়। অর্শদীপ সিং ৬৩ রানে ৩টি ও হর্ষিত রানা ৮৪ রানে ৩টি উইকেট নেন।
ভারতও শুরুটা বেশ ভালই করেছিল। কিন্তু রোহিত শর্মা (১৩ বলে ১১) ও শুভমান গিলের (১৮ বলে ২৩) জুটি ভাঙতেই টপ অর্ডার ধসে পড়ে। ৭১ রানে ৪ উইকেট হারায়। শ্রেয়স আয়ার (১০ বলে ৩), লোকেশ রাহুল (৬ বলে ১) রান পাননি। জ্যাক ফোকস, ক্রিশ্চিয়ান ক্লার্ক এবং কাইল জেমিসন টপ অর্ডারকে ধাক্কা দেন। অভিষেককারী স্পিনার জ্যাডেন লেনক্স সঠিক সময়ে কেএল রাহুলকে ফাঁদে ফেলে পরিস্থিতি আরও জটিল করে তোলেন। তবে বিরাট কোহলি এক প্রান্ত ধরে রাখেন। নীতীশ কুমার রেড্ডি (৫৩) তাঁকে কিছুটা সাহায্য করেন। দুজনের ৮৮ রানের জুটি চাপ থেকে বার করে নিয়ে আসে ভারতকে।
নীতীষ আউট হওয়ার পর পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে যায়। কারণ রবীন্দ্র জাদেজা (১৬ বলে ১২) ব্যাট হাতে অবদান রাখতে ব্যর্থ। মাত্র ১৭৮ রানে ৬ পর পরাজয় যখন প্রায় নিশ্চিত, তখন হর্ষিত রানাকে সঙ্গে নিয়ে ভারতকে এগিয়ে দেন কোহলি। তিনি নিজের ৫৪ তম সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। হর্ষিত (৪৩ বলে ৫২) আউট হওয়ার এক ওভার পরেই ফিরে যান কোহলি। ১০৮ বলে তিনি করেন ১২৪। কোহলি আউট হওয়ার পরপরই ভারতের পরাজয় নিশ্চিত হয়ে যায়। ভারত শেষ পর্যন্ত ৪৬ ওভারে ২৯৬ রানে অলআউট হয়। নিউজিল্যান্ডের হয়ে ক্রিশ্চিয়ান ক্লার্ক এবং জ্যাক ফোকস ৩টি করে উইকেট নেন। অন্যদিকে লেনক্স নেন দুটি উইকেট।