ট্রেন্ডিং

Bengal Super League: Lothar Matthaus

১৯৯০ বিশ্বকাপ ফাইনালে পেনাল্টি মারতে কেন আন্দ্রে ব্রেহমেকে এগিয়ে দিয়েছিলেন?‌ রহস্য ভাঙলেন লোথার ম্যাথাউজ‌

মারাদোনার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন খেলেছেন লোথার ম্যাথাউজ, আন্তর্জাতিক ফুটবল ও ক্লাব ফুটবলে। তবে একবারই মাত্র একসঙ্গে খেলার সুযোগ হয়েছিল। এখন লিওনেল মেসিকে খেলতে দেখছেন।মারাদোনা, না মেসি সেরা। ফুটবল জীবনের মতোই দুরন্ত ‘‌ড্রিবল ‌এই বিশ্বকাপজয়ী এই জার্মান অধিনায়কের। ম্যাথাউজ বলেন, ‘‌এক একটা সময় এক একজন বিশ্ব ফুটবলকে শাসন করেছেন।’‌

সাউথ সিটি ইন্টারন্যাশানাল স্কুলে সাংবাদিক সম্মেলনে লোথার ম্যাথাউজ। রয়েছেন জার্মানির কনসাল জেনারেল বারবারা ভস, সাউথ সিটি ইন্টারন্যাশানাল স্কুলের ডিরেক্টার রবি টোডি, শ্রাচি স্পোর্টসের চেয়ারম্যান তমাল ঘোষাল।

ইনসাইড বাংলা ওয়েব ডেস্ক

শেষ আপডেট: নভেম্বর ১৬, ২০২৫
Share on:

দিয়েগো মারাদোনা যখন ফর্মের চূড়ান্ত শিখরে, প্রায়শই তুলনা চলে আসত পেলের সঙ্গে। এখন আবার মারাদোনার সঙ্গে তুলনা করা হয় লিওনেল মেসির। মারাদোনার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন খেলেছেন লোথার ম্যাথাউজ, আন্তর্জাতিক ফুটবল ও ক্লাব ফুটবলে। তবে একবারই মাত্র একসঙ্গে খেলার সুযোগ হয়েছিল। এখন লিওনেল মেসিকে খেলতে দেখছেন। তিনি একজন ফুটবলের কিংবদন্তি। তাঁর চোখে কে সেরা, প্রশ্নটা উঠে আসবে স্বাভাবিক। রবিবার কলকাতায় লোথার ম্যাথাউজের সামনে প্রশ্নটা ছুড়ে দেওয়া হয়েছিল, মারাদোনা, না মেসি সেরা। ফুটবল জীবনের মতোই দুরন্ত ‘‌ড্রিবল ‌এই বিশ্বকাপজয়ী এই জার্মান অধিনায়কের।

মারাদোনা ও মেসির তুলনা প্রসঙ্গে লোথার ম্যাথাউজ বলেন, ‘‌এক একটা সময় এক একজন বিশ্ব ফুটবলকে শাসন করেছেন। কখনও পেলে, কখনও বেকেনবাওয়ার, কখনও আবার মারাদোনা। সবাই নিজের নিজের প্রজন্মের সেরা ফুটবলার। এক প্রজন্মের ফুটবলারের সঙ্গে অন্য প্রজন্মের ফুটবলারের তুলনা করা যায় না। তবে শেষ ২০ বছর ধরে বিশ্ব ফুটবলে মেসি রাজত্ব করছে।’‌ উঠে এল এই প্রজন্মের দুই সেরা ফুটবলা ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর সঙ্গে মেসির তুলনা। ম্যাথাউজ বলেন, ‘‌রোনাল্ডো নিঃসন্দেহে বড় ফুটবলার। কিন্তু মেসির খেলার স্টাইল আমার বেশি ভাল লাগে। মাঠে দারুণ আধিপত্য দেখায়। তাই মেসিকেই আমার বেশি পছন্দ।’‌ 

প্রতিপক্ষ হিসেবে দীর্ঘদিন খেললেও মারাদোনার প্রতি বরাবরই অন্যরকম শ্রদ্ধা ছিল লোথার ম্যাথাউজের। মাঠের বাইরে দুজনের মধ্যে দারুণ বন্ধুত্বও ছিল। রবিবার সকালে সাউথ সিটি ইন্টারন্যাশাল স্কুলে ফুটবল ক্লিনিক ও মাস্টারক্লাসে ছেলেমেয়েদের সঙ্গে সময় কাটানোর পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ম্যাথাউজ বলেন, ‘‌আন্তর্জাতিক ও ক্লাব ফুটবলে দীর্ঘদিন মারাদোনার বিরুদ্ধে খেলেছি। একটা ম্যাচেই একসঙ্গে খেলার সুযোগ হয়েছিল। ১৯৮৮ সালে ফ্রান্সে মিশেল প্লাতিনির বিদায়ী ম্যাচে। মাঠের বাইরে আমাদের মধ্যে দারুণ বন্ধুত্ব ছিল। তবে মাঠের বাইরে কেউ কাউকে এক ইঞ্চিও জমি ছাড়তাম না। মারাদোনার ফুটবল দক্ষতা দারুণ শ্রদ্ধা করি। ১৯৮২ বিশ্বকাপে সবে দলে এসেছে। ১৯৮৬–তে দুর্দান্ত ফর্মে ছিল, আমার মনে হয় জীবনের সেরা ফর্মে। ওর জন্যই আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ জিতেছিল।’‌ 


