ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবে বিপর্যস্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ঝড়ের তীব্রতায় এখনও পর্যন্ত ৩৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। অনেকেই আহত। অসংখ্য মানু্য গৃহহীন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। প্রায় ৬ লক্ষ বাড়ি বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। অসংখ্য ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।
গত সপ্তাহে একটা শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানে। ঝড়ের কারণে দেশের বিস্তীর্ণ অংশে ভারী তুষারপাত এবং তীব্র ঠান্ডা পড়ছে। তুষারপাতের কারণে বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং যাতায়াত ব্যাহত হওয়ার কারণে লক্ষ লক্ষ মানুষ সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে। সোমবার ঝড়ের চূড়ান্ত পর্যায় উত্তর–পূর্বাঞ্চল থেকে পূর্ব দিকে অগ্রসর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উত্তর–পূর্ব রাজ্যগুলিতে আরও তুষার পড়ে। দক্ষিণাঞ্চলে তুষারপাতের ফলে বেশ কয়েকদিন ধরে দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে। গাছপালা এবং বিদ্যুতের লাইন ভেঙে পড়েছে, লক্ষ লক্ষ মানুষ বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঝড়টি আরকানসাস থেকে নিউ ইংল্যান্ড পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে থাকে।
ঝড়ের তীব্রতা এতটাই ছিল যে, দেশের প্রায় ১,৩০০ মাইল বিস্তৃত এলাকা জুড়ে এক ফুটেরও বেশি বরফ জমে যায়। যার ফলে অনেক মহাসড়ক বন্ধ হয়ে গেছে, বিমান বাতিল করা হয়েছে এবং অসংখ্য স্কুল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। জাতীয় আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, পিটসবার্গের উত্তরের এলাকায় ২০ ইঞ্চি পর্যন্ত তুষারপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত বাতাসের তীব্রতা মাইনাস ২৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত নেমে এসেছে।
প্রবল ঝড়ের কারণে বেশ কয়েকটি রাজ্যে মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ম্যাসাচুসেটস এবং ওহিওতে তুষারপাতের কারণে দুজন মারা গেছেন। আরকানসাস এবং টেক্সাসে স্লেডিং দুর্ঘটনায় কিশোর–কিশোরীরা মারা গেছেন। স্নিফার কুকুরের সাহায্যে পুলিশ কানসাসে বরফের মধ্যে থেকে এক মহিলার মৃতদেহ খুঁজে পেয়েছে।
নিউ ইয়র্ক সিটিতে তীব্র ঠান্ডায় ৮ জন মারা গেছেন। নিউ ইয়র্ক সিটিতে বছরের পর বছর ধরে সবচেয়ে বেশি তুষারপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সেন্ট্রাল পার্কে ১১ ইঞ্চি তুষারপাত হয়েছে। তীব্র ঠান্ডার কারণে ঝড়ের পরের অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে। মধ্য-পশ্চিম, দক্ষিণ এবং উত্তর-পূর্বের বেশিরভাগ অংশে তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নিচে নেমে গেছে। কর্তারা জানিয়েছেন যে ঝড়ের কারণে লুইসিয়ানা, পেনসিলভানিয়া, টেনেসি, মিসিসিপি এবং নিউ জার্সিতে বেশ কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে। যদিও নিউ ইংল্যান্ডের কিছু অংশে হালকা থেকে মাঝারি তুষারপাতের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
তুষারপাত পরিস্থিতিকে এতটাই খারাপ করেছে যে, অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাটের খবর পাওয়া গেছে। সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত সারা দেশে ৬,৭০,০০০ এরও বেশি স্থানে বিদ্যুৎ বিভ্রাট ছিল। এই বিভ্রাটের বেশিরভাগই দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্যগুলিতে। যেখানে এক সপ্তাহ ধরে বৃষ্টিপাতের ফলে গাছের ডাল এবং বিদ্যুৎ লাইন ভেঙে গেছে। এর ফলে উত্তর মিসিসিপি এবং টেনেসির কিছু অংশে তীব্র এবং দীর্ঘস্থায়ী বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দেয়। মিসিসিপির কর্তারা জানিয়েছেন, ১৯৯৪ সালের পর থেকে রাজ্যটি সবচেয়ে ভয়াবহ তুষার ঝড়ের সম্মুখীন হয়েছে। জরুরি পরিষেবা দলগুলি দ্রুত উষ্ণায়ন কেন্দ্র স্থাপন করে এবং কম্বল, জল এবং জেনারেটর বিতরণ করে। অক্সফোর্ডের মিসিসিপি বিশ্ববিদ্যালয় পুরো সপ্তাহের জন্য স্কুল বন্ধ করে দিয়েছে।
তু্যার ঝড়ের কারড়ে বিমান চলাচলও মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হয়েছে। সোমবার দেশজুড়ে ৮,০০০–এরও বেশি ফ্লাইট বিলম্বিত বা বাতিল করা হয়েছে। বিমান সংস্থা সিরিয়াম জানিয়েছে যে, রবিবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় অর্ধেক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে, যা কোভিড ১৯ মহামারী শুরু হওয়ার পর থেকে একদিনে সর্বোচ্চ সংখ্যা।