শক্তির বিচারে দুই অসম দলের লড়াই। গত বছর আই লিগে ইন্টার কাশীকে যে মহমেডান দল হারিয়েছি, সেই দলের দু–একটা ফুটবলার ছাড়া আর কেউ ছিলেন না। অন্যদিকে, কলকাতার বড় ক্লাব খেলা কয়েকজন ফুটবলার ছাড়াও তিন বিদেশি নিয়ে মাঠে নেমেছিল ইন্টার কাশী। বিপক্ষকে রীতিমতো নাকানিচোবানি খাওয়াল মহমেডানের তরুণ ব্রিগেড। দুর্ভাগ্য, জয় এল না। পিছিয়ে পড়েও দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন সাদাকালো ব্রিগেডের। ডুরান্ড কাপের প্রথম ম্যাচেই ইন্টার কাশীকে আটকে দিল ১–১ ব্যবধানে।
ম্যাচের প্রথমার্ধে অবশ্য ইন্টার কাশীরই দাপট ছিল। মাঝে মাঝে প্রতিআক্রমণে উঠে এসে হানা দিচ্ছিলেন ইসরাফিল দেওয়ান, এডিসন সিং, তন্ময় ঘোষরা। কিন্তু সুবিধা করতে পারছিলেন না। ১৭ মিনিটে মহমেডান গোলকিপার শুভজিৎ ভট্টাচার্যকে প্রথম পরীক্ষার মুখে ফেলেন কার্তিক পানিক্কের। তাঁর শট ধরতে কোনও অসুবিধা হয়নি শুভজিতের। মহমেডানের প্রথম গোলমুখী শট ম্যাচের ৩৪ মিনিটে। অ্যাসলে কোলির শট সরাসরি জমা হয় একসময় ইস্টবেঙ্গলে খেলা ইন্টার কাশী গোলকিপার শুভম সেনের হাতে।
অবশেষে ম্যাচের ৩৭ মিনিটে এগিয়ে যায় ইন্টার কাশী। লালরিনডিকা ডানদিকে বল পেয়ে আড়াআড়ি পাস বাড়িয়েছিলেন নিকোলা স্টোজানোভিচকে। বাঁ পায়ের জোরালো শটে গোল করেন একসময় মহমেডানে খেলে যাওয়া নিকোলা। মিনিট পাঁচেক পরেই সমতা ফেরানোর সুযোগ এসেছিল এসেছিল মহমেডানের সামনে। তন্ময় ঘোষের ফ্রিকিক ইন্টার কাশী গোলকিপারের হাত থেকে বেরিয়ে আসে। ইসরাফিলরা সেই বল জালে ঢোকাতে পারেননি।
আরও পড়ুনঃ ভারতের আধিপত্যে থাবা, হরমনপ্রীতদের ৮ উইকেটে প্রথমবার এশিয়া কাপ চ্যাম্পিয়ন শ্রীলঙ্কা
দ্বিতীয়ার্ধে একেবারে অচেনা মহমেডান। কিশোর ভারতী স্টেডিয়ামে ফুল ফোটালেন তন্ময় ঘোষ, এডিসন, ইসরাফিলরা। লালথানকিমা, মহীতোষ রায় নামার পর আক্রমণের ঝঁাঝ আরো বাড়ে। একের পর এক আক্রমণ তুলে নিয়ে আসতে থাকে মহমেডান। বেশ কয়েকটা সুযোগও তৈরি হয়। ৫৬ মিনিটে ইসরাফিল দেওয়ানের শট কোনও রকমে পা আটকান ইন্টার কাশী গোলকিপার শুভম সেন। ২ মিনিট পরই তন্ময় ঘোষ দারুণ শটও ঝাঁপিয়ে বাঁচান।
একের পর এক আক্রমম শানিয়ে ৬৬ মিনিটে সমতা ফেরায় মহমেডান। বক্সের বাইরে ফ্রিকিক পেয়েছিল মহমেডান। তন্ময় ঘোষ ফলস দিয়ে সরে যান। ডান পায়ের দুরন্ত ফ্রিকে গোল করেন অ্যাসলে কোলি। সত্যিই দেখার মতো গোল। ৭৩ মিনিটে দলকে জেতানের সুযোগ পেয়েছিলেন ইসরাফিল। তাঁর শট কোনও রকমে বাঁচান শুভম। শেষদিকে আক্রমণের চাপ বজায় রেখেছিল মহমেডান। কিন্তু দুর্ভাগ্য গোলটাই এল না। জয় না পেলেও ইন্টার কাশীর বিরুদ্ধে দ্বিতীয়ার্ধে যে ফুটবল উপহার দিলেন মহমেডানের জুনিয়র ফুটবলাররা, সত্যিই কুর্নিশ করার মতো।