আরও পড়ুনঃ লজ্জার নজির গড়ে হার ভারতের, দেশের মাটিতে টানা ৪, আবার বুমেরাং হয়ে গেল গম্ভীরদের পছন্দের ঘূর্ণি উইকেট


উঠে এল ১৯৯০ বিশ্বকাপে ফাইনালের কথা। ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে পেনাল্টি পেয়েছিল জার্মানি। ম্যাথাউজেরই পেনাল্টি মারার কথা ছিল। কিন্তু তিনি না মেরে এগিয়ে দেন আন্দ্রে ব্রেহমেকে। সেই ঘটনার কথা উল্লেখ করে ম্যাথাউজ বলেন, ‘‌সেই সময় পেনাল্টি মারার জন্য আমি তৈরি ছিলাম না। বুট পরিবর্তন করেছিলাম। তাই ব্রেহমেকেই এগিয়ে দিয়েছিলাম। ব্রেহমে ভাল পেনাল্টি মারতে পারে, জানতাম। ও সেদিন প্রমাণ করে দিয়েছিল, আমার সিদ্ধান্ত ভুল ছিল না। ১৯৯০ সালে জার্মানির অধিনায়ক হিসেবে বিশ্বকাপ জয় আমার জীবনের সেরা ঘটনা। ওই বিশ্বকাপে মারাদোনা আগের মতো ফর্মে ছিল না। থাকলে হয়তো আমাদের বিস্বকাপ জয় কঠিন হয়ে পড়ত।’‌

২০২৬ বিশ্বকাপে দেশের সংখ্যা বেড়ে ৪৮ হচ্ছে। দল বাড়ায় ফুটবলের মান কমবে কিনা এই ব্যাপারে ম্যাথাউজ বলেন, ‘‌দেশের সংখ্যা বাড়লেও ফুটবলের মানে কোনও ক্ষতি হবে না। আগে ৪ সপ্তাহে দলগুলিকে ৭টা ম্যাচ খেলতে হত। এখন ৫ সপ্তাহে ৮টা ম্যাচ খেলতে হবে। আমার মনে হয় না এতে ফুটবলারদের ওপর কোনও প্রভাব পড়বে।’‌ ভারতীয় ফুটবলের ভবিষ্যত নিয়ে ম্যাথাউজ বলেন, ‘‌ভারতকে পরিকল্পনামাফিক এগোতে হবে। ২০৩০ বিশ্বকাপে খেলবে, এটা ভাবা ভুল হবে। যদি সঠিকভাবে এগোয় তাহলে ৮ থেকে ১২ বছর পর বিশ্বকাপে খেলতে পারে। তার জন্য ঘরোয়া ফুটবলকে আরও শক্তিশালী ও প্রতিযোগিতামূলক করতে হবে। সরকারকে বাড়তি দায়িত্ব নিতে হবে।’‌ 

শ্রাচি গ্রুপ ও আইএফএ–র যৌথ উদ্যোগে যে বেঙ্গল সুপার লিগ অনুষ্ঠিত হচ্ছে, তার ব্র‌্যান্ড অ্যাম্বাসাডর হয়েছেন লোথার ম্যাথাউজ। এই প্রতিযোগিতার প্রচারে কলকাতায় হাজির হয়েছেন। রবিবার সকালে সাউথ সিটি ইন্টারন্যাশাল স্কুলে ২০০–র বেশি ছেলেমেয়েদের সঙ্গে ফুটবল ক্লিনিককে অংশ নেন জার্মানির বিশ্বকাপজয়ী এই কিংবদন্তি ফুটবলার। হাতে–কলমে খুদে ফুটবলারদের শেখান। ফুটবল ক্নিনিকে শ্রাচ স্পোর্টসের পক্ষ থেকে হাজির ছিলেন আলভিটো ডিকুনহা, রহিম নবি, সুলে মুসার মতো প্রাক্তন ফুটবলাররা। ফুটবল ক্নিনিক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখথি হন ম্যাথাউজ। সাউথ সিটি ইন্টারন্যাশানাল স্কুলের ফুটবল ক্লিনিক ও সাংবাদিক সম্মেলনে তাঁর সঙ্গে হাজির ছিলেন জার্মানির কনসাল জেনারেল বারবারা ভস, সাউথ সিটি ইন্টারন্যাশানাল স্কুলের ডিরেক্টার রবি টোডি, শ্রাচি স্পোর্টসের চেয়ারম্যান তমাল ঘোষাল।

আরও পড়ুনঃ

অন্যান্য খবর

Inside Bangla is a comprehensive digital news platform. This web portal started its humble journey. Its courageous journalism, presentation layout and design quickly won the hearts of people. Our journalists follow the strict Journalism ethics.

Copyright © 2026 Inside Bangla News Portal . All Rights Reserved. Designed by Avquora