নিজের ঢাক পেটানোর ব্যাপারে গোটা বিশ্বে ডোনাল্ড ট্রাম্পের জুড়ি মেলা ভার। আবারও নিজের ঢাক পেটালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেওয়ার সময় ডোনাল্ড ট্রাম্প ১০ মাসে সফলভাবে ৮টি যুদ্ধ শেষ করার কৃতিত্ব দাবি করেছেন। আর এই যুদ্ধ শেষ করার পেছনে ‘শুল্ক আরোপ’–কে কৃতিত্ব দিয়েছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, তাঁর জনপ্রিয়তা হ্রাস এবং আকাশছোঁয়া মুদ্রাস্ফীতি সত্ত্বেও শুল্ক আমেরিকান অর্থনীতিকে চাঙ্গা করছে। পাশাপাশি, বড়দিনের আগে মার্কিন সেনাদের বিশেষ নগদ অর্থ প্রদানের কথা ঘোষণা করেছেন ট্রাম্প। এই অর্থকে সশস্ত্র বাহিনীর সেবা এবং ত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘যোদ্ধা লভ্যাংশ’ বলে অভিহিত করেছেন।
জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি আমেরিকান শক্তি পুনরুদ্ধার করেছি। ১০ মাসে ৮টি যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটিয়েছি। ইরানের পারমাণবিক হুমকি ধ্বংস করেছি এবং গাজায় যুদ্ধের অবসান ঘটিয়েছি। ৩ হাজার বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো ফিলিস্তিনে শান্তি এনেছি এবং দেশে জীবিত এবং মৃত উভয় ধরণের জিম্মিদের মুক্তি নিশ্চিত করেছি। জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া এই ভাষণে ট্রাম্প তিনি তাঁর প্রশাসনের ২০২৬ সালের এজেন্ডা তুলে ধরেছিলেন।
তাঁর বাণিজ্য নীতির কারণে মূল্যবৃদ্ধি আকাশচুম্বী হওয়া সত্ত্বেও মার্কিন রাষ্ট্রপতি মুদ্রাস্ফীতি এড়িয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন এবং জোর দিয়ে বলেন যে, কানাডা, মেক্সিকো, ব্রাজিলের পাশাপাশি ভারতসহ অন্যান্য দেশের ওপর তিনি যে শুল্ক জরিমানা আরোপ করেছেন, তা মার্কিন অর্থনীতিকে সাহায্য করেছে। ট্রাম্প বলেন, ‘শুল্ক আরোপর পর আমরা যা ভেবেছিলাম, তার থেকে অনেক বেশি অর্থ উপার্জন করেছি। এই বিলটি আমাদের এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছে।’
আরও পড়ুনঃ নির্জন কারাগারে বন্দী, খেতে দেওয়া হচ্ছে নোংরা জল, হেপাটাইটিসে আক্রান্ত ইমরান? মৃত্যুর আশঙ্কা দুই ছেলের
জো বাইডেন এবং প্রাক্তন ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসের আমলে ট্রাম্প উচ্চ মুদ্রাস্ফীতির ওপর ভর করে দ্বিতীয় মেয়াদে রাষ্ট্রপতি পদে জয়লাভ করেছিলেন। তবে, মনে হচ্ছে আমেরিকানদের তিনি এখন বোঝানোর চেষ্টা করছেন যে, দেশের অর্থনীতি আসলেই সমৃদ্ধ হচ্ছে। মঙ্গলবার এক নতুন সমীক্ষায় দেখা গেছে যে মাত্র ৩৩ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিক ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিচালিত অর্থনীতিকে সমর্থন করেছেন।
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আমেরিকান সেনাদের জন্য একটা বিশেষ নগদ অর্থ প্রদানের কথা ঘোষণা করেছেন। এই অর্থ প্রদানকে সশস্ত্র বাহিনীর সেবা এবং ত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘যোদ্ধা লভ্যাংশ’ বলে অভিহিত করেছেন। দেশের প্রতিষ্ঠা বছরের সঙ্গে এই অর্থ প্রদানের সংযোগ স্থাপন করে ট্রাম্প বলেন, বড়দিনের আগে ১৪ লক্ষ ৫০ হাজারেরও বেশি সামরিক কর্মীর প্রত্যেকে ১৭৭৬ ডলার করে পাবেন। এই অর্থ তাদের সেবা এবং ত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ।
জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেওয়ার সময় ট্রাম্প বলেন, ‘আমি গর্বের সঙ্গে ঘোষণা করছি যে, ১৭৭৬ সালে আমাদের জাতির প্রতিষ্ঠার সম্মানে সাড়ে ১৪ লক্ষেরও বেশি সামরিক বাহিনীর সদস্য ক্রিসমাসের আগে একটা বিশেষ অর্থ প্রদান করছি। সামরিক বাহিনীর সদস্যরা যোদ্ধা লভ্যাংশ পাবেন। আমরা প্রতিটি সৈনিককে ১৭৭৬ ডলার করে দিচ্ছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘চেক ইতিমধ্যেই আসার পথে। শুল্কের কারণে আমরা প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি অর্থ উপার্জন করেছি এবং বিলটি আমাদের সাহায্য করেছে। আমাদের সেনাবাহিনীর চেয়ে এর বেশি আর কেউ প্রাপ্য নয়। এবং আমি সকলকে অভিনন্দন জানাই।’