পরপর দু’বছর চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ২ ম্যাচ খেলতে ইরান যায়নি মোহনবাগান সুপার জায়ান্টস। নির্বাসনের কবলে পড়তে হতে পারে মোহনবাগানকে। এমন আশঙ্কা ছিল। সেই আশঙ্কাই শেষ পর্যন্ত সত্যি হয়ে দাঁড়াল। ইরানে খেলতে না যাওয়ায় মোহনবাগান সুপার জায়ান্টকে নির্বাসিত করল এশিয়ান ফুটবল কাউন্সিল। ২০২৭–২৮ মরশুম পর্যন্ত এএফসি–র কোনও প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবে না সবুজ–মেরুন৷ নির্বাসনের পাশাপাশি মোটা অঙ্কের জরিমানাও করা হয়েছে মোহনবাগানের৷
বুধবার এএফসি–র শৃঙ্খলারক্ষা ও এথিক্স কমিটি মোহনবাগানের ইরানে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ–২ এর ম্যাচ খেলতে না যাওয়া নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসেছিল। সেই বৈঠকেই মোহনবাগানকে ২০২৭–২৮ মরশুম পর্যন্ত নির্বাসিত করা হয়। এএফসি–র এথিক্স কমিটি জানিয়েছে, আগামী মরশুমে মোহনবাগান এশিয়ার কোনও প্রতিযোগিতায় খেলার যোগ্যতা অর্জন করলেও অংশ নিতে পারবে না। ২০২৭–২৮ মরশুম পর্যন্ত মোহনবাগানের নির্বাসনের মেয়াদ বলবৎ থাকবে।
নির্বাসনের পাশাপাশি মোহনবাগানের মোটা অঙ্কের জরিমানাও করা হয়েছে। জরিমানার পরিমান ৯০ লক্ষ টাকারও বেশি। এর মধ্যে রয়েছে সেপাহান এপসি–র চাওয়া ক্ষতিপূরণের অর্থও। ৩০ সেপ্টেম্বর ইরানে গিয়ে সেপাহান এফসি–র বিরুদ্ধে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ–২ এর ম্যাচ খেলার কথা ছিল মোহনবাগানের। ইরানে যাওয়ার ব্যাপারে অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকদের ওপর ইরান সরকারের নিষেধাজ্ঞা ছিল। তাই মোহনবাগানের অসি ফুটবলাররা ইরান যেতে অস্বীকার করে। বিদেশি ফুটবলাররা যেতে না চাওয়ায় নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে মোহনবাগানও ইরানে খেলতে যায়নি।
মোহনবাগান খেলতে না যাওয়ায় এএফসি ধরে নেয়, প্রতিযোগিতা থেকে নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছে মোহনবাগান। পরে ২০২৫–২৬ এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ২–তে আর অংশগ্রহণ করতে পারেনি মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। গত মরশুমেও নিরাপত্তাজনিত কারণে মোহনবাগান চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ২–র ম্যাচে ইরানের ট্র্যাক্টর এফসি–র বিরুদ্ধে খেলতে না গিয়ে শাস্তির মুখে পড়ছিল। তবে প্রথম অপরাধ বলেই শুধু সেবার টুর্নামেন্ট থেকে বাতিল করেছিল এএফসি। একই ঘটনার এবার পুনরাবৃত্তি হওয়ায় এবার বড়সড় শাস্তির মুখে পড়ল।
এএফসি জানিয়েছে, মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট আগামী মরশুমের এএফসির কোনও প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবে না। যদি এসিএল টু–তে কোয়ালিফাই করেও ঘরোয়া প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েও। অর্থাৎ ২০২৫–২৬ মরশুমে মোহনবাগান আইএসএল চ্যাম্পিয়ন হলেও ২০২৬–২৭ এএফসি–র টুর্নামেন্টে খেলতে পারবে না। সেক্ষেত্রে একবছরেই শাস্তির মেয়াদ পূর্ণ হবে।
কিন্তু মোহনবাগান যদি ২০২৫–২৬–এ আইএসএল চ্যাম্পিয়ন না হয়, তাহলে তাদের শাস্তির মেয়াদ সঙ্গে সঙ্গে পূর্ণ হবে না। তাদের ওপর নির্বাসনের খাঁড়া ঝুলে থাকবে পরের মরশুমের জন্য। পরের মরশুমে অর্থাৎ ২০২৬•–২৭ মরশুমের সুপার কাপ বা আইএসএল চ্যাম্পিয়ন যদি হয়ও, তাহলেও ২০২৭–২৮ এএফসি–র কোনও টুর্নামেন্টে খেলার ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকবে। আর এই মরশুমে চ্যাম্পিয়ন যদি না হয়, এএফসির টুর্নামেন্টে খেলার জন্য কোয়ালিফাই না করে, তাহলে শাস্তির মেয়াদ সেখানেই সম্পূর্ণ হয়ে যাবে। ২০২৮-২৯ থেকে মোহনবাগানের ওপর আর কোনও শাস্তি বা নিষেধাজ্ঞা থাকবে না।