দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে পিরলেন খালেদা জিয়া পুত্র তথা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান৷ বৃহস্পতিবার সকালে লন্ডন থেকে ঢাকায় পৌঁছন তিনি। দীর্ঘদিন পর তিনি দেশে ফিরে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। সোশাল মিডিয়া পোস্টে তিনি লেখেন, ‘অবশেষে সিলেটে, প্রিয় দেশের মাটিতে।’ দেশে ফিরেই সমস্যাগ্রস্ত জাতির জনগণকে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার জন্য একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন তারেক রহমান। ১৭ বছর পর ঢাকায় অবতরণের কয়েক ঘন্টা পর দলের সমর্থকদের উদ্দেশ্যে প্রথম ভাষণে রহমান এই আহ্বান জানান।
বাংলাদেশের স্থানীয় সময় বেলা ১১টা ৩৯ মিনিটে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্ত্রী জুবাইদা রহমান ও মেয়ে জাইমা রহমান। তারেক রহমান ও তাঁর পরিবারকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরে হাজির ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, মির্জা আব্বাস প্রমুখ।
বিমানবন্দরে নেমেই বাংলাদেশর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুসের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন তারেক রহমান। এরপর বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে পূর্বাচলে ৩০০ ফুটে গণসংবর্ধনাস্থলে যান। পূর্বাচলের জুলাই ৩৬ এক্সপ্রেসওয়েতে তারেককে গণসংবর্ধনা দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই সেখানে ভিড় জমাতে শুরু করেছিলেন বিএনপি নেতা, কর্মী এবং সমর্থকেরা। তারেকের ছবি সংবলিত পোস্টার, ব্যানারে ঢেকে দেওয়া হয় গোটা এলাকা। বিএনপি প্রতীক সংবলিত টুপি পরে, হাতে দলীয় পতাকা নিয়ে ভিড় জমান সমর্থকেরা।
বিকেল ৩.৫০ মিনিট নাগাদ তারেক রহমান মঞ্চে ওঠেন। মঞ্চে তারেক রহমানকে স্বাগত জানান বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাঁর সঙ্গে বিএনপির নেতারা ছিলেন। মঞ্চে উঠে নেতা–কর্মীদের উদ্দেশে হাত নাড়েন তারেক রহমান। এরপর বক্তৃতা শুরু করেন।
তারেক রহমান বলেন, ‘৭১ সালে দেশের মানুষ যেমন স্বাধীনতা অর্জন করেছিল, ২০২৪ সালে তেমন সর্বস্তরের মানুষ, সবাই মিলে এ দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে রক্ষা করেছিল। আজ বাংলাদেশের মানুষ কথা বলার অধিকার ফিরে পেতে চায়। তারা তাদের গণতন্ত্রের অধিকার ফিরে পেতে চায়। আমাদের সময় এসেছে সকলে মিলে দেশ গড়ার। এ দেশে পাহাড়ের, সমতলের, মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সবাই আছে। আমরা নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই। যে বাংলাদেশে একজন নারী, পুরুষ, শিশু যেই হোক না কেন নিরাপদে ঘর থেকে বের হলে, যেন নিরাপদে ফিরতে পারে।’
শহীদ ওসমান হাদিকে স্মরণ করে তারেক রহমান বলেন, ‘ওসমান হাদি চেয়েছিলেন এদেশের মানুষ অর্থনৈতিক অধিকার ফিরে পাক। ১৯৭১ এ যারা শহীদ হয়েছে, ২০২৪ এ যারা শহীদ হয়েছে তাদের রক্তের ঋণ শোধ করতে হলে প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।’ তাঁর আশা, তরুণ প্রজন্মই আগামীতে দেশ গড়ে তুলবে। গণতান্ত্রিক, শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তির ওপর দেশকে গড়ে তোলার ওপর জোর দেন তিনি। তারেক আরও বলেন, ‘আমরা যে রাজনৈতিক দলেরই হই না কেন, যে ধর্মেই বিশ্বাস করি না কেন, আমরা নির্দলীয় ব্যক্তি যাই হই না কেন, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য সকলকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’
মার্কিন নাগরিক অধিকার কর্মী মার্টিন লুথার কিংয়ের একটা উক্তি উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘আমার দেশের জনগণের জন্য এবং দেশের জন্য একটা পরিকল্পনা আছে। এই পরিকল্পনাটি জনগণের স্বার্থে, দেশের উন্নয়নের জন্য, দেশের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের জন্য, দেশের সকল মানুষের সমর্থন প্রয়োজন। যদি আপনারা আমাদের পাশে থাকেন, আমার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হব।’
দেশে ফিরেই নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার কথা তারেক রহমানের মুখে। তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে পাহাড় ও সমতলের মানুষ আছে, মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ এবং খ্রিস্টান। আমরা একটা নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে জাতি, ধর্ম এবং বিশ্বাস নির্বিশেষে মানুষ শান্তিপূর্ণ পরিবেশে বসবাস করতে পারবে। যেখানে প্রতিটি নারী, পুরুষ এবং শিশু নিরাপদে বাড়ি ছেড়ে নিরাপদে ফিরে আসতে পারবে।’