ট্রেন্ডিং

Pakistan Protest over Khamenei's death

মার্কিন–ইজরায়েল যৌথ হামলায় খামেনির মৃত্যু, বিভিন্ন দেশে বিক্ষোভ, পাকিস্তানে পুলিশের গুলিতে ১২ জন নিহত

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দেশে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। পাকিস্তানে বিক্ষোভের মাত্রা চরমে পৌঁছছে। খামেনির মৃত্যুতে ক্ষুব্ধ জনতা করাচিতে প্রথমে বিশাল বিক্ষোভ শুরু করে এবং মার্কিন দূতাবাসে হামলা চালায়। বিক্ষুব্ধ জনতা মার্কিন দূতাবাস ভাঙচুর করে এবং আগুন লাগিয়ে দেয়। পুলিশের গুলিতে ১২ জন বিক্ষোভকারী নিহত ও ৩০ জন আহত হয়েছেন।

খামেনির হত্যার প্রতিবাদে করাচিতে বিক্ষোভ।

ইনসাইড বাংলা ওয়েব ডেস্ক

শেষ আপডেট: মার্চ ০১, ২০২৬
Share on:

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দেশে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। পাকিস্তানে বিক্ষোভের মাত্রা চরমে পৌঁছছে। খামেনির মৃত্যুতে ক্ষুব্ধ জনতা করাচিতে প্রথমে বিশাল বিক্ষোভ শুরু করে এবং মার্কিন দূতাবাসে হামলা চালায়। বিক্ষুব্ধ জনতা মার্কিন দূতাবাস ভাঙচুর করে এবং আগুন লাগিয়ে দেয়। পুলিশের গুলিতে ১২ জন বিক্ষোভকারী নিহত ও ৩০ জন আহত হয়েছেন।

তেহরানে মার্কিন–ইজরায়েলি হামলায় খামেনি নিহত হওয়ার পরপরই রবিবার পাকিস্তান জুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়। বিশেষ করে শিয়া সম্প্রদায়ের মানুষরা রাস্তায় নেমে আসে। বিভিন্ন জায়গায় সহিংস সংঘর্ষ শুরু হয়। করাচি এবং লাহোরে মার্কিন দূতাবাসের সামনে শত শত বিক্ষোভকারী জড়ো হয়ে ভাঙচুর শুরু করে। দূতাবাসে আগুন ধরিয়ে দেয়। গিলগিট–বালচিস্তানের উত্তরাঞ্চলে স্কার্দুতে বিক্ষোভকারীরা জাতিসংঘের একটা অফিসেও আগুন ধরিয়ে দেয়।

মার্কিন দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভ শুরু হতেই খবর পেয়ে বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে বলপ্রয়োগ করে জনতাকে ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে। পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ওপর লাঠিচার্জ শুরু করে। এরপর জনতা পুলিশের ওপর পাথর ছুঁড়তে শুরু করে। এরপরই পুলিশ গুলি চালায়। পুলিশের গুলিতে ১২ জন বিক্ষোভকারী নিহত এবং ৩০ জনেরও বেশি আহত হন। গোটা এলাকা কড়া নিরাপত্তায় মুড়ে রাখা হয়েছে। করাচিতে উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বিক্ষোভের বেশ কয়েকটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। সেই ভিডিওতে দেখা গেছে বিক্ষোভকারীরা খামেনির ছবি নিয়ে আমেরিকার বিরুদ্ধে স্লোগান দিচ্ছে।

বিক্ষোভকারীরা মার্কিন কনস্যুলেটে হামলা চালানোর পর পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হওয়ার এবং প্রাঙ্গণের বাইরে আগুন লাগানোর পর করাচির রেড জোন এবং কূটনৈতিক ছিটমহল জুড়ে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়। গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও কূটনৈতিক স্থানের দিকে যাওয়ার রাস্তাগুলি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। কিছু এলাকায় পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ওপর কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করেছে।


করাচি ছাড়াও লাহোর, পেশোয়ার এবং অন্যান্য শহরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। খামেনিকে হত্যার জন্য ওয়াশিংটন এবং তেল আবিবের নিন্দা জানিয়ে নামাজ পড়ে এবং স্লোগান দেয়। করাচি এবং লাহোরে মার্কিন দূতাবাসের কনস্যুলেটের কাছে বিক্ষোভের খবর পাওয়া মাত্রই ইসলামাবাদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস কড়া নিরাপত্তার ঘেরাটোপে মুড়ে ফেলা হয়। সেখানে আমেরিকান নাগরিকদের না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। 

এদিকে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ বলেছেন যে, পাকিস্তানের সরকার এবং জনগণ ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির হত্যার ঘটনায় ইরানের পাশে রয়েছে। তিনি খামেনির মৃত্যুর জন্য সমবেদনাও জানিয়েছেন। দেশজুড়ে সহিংস অস্থিরতার পর এক্স–এ এক পোস্টে শেহবাজ শরীফ মার্কিন কনস্যুলেট এবং জাতিসংঘের কার্যালয়ে হামলার ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি এই ঘটনাকে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছেন।

এদিকে, রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা TASS জানিয়েছে, বর্তমান আঞ্চলিক পরিস্থিতির কারণে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফের ৩–৫ মার্চ রাশিয়া সফর স্থগিত করা হয়েছে। এই সফরের ব্যাপারে পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। রাশিয়া, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের প্রতি সীমান্ত আক্রমণ বন্ধ করে আলোচনার মাধ্যমে উত্তেজনা নিরসনের আহ্বান জানিয়েছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির হত্যার পর পাকিস্তানে অস্থিরতাসহ আঞ্চলিক অস্থিরতার মধ্যে এই স্থগিতাদেশ এসেছে।

শনিবার ইজরায়েল এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে সঙ্গে ইরানের তেহরানে আক্রমণ করে। আক্রমণের সময় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনির বাড়ি এবং অফিসেও হামলা চালানো হয়। এই হামলায় খামেনি, তাঁর মেয়ে এবং জামাতাসহ পরিবারের আরও বেশ কয়েকজন সদস্য নিহত হয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার রাতে তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে খামেনির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন। ইরান প্রথমে তা প্রত্যাখ্যান করে। রবিবার ইরান খামেনির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে। যার ফলে ভারত ও পাকিস্তানসহ আরও বেশ কয়েকটি দেশে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ

অন্যান্য খবর

Inside Bangla is a comprehensive digital news platform. This web portal started its humble journey. Its courageous journalism, presentation layout and design quickly won the hearts of people. Our journalists follow the strict Journalism ethics.

Copyright © 2026 Inside Bangla News Portal . All Rights Reserved. Designed by Avquora