গত বছরের পরপর দুটি ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত হতে হয়েছিল। আবার ভয়ঙ্কর প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সম্মুখীন আফগানিস্তান। গত কয়েকদিনে আফগানিস্তানের বিভিন্ন স্থানে আকস্মিক বন্যা ও তুষারপাতের ফলে ১৭ জন মারা গেছেন। আহত হয়েছেন ১১ জন। আগামী কয়েকদিনে দেশের বেশ কয়েকটি প্রদেশে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি আরও বাড়তে পারে।
আফগানিস্তানের এই ভয়ঙ্কর প্রাকৃতিক দুর্যোগে কেবলমাত্র প্রাণহানির ঘটনাই ঘটেনি, গোটা দেশজুড়ে প্রচুর সম্পত্তি নষ্ট হয়েছে, ধ্বংস হয়েছে বাড়ি–ঘর। দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের মুখপাত্র মোহাম্মদ ইউসুফ হামাদ স্থানীয় টোলো নিউজকে জানিয়েছেন যে, দুর্যোগে মোট ২৭৪টি বাড়ি ধ্বংস হয়েছে এবং ১৫৫০টিরও বেশি বাড়ি আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রচুর সম্পত্তি বন্যার জলে ডুবে গেছে।
জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয় অফিস সম্প্রতি ভূমিকম্প, বজ্রপাত, ভূমিধস, মৌসুমী বন্যা, তুষারপাত এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের জন্য আফগানিস্তানের ঝুঁকির কথা উল্লেখ করেছে। সংস্থাটি জোর দিয়ে বলেছে যে, বারবার ভূমিকম্প আফগানদের জীবনকে আরও কঠিন করে তুলেছে। আফগানিস্তানের বর্তমান সংকট দেশটিতে বৃহত্তর পরিসরে অব্যবস্থাপনা এবং অবকাঠামোগত অস্থিতিশীলতার ছবি তুলে ধরে। দেশটির অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে, সাম্প্রতিক বন্যা কেবল প্রাণহানিই করবে না, বরং মানুষের ওপর অর্থনৈতিক চাপও সৃষ্টি করবে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষক কুতুবুদ্দিন ইয়াকুবি উল্লেখ করেছেন যে, কার্যকর পরিকল্পনা এবং অবকাঠামোগত সহায়তার অভাব আফগানিস্তানের জনগণের পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করে তুলেছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের পাশাপাশি, পাকিস্তান ও ইরান থেকে আফগান আশ্রয়প্রার্থীদের ব্যাপকভাবে নির্বাসনের কারণে দেশটির মানবিক সংকটও তীব্রতর হয়েছে বলে জানিয়েছে নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিল। সংস্থাটি আরও উল্লেখ করেছে যে, উত্তর ও পূর্ব অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী খরা পরিস্থিতি এবং ভূমিকম্পও মানুষের জন্য কঠিন করে তুলেছে।