দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিচারের মুখোমুখি করার জন্য প্রত্যার্পন চেয়ে ভারত সরকারের কাছে বারবার চাপ দিয়েছিল বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার। দিল্লি সেই আবেদনে কর্ণপাত করেনি। সাধারণ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়ে এবার একই দাবি তুললেন বিএনপি–র শীর্ষনেতা, স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেছেন, তাঁর দল আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিচারের জন্য বাংলাদেশে প্রত্যর্পণের জন্য ভারতের কাছে অনুরোধ করবে।
ঢাকার গুলশানে বিএনপি–র দলীয় কার্যালয়ে বসে তিনি বলেন, ‘আমরা আইন অনুসারে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের জন্য ভারতের ওপর চাপ দেব। এটা বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে একটা বিষয়। আমরা ভারত সরকারকে তাঁকে বিচারের মুখোমুখি করার জন্য ফেরত পাঠানোর জন্য অনুরোধ করব। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইতিমধ্যেই হাসিনার প্রত্যর্পণের পক্ষে যুক্তি দিয়েছেন এবং আমরাও এটাকে সমর্থন করি।’
২০২৪ সালের আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর দেশ ছেড়ে পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নেন শেখ হাসিনা। সেই থেকেই ভারত সরকারের আশ্রয়ে দিল্লিতে তিনি নির্বাসিত জীবনযাপন করছেন। বিদ্রোহ দমনের সঙ্গে সম্পর্কিত মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য ২০২৫ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশ সরকারের বিশেষ ট্রাইব্যুনাল হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। সহিংসতার তদন্তের কারণে আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়।
নির্বাচনের অন্তর্ভুক্তিমূলকতার সমালোচনাকেও উড়িয়ে দিয়েছেন সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘দেশের মানুষ জানে যে এটা অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন। আওয়ামী লীগকে নির্বাচন থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। আসলে ২০২৪ সালের আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করেছিল।’ মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নির্বাচন থেকে আওয়ামী লীগকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, যা ২০২৫ সালে বিদ্রোহের সময় দলের আচরণের তদন্তের মধ্য দিয়ে এর কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে। আহমেদ বলেন, ‘আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। এটি প্রক্রিয়াধীন।’
ভারতসহ সব প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায় বাংলাদেশ। এমনই জানিয়েছেন বিএনপি–র এই শীর্ষ নেতা। তবে সেই সম্পর্ক হবে সমতার ভিত্তিতে। সালাহউদ্দিন বলেন, ‘আমরা পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং সমতার ভিত্তিতে ভারতসহ সকল দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চাই।’ তিনি জুলাইয়ের জাতীয় সনদের কথাও উল্লেখ করে বলেন যে, এটি ইতিমধ্যেই স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং এটি অংশীদারদের মধ্যে একটা রাজনৈতিক সমঝোতার প্রতিনিধিত্ব করে। তাঁর কথায়, ‘জাতীয় সনদ রাজনৈতিক চুক্তির একটা দলিল এবং এটা অক্ষরে অক্ষরে অনুসরণ করা হবে।’