২০২৩ সালে টি২০ বিশ্বকাপ জিতেই এই ফরম্যাট থেকে অবসর নিয়েছিলেন রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলি, রবীন্দ্র জাদেজা। সম্প্রতি একদিনের ক্রিকেটেও রোহিত, জাদেজাদের ভবিষ্যত নিয়ে নানা জল্পনা চলছিল। অনেকেই মনে করেছিলেন চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জিতেই হয়তো একদিনের ক্রিকেটকে বিদায় জানাবেন রোহিত। না, আপাতত তেমন কোনও সম্ভাবনা নেই। এই মুহূর্তে একদিনেক ক্রিকেট থেকে সরে দাঁড়ানোর কোনও পরিকল্পনা নেই রোহিতের।
কিছুদিন পরেই ৩৮ বছর পূর্ণ করবেন। পরের একদিনের বিশ্বকাপ ২০২৭ সালে। ততদিনে ৪০–এর কাছাকাছি পৌঁছে যাবেন। এবার কি একদিনের ক্রিকেট থেকে অবসর নেবেন? ভবিষ্যত পরিকল্পনা কী? ম্যাচের পর রোহিত পরিস্কার জানিয়ে দেন, ‘ভবিষ্যত নিয়ে এই মুহূর্তে আমার কোনও পরিকল্পনা নেই। যেমন চলছে, তেমনই চলবে।’ রোহিতের এই সংক্ষিপ্ত জবাবেই পরিস্কার, এখনই একদিনের ক্রিকেটকে বিদায় জানানোর কোনও পরিকল্পনা নেই।
২০১৯ বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ রানের মালিক হয়েছিলেন। তবুও দলকে খেতাব জেতাতে পারেননি। সর্বোচ্চ রান করলেও তৃপ্তি পাননি রোহিত। কারণ দলকে চ্যাম্পিয়ন করতে পারেননি। এবার যেন বাড়তি তৃপ্তি। একদিকে দল চ্যাম্পিয়ন, তার ওপর ফাইনালের সেরা। প্রসঙ্গ উঠতেই রোহিত বলেন, ‘২০১৯ বিশ্বকাপে আমি সবথেকে বেশি রান করেও দলকে চ্যাম্পিয়ন করতে পারিনি। কোনও তৃপ্তি পাইনি। দলের সাফল্যে অবদান রাখতে পারলে বাড়তি তৃপ্তি হয়। এবার দলকে খেতাব জেতাতে পেরে ভাল লাগছে।’
আরও পড়ুনঃ নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে ১২ বছর পর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয় ভারতের, রোহিতের মুকুটে পরপর দুটি আইসিসি ট্রফি
এক বছরের ব্যবধানে পরপর দুটি আইসিসি ট্রফি। গত বছর অল্পের জন্য একদিনের বিশ্বকাপ হাতছাড়া। না হলে আইসিসি ট্রফি জেতার হ্যাটট্রিক হয়ে যেত। দলকে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জেতাতে পেরে একটু বেশিই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিলেন রোহিত। কখনও স্টাম্প নিয়ে কোহলির সঙ্গে ডান্ডিয়া নাচ, কখনও আবার ট্রফি নিয়ে দেশের পতাকা গায়ে জড়িয়ে বাইশ গজের মাঝে বসে ছবি তোলা। বারবার চোখের জল লুকোনোর চেষ্টা করছিলেন।
পরিস্থিতি যাইহোক না কেন, বরাবরই তিনি আগ্রাসী ব্যাটিং করতে পছন্দ করেন। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ব্যাটিং প্রসঙ্গে রোহিত বলেন, ‘এটা আমার স্বাভাবিক খেলা নয়। কিন্তু এমনটাই কিছু আমি করতে চাইছিলাম। যখন আলাদা কিছু দরকার পড়ে তখন দলের পাশে থাকা জরুরি হয়। সেটা হয়েছে।আমি কয়েক বছর ধরেই আলাদা স্টাইলে খেলেছি। দেখতে চেয়েছিলাম আলাদাভাবে খেললে কী ধরনের রেজাল্ট হতে পারে। কীভাবে ব্যাট করব তা নিয়ে যেমন ভেবে রেখেছি, সেটাই করার চেষ্টা করি।’ ফাইনালে স্টেপ আউট করে মারতে গিয়ে স্টাম্পড হন। তাঁর কথায়, ‘এখানে খেলায় পিচের চরিত্র সম্পর্কে ওয়াকিবহাল। এভাবে খেলে রান পেয়েছি, আউটও হলাম। কিন্তু এই পরিকল্পনা থেকে সরব না। এতে স্বাধীনভাবে খেলা সহজ হয়ে যায়।’