বিশ্বকাপের বহুল প্রতীক্ষিত সেমিফাইনালে আজ আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। ম্যাচটি পরিচালনা করবেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভিজ্ঞ রেফারি ইসমাইল এলফাত। এলফাতের সঙ্গে সহকারী রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন তাঁরই স্বদেশি কোরি পার্কার ও কাইল অ্যাটকিনস। চতুর্থ রেফারি হিসেবে থাকবেন ইতালির মাউরিজিও মারিয়ানি। আর রিজার্ভ সহকারী রেফারির দায়িত্ব পালন করবেন দানিয়েলে বিনদোনি।
মার্কিন নাগরিক হলেও আদতে মরক্কোয় জন্ম ৪৪ বছর বয়সী ইসমায়েল এলফাতের। ২০০১ সালে ১৮ বছর বয়সে ডাইভারসিটি ভিসা লটারিতে সুযোগ পেয়ে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান। বর্তমানে তিনি টেক্সাসে বসবাস করেন। ২০১২ সাল থেকে মেজর লিগ সকার (এমএলএস)–এ নিয়মিত ম্যাচ পরিচালনা করে আসছেন এলফাত। এমএলএস কাপ ফাইনাল, কনকাকাফ চ্যাম্পিয়ন্স কাপের ফাইনালসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে রেফারির দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। এমএলএসে দু’বার বর্ষসেরা রেফারির স্বীকৃতিও পেয়েছেন।
২০১৬ সালে ফিফার আন্তর্জাতিক রেফারির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হন এলফাত। ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপে অভিষেক হয় তাঁর। ওই আসরে আর্জেন্টিনা–ফ্রান্স ফাইনালে চতুর্থ রেফারির দায়িত্ব পালন করেছিলেন এলফাত। চলতি বিশ্বকাপে ইতোমধ্যে তিনটি ম্যাচ পরিচালনা করেছেন তিনি। গ্রুপ পর্বে হল্যান্ড–জাপান ও উরুগুয়ে–স্পেন ম্যাচ এবং শেষ ষোলোতে ব্রাজিল–নরওয়ে ম্যাচে প্রধান রেফারির দায়িত্বে ছিলেন বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে বসবাসকারী এই রেফারি।
আরও পড়ুনঃ বিবর্ণ কিলিয়ান এমবাপে, কৌশলে বাজিমাত ফুয়েন্তের, ফ্রান্সকে মাটিয়ে ধরিয়ে ফাইনালে স্পেন
এলফাতকে সেমিফাইনালে রেফারি হিসেবে নিয়োগে আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসির কাছে দারুণ ইতিবাচক। ৪৪ বছর বয়সী এই রেফারির পরিচালনায় এখন পর্যন্ত কোনও ম্যাচে হারেননি মেসি। ২০২৩ সালে ইন্টার মিয়ামিতে যোগ দেওয়ার পর এলফাতের অধীনে চারটি ম্যাচ খেলেছেন তিনি। চারটিতেই জয় পেয়েছেন। এই ধারার শুরু হয় লিগস কাপের ফাইনালে ন্যাশভিল এসসির বিপক্ষে। সেই ম্যাচে নাটকীয় টাইব্রেকারে ১০–৯ ব্যবধানে জিতেছিল ইন্টার মিয়ামি।
এরপর মেজর লিগ সকার (এমএলএস)–এ এলফাতের পরিচালনায় আরও তিনটি ম্যাচ খেলেছেন মেসি। সবগুলোতেই জয় তুলে নেওয়ার পাশাপাশি চারটি গোলও করেছেন আর্জেন্টাইন সুপারস্টার। তবে শুধুমাত্র এই পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে আর্জেন্টিনা কোনও বাড়তি সুবিধা পাবে, এমন ভাবার কোনও কারণ নেই। তবুও গুরুত্বপূর্ণ এই সেমিফাইনালকে ঘিরে মেসি ও এলফাতের অপরাজিত রেকর্ড আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বাঁশি মুখে এলফাত অবশ্য যথেষ্ট কঠোর। বিশ্বকাপের আগে এমএলএসে মাত্র ১০টি ম্যাচ পরিচালনা করে তিনি ৪১টি হলুদ কার্ড, ৩টি লাল কার্ড দেখিয়েছেন এবং ৩টি পেনাল্টি দিয়েছেন। মাঠে নিয়ম প্রয়োগে তার কঠোর মনোভাব দুই দলের খেলোয়াড়দের জন্যই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।