কিছুদিন আগেই সৈয়দ মুস্তাক আলি টি২০ প্রতিযোগিতায় বিহারের হয়ে কলকাতায় খেলতে এসেছিলেন। একটা ম্যাচে সেঞ্চুরি ছাড়া সেভাবে জ্বলে উঠতে পারেননি। অনূর্ধ্ব ১৯ এশিয়া কাপের প্রথম ম্যাচেই বিধ্বংসী মেজাজে বৈভব সূর্যবংশী। সংযুক্ত আরব আমিরশাহির বিরুদ্ধে ৯৫ বলে ১৭১ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেললেন। তাঁর এই ঝোড়ো ইনিংসের সুবাদে বড় জয় পেল ভারত। জিতল ২৩৪ রানে। ভারতের ৪৩৩/৬ রানের জবাবে আরব আমিরশাহি তোলে ১৯৯/৭।
দুবাইয়ের আইসিসি অ্যাকাডেমি মাঠে টস জিতে ভারতকে প্রথমে ব্যাট করতে পাঠিয়েছিল আরব আমিরশাহি। তৃতীয় ওভারেই আউট হন অধিনায়ক আয়ূশ মাত্রে (৪)। এরপর শুরু হয় বৈভব সূর্যবংশীর তাণ্ডব। অন্য প্রান্তে অ্যারন জর্জ শুধু বৈভবকে স্ট্রাইক দিয়ে যাচ্ছিলেন। ভারতের দ্বিতীয় উইকেটের পতন ঘটে ২২০ রানের মাথায়। ৭৩ বলে ৬৯ রান করে আউট হন অ্যারন জর্জ। এরপর বৈভব যখন আউট হন, ৩২.৫ ওভারে ২৬৫/৩ রানে পৌঁছে যায় ভারত। ৯৫ বলে ১৭১ রানের দুরন্ত ইনিংস খেলেন তিনি। মারেন ৯টি ৪ ও ১৪টি ৬।
বৈভব ফিরে গেলেও ভারতের রানের গতি কমতে দেননি বিহান মালহোত্রা (৫৫ বলে ৬৯), বেদান্ত ত্রিবেদী (৩৪ বলে ৩৮), অভিজ্ঞান কুণ্ডু (১৭ বলে অপরাজিত ৩২), কনিষ্ক চৌহানরা (১২ বলে ২৮)। নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৬ উইকেটে ৪৩৩ রান তোলে ভারত। এদিন অল্পের জন্য ভারতের অম্বাতি রায়ুডুর রেকর্ড ভাঙতে পারলেন না বৈভব। ২০০২ সালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ১৭৭ রান করেছিলেন রায়ুডু। এখনও পর্যন্ত যুবদের একদিনের ক্রিকেটে এটাই কোনও ভারতীয়র সর্বোচ্চ রান।
কঠিন লক্ষ্যের মুখোমুখি হয়ে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি প্রথম ৪ ওভারের মধ্যেই ২টি উইকেট হারায়। আউট হন শালম ডি’সুজা (৪) ও ইয়ায়িন রাই (১৭)। এরপর ৯ বলের ব্যবধানে মুহাম্মদ রায়ান (১৬), আয়ান মিসবাহ (৩) এবং আহমেদ খুদাদাদের (০) আউটের ফলে আমিরশাহির স্কোর হয়ে যায় ৪৮/৫। পৃথ্বী মধু (৫০) ও উদ্দিশ সুরির (৭৮) জুটিতে তোলা ৮৫ রান কিছুটা মান বাঁচায়। শেষ পর্যন্ত ৫০ ওভারে সংযুক্ত আমিরশাহি তোলে ১৯৯/৭। ভারতের হয়ে এদিন ৯ জন বোলার বল করেন ২১ রানে ২ উইকেট নেন দীপেশ দেবেন্দ্রন।
এদিন ম্যাচে, উত্তেজনাপূর্ণ ঘটনা ঘটে। আরব আমিরশাহির উইকেটকিপার সালেহ আমিন স্টাম্পের পেছন থেকে বৈভব সূর্যবংশীকে বারবার স্লেজিং করতে থাকেন। বৈভব সূর্যবংশীও পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানান। ম্যাচের পরে স্লেজিংয়ের ব্যাপারে বৈভব বলেন, ‘আমি বিহারের লোক। পেছন থেকে যে যাই বলুক, তাতে আমার কিছু এসে যায় না। উইকেটকিপার আমাকে বিরক্ত করছিল। আমি নিজের খেলার মনোযোগী ছিলাম।’