দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে ইরানের ড্রোন হামলা। ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড জ্বালানি ট্যাঙ্কে। যদিও এখনো পর্যন্ত কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে বিমান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। এয়ার ইন্ডিয়া দুবাইগামী সমস্ত ফ্লাইট বাতিল করার কথা ঘোষণা করেছে।
দুবাই কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, দুবাই শহরের কেন্দ্রস্থলের কাছে অবস্থিত বিশ্বের ব্যস্ততম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে জ্বালানি ট্যাঙ্কের ওপর একটা ড্রোন এসে আঘাত হানে। সঙ্গে সঙ্গে ওই জ্বালানি ট্যাঙ্কে বিস্ফোরণ ঘটে এবং আগুন লেগে যায়। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে বেসামরিক প্রতিরক্ষা দল ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে এই ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা গেছে যে, অনেক দূর থেকে বিশাল অগ্নিশিখা দেখা যাচ্ছে।
দুবাই মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, ‘দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পাশে ড্রোন হামলায় একটা জ্বালানি ট্যাঙ্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুবাই সিভিল ডিফেন্স দল বর্তমানে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য কাজ করছে। এখনও পর্যন্ত কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।’ এই অগ্নিকাণ্ডে দুবাই বিমানবন্দরের কার্যক্রম প্রভাবিত হওয়ায় এয়ার ইন্ডিয়া দুবাই থেকে আসা এবং যাওয়া সব ফ্লাইট আজ বাতিল করেছে। এছাড়াও আবুধাবি, রাস আল খাইমাহ এবং শারজা থেকে তাদের অ্যাডহক ফ্লাইট কার্যক্রম ঘোষণা অনুযায়ী অব্যাহত থাকবে।
আরও পড়ুনঃ ওড়িশার সরকারি হাসপাতালে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে জীবন্ত দগ্ধ হয়ে মৃত ১০ জন চিকিৎসাধীন রোগী, আহত অনেকেই
বিমানবন্দরের কাছে হামলার কয়েক ঘন্টা পর শহরের কিছু অংশে বিমান প্রতিরক্ষা সতর্কতা জারি করা হয়। সংযুক্ত আরব আমিরাশাহি কর্তৃপক্ষ ঘোষণা করেছে যে, তাদের সিস্টেমগুলি ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোনগুলিকে প্রতিহত করছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ‘ইরান থেকে আগত ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হুমকির জবাবে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বর্তমানে কাজ করছে। এমওডি দাবি করেছে যে শব্দগুলি শোনা যাচ্ছে, তা হল বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোনগুলিকে বাধা দেওয়ার ফলে সৃষ্ট।’
সংযুক্ত আরব আমিরশাহির তিনটি প্রধান বন্দর খালি করার কথা ঘোষণা করার একদিন পরই এই হামলা চালানো হল। এই প্রথমবারের মতো তেহরান কোনও প্রতিবেশী দেশের অ–মার্কিন সম্পদের ওপর হামলা চালাল। ইরান অভিযোগ করেছে যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র খার্গ দ্বীপে সাম্প্রতিক হামলা চালানোর জন্য সংযুক্ত আরব আমিরশাহির বন্দর, ডক এবং গোপন আস্তানা ব্যবহার করেছে। আয়াতুল্লাহ খামেনির মৃত্যুর পর থেকে উপসাগরীয় আরব দেশগুলিতে মার্কিন কূটনৈতিক মিশন, সামরিক ঘাঁটি এবং তেল সুবিধা, বন্দর, বিমানবন্দর, হোটেল এবং আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবনের মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোসহ বিস্তৃত স্থানে ২,০০০ টিরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলার মুখোমুখি হয়েছে।