কোনও বাণিজ্যিক সংস্থা টেন্ডার জমা না দেওয়ায় আইএসএল আয়োজন নিয়ে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। যার ফলে ভারতীয় ফুটবল নিয়ে তৈরি হয়েছে চরম উদ্বেগ। লিগের ভবিষ্যত জানতে চেয়ে ১২টি আইএসএল ক্লাব যৌথভাবে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল। কেন্দ্র শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টকে জানিয়েছে যে, দেশের শীর্ষ ফুটবল প্রতিযোগিতা আয়োজনের ব্যাপারে তারা হস্তক্ষেপ করবে। দেশের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা বিচারপতি পিএস নরসিংহ এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চকে আশ্বস্ত করেছেন যে, খেলোয়াড় ও ক্লাবগুলি যাতে ক্ষতিগ্রস্থ না হয়, সেকথা মাথায় রেখে আইএসএল পরিচালনা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
আইএসএল পরিচালনার জন্য টেন্ডার ডেকেছিল ভারতীয় ফুটবল ফুটবল ফেডারেশন। ৭ নভেম্বর ফেডারেশন জানায়, আইএসএলের বাণিজ্যিক স্বত্বের জন্য কোনও দরপত্র জমা পড়েনি। আইএসএলের বাণিজ্যিক স্বত্বের জন্য দরপত্র জমা না পড়ায় টেন্ডার কমিটি শীর্ষ আদালতে একটা রিপোর্ট জমা দেয়। এর ফলে ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন বিপাকে পড়ে। শুক্রবার বিচারপতি পিএস নরসিংহ এবং জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চে বিষয়টি শুনানির জন্য ওঠে। সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা বেঞ্চকে বলেন যে, কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে। তিনি এই বিষয়টি সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত এবং জানিয়েছেন, আইএসএল অনুষ্ঠিত হওয়া উচিত।
তুষার মেহতা এদিন আদালতকে বলেন, ‘আইএসএল অবশ্যই অনুষ্ঠিত হবে। আমরা নিশ্চিত করব যে, স্পনসরের অভাব বা ক্লাব মালিকদের জন্য খেলোয়াড়রা কোনও অসুবিধার সম্মুখীন না হন। আইএসএল কীভাবে অনুষ্ঠিত হবে, কারা স্পনসর করবে, সব বিষয় সরকারের ওপর ছেড়ে দেওয়া যেতে পারে। আইএসএল যাতে অনুষ্ঠিত হয় এবং আমাদের খেলোয়াড়রা যাতে কোনও অসুবিধার সম্মুখীন না হয় তা নিশ্চিত করার জন্য সরকার হস্তক্ষেপ করবে। সরকার যা কিছু করবে, তা ফিফার নিয়ম মেনেই।’
আরও পড়ুনঃ সাঙ্গাই উৎসব বন্ধের দাবি, বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষ, আবার অশান্ত মণিপুর
তবে আদালত সরকারের হস্তক্ষেপের ব্যাপারে অত্যন্ত সতর্ক। বেঞ্চ মন্তব্য করেছে, ‘আমরা এমন ধারণা তৈরি করতে চাই না যে, সরকার আবার হস্তক্ষেপ করছে। এটা শুধুমাত্র পরিস্থিতির ওপর নজর রাখার জন্য।’ বিচারপতিরা আরও বলেছেন যে, বিচারপতি রাও কর্তৃক পূর্বের সুপারিশগুলি খুব ভাল নির্দেশিকা নীতি হতে পারে। এবং স্টেকহোল্ডাররা সেগুলি নিয়ে আলোচনা করার জন্য বসতে পারে। দুই সপ্তাহ পরে বিষয়টি নিয়ে আবার শুনানি হবে।
অ্যাডভোকেট রাহুল মেহরা যে রিপোর্ট আদালতে জমা দিয়েছেন, তাতে উল্লেখ করেছেন যে বেশ কয়েকটি ফেডারেশন সদস্য সাধারণ সভায় ফেডারেশনের সংশোধিত গঠনতন্ত্র পাস করাতে অনিচ্ছুক। ফেডারেশন আদালতকে জানিয়েছে যে, সংবিধান পাস করার জন্য ডাকা এমার্জেন্ট সাধারণ সভা ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে। মেহরা জোর দিয়ে বলেছেন, সভাটি আয়োজন করতেই হবে এবং সংশোধিত সংবিধান পাস করতেই হবে। বেঞ্চ জানিয়েছে যে, তারা আপাতত এই ব্যাপারে কোনও পর্যবেক্ষণ দিতে চায় না। শীর্ষ আদালত সংবিধানের কিছু পরিবর্তন করে ফেডারেশনের খসড়া গঠনতন্ত্র অনুমোদন করেছিল।