লাল বলের ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছেন। সরে দাঁড়িয়েছেন টি২০ ক্রিকেট থেকেও। তাসত্ত্বেও সাদা বলের ক্রিকেটে ধারাবাহিকতা অন্যমাত্রায় বিরাট কোহলির। রাঁচির পর রায়পুর। আবার সেঞ্চুরি ‘কিং কোহলি’র। যদিও তাঁর এই সেঞ্চুরি কাজে লাগল না। এইডেন মার্করামের পাল্টা সেঞ্চুরিতে দ্বিতীয় একদিনের ম্যাচে ৪ উইকেটে জয় তুলে নিল দক্ষিণ আফ্রিকা। একইসঙ্গে তিন ম্যাচের সিরিজে সমতা ফেরাল।
টস হারাটা ভারতীয় অধিনায়করা যেন অভ্যাসে পরিণত করে ফেলেছিল। অস্ট্রেলিয়া সফরে একের পর এক ম্যাচে টসে হার শুভমান গিল, সূর্যকুমার যাদবদের। ঘরের মাঠে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে সিরিজেও ছবিটা বদলায়নি। দুটি টেস্টেই টসে হার। রাঁচিতে সিরিজের প্রথম একদিনের ম্যাচেও টসে হার লোকেশ রাহুলের। বুধবার রায়পুরেও ছবিটা বদলায়নি। টস জিতে ভারতকে প্রথমে ব্যাট করতে পাঠান চোট সারিয়ে দ্বিতীয় ম্যাচে ফেরা দক্ষিণ আফ্রিকা অধিনায়ক তেম্বা বাভুমা। ভাল শুরু করেছিলেন দুই ওপেনার রোহিত শর্মা ও যশস্বী জয়সওয়াল। কিন্তু তাঁদের ইনিংস দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। ৬২ রানের মধ্যে ফিরে যান রোহিত (৮ বলে ১৪) ও যশস্বী (৩৮ বলে ২২)।
আগের ম্যাচে ৫৭ রান করেছিলেন রোহিত। এই ম্যাচেও শুরুটা ভাল করেছিলেন। ৩টি বাউন্ডারি মারার পর নান্দ্রে বার্গারের বলে খোঁচা মেরে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন। এরপর ভারতকে এগিয়ে নিয়ে যান বিরাট কোহলি ও ঋতুরাজ গায়কোয়াড়। রাঁচিতে যেখানে শেষ করেছিলেন, সেখান থেকেই যেন এদিন শুরু করেছিলেন কোহলি। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং প্রতিটা শটে ঝড়ে পড়ছিল আত্মবিশ্বাস। কোহলির সঙ্গ পেয়ে ঋতুরাজও নিজেকে মেলে ধরেছিলেন।
আরও পড়ুনঃ দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে টি২০ সিরিজের জন্য ঘোষিত ভারতীয় দল, চোট সারিয়ে ফিরলেন শুভমান ও হার্দিক
আরও পড়ুনঃ নিজের থেকে বেশি সুন্দরী! চেহারা দেখে ইর্ষান্বিত, ৩ মেয়েকে জলে ডুবিয়ে হত্যা এক মহিলার, অপরাধ ঢাকতে নিজের ছেলেকেও খুন
ইনিংসের শুরুতে কোহলিকে খুব একটা বড় শট খেলতে দেখা যায় না। এদিন অবশ্য ছক্কা হাঁকিয়ে ইনিংস শুরু করেন কোহলি। রাঁচিতে তাঁর সেঞ্চুরি নিখুঁত ছিল। রায়পুরে অবশ্য দু’দুবার জীবন পান। দুবার জীবন পেয়ে ৯৩ বলে ১০২ রান করে আউট হন। কোহলির ইনিংসে রয়েছে ৭টি ৪ ও ২টি ছক্কা। কোহলির থেকেও বেশি আক্রমণাত্মক ছিলেন ঋতুরাজ গায়কোয়াড়। ৮৩ বলে ১০৫ রান করে তিনি আউট হন। মারেন ১২টি ৪ ও ২টি ৬। কোহলি ও ঋতুরাজের জুটিতে ওঠে ১৯৫ রান। এই জুটিই ভারতের বড় রানের ভিত গড়ে দেয়। শেষ পর্যন্ত ৫০ ওভারে ভারত তোলে ৩৫৮/৫। ৪৩ বলে ৬৬ রান করে অপরাজিত থাকেন লোকেশ রাহুল। ২৭ বলে অপরাজিত ২৪ করেন রবীন্দ্র জাদেজা।
জয়ের জন্য ৩৫৯ রানের বিশাল রানের লক্ষ্য নিয়ে ব্যাট করতে নেমে পঞ্চম ওভারেই ধাক্কা খায় দক্ষিণ আফ্রিকা। অর্শদীপ সিংয়ের বলে আউট হন কুইন্টন ডিকক (১১ বলে ৮)। এরপর দলকে এগিয়ে নিয়ে যান এইডেন মার্করাম ও তেম্বা বাভুমা। ৪৮ বলে ৪৬ রান করে আউট হন বাভুমা। অধিনায়ক ফিরে গেলেও মার্করামের মনোবলে ব্যাঘাত ঘটেনি। দুর্দান্ত ব্যাটিং করে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। ৩০তম ওভারে হর্ষিত রানার বলে ঋতুরাজের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন মার্করাম। দক্ষিণ আফ্রিকার রান তখন ১৯৭/৩। ৯৮ বলে ১১০ রান করেন মার্করাম। মারেন ১০টি ৪, ৪টি ৬।
মার্করাম ফিরে যাওয়ার পর ক্রিজে নেমে ঝড় তোলেন ‘পাওয়ার হাউস’ ডিওয়াল্ড ব্রেভিস। ওভার প্রতি রানের গড় অনেকটাই কমিয়ে নিয়ে আসেন। শেষ পর্যন্ত ৩৪ বলে ৫৪ রান করে তিনি আউট হন। ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে কুলদীপ যাদবের বলে বাউন্ডারিতে যশস্বীর হাতে ক্যাচ দেন ব্রেভিস। মারেন ১টি ৪, ৫টি ৬। ব্রেভিস ফিরে যাওয়ার পর দক্ষিণ আফ্রিকাকে জয়ের দিকে দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন ম্যাথু ব্রিৎজে ও টনি ডি জর্জি। ৬৪ বলে ৬৮ রান করে প্রসিদ্ধ কৃষ্ণর বলে এলবিডব্লু হন ব্রিৎজে। অন্যদিকে, পায়ের পেশিতে টান লেগে মাঠ ছাড়েন জর্জি (১১ বলে ১৭)। চাপের মুখে দক্ষিণ আফ্রিকাকে জয় এনে দেন করবিন বশ (১৫ বলে অপরাজিত ২৬) ও কেশব মহারাজ (১৪ বলে অপরাজিত ১০)। ৩ বল বাকি থাকতে ৩৫৯/৬ তুলে ম্যাচ জিতে নেয় দক্ষিণ আফ্রিকা।