দুদিন আগেই গুজব উঠেছিল জেলের মধ্যেই মারা গেছেন পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। খবরটা ছড়িয়ে পড়তেই আদিয়ালা কারাগারের সামনে বিক্ষোভ দেখান তেহরিক–ই–ইনসাফ পার্টির সদস্যরা। পরে পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ইমরান জীবিত রয়েছেন। ইমরান খানের ছোট ছেলে কাসিম খান সরকারের বিরুদ্ধে মারাত্মক অভিযোগ করেছেন। বাবার বেঁচে থাকার প্রমাণ চাইলেন। তিনি জানিয়েছেন, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীকে গোপনে নির্জন কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে। সেখানে পরিবারের লোকজনকে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। এমনকি ইমরান যে জীবিত রয়েছেন, তার প্রমাণ দিতেও অস্বীকার করা হয়েছে।
কাশিম খান এই ঘটনাকে অমানবিক, রাজনৈতিকভাবে পরিচালিত বিচ্ছিন্নতা বলে অভিহিত করেছেন। সরকারের এই কার্যকলাপ বন্ধ করার জন্য আন্তর্জাতিক চাপের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সরকারের বিরুদ্ধে তাঁর বাবাকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে রাখার এবং পরিবারের সকলের প্রবেশাধিকার বন্ধ করার অভিযোগ করেছেন। এক্স–এ এক পোস্টে কাসিম খান কঠোর ভাষায় লিখেছেন যে, পরিবারের কাছে ইমরানের জীবনের কোনও প্রমাণ নেই এবং সতর্ক করে দিয়েছেন যে, তাঁর বাবার নিরাপত্তার জন্য সরকার দায়ী থাকবে।
কাসিম দেশের বাইরে থাকেন এবং ফ্রন্টলাইন রাজনীতি থেকে অনেকটাই দূরে। তিনি বলেছেন, ‘আমার বারা ৮৪৫ দিন ধরে গ্রেফতার এবং সম্প্রতি ৬ সপ্তাহ ধরে তাঁকে শূন্য স্বচ্ছতাসহ একটা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নির্জন কারাগারে বন্দী করে রাখা হয়েছে। আদালতের আদেশ সত্ত্বেও মৌলিক অধিকারও অস্বীকার করা হয়েছে। বাবার বোনদের সাক্ষাৎ করতে দেওয়া হচ্ছে না। কোনও ফোন কল, কোনও সাক্ষাৎ এবং জীবনের কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। আমার এবং আমার ভাইয়ের বাবার সঙ্গেও কোনও যোগাযোগ হয়নি।’
তথ্য গোপন রাখার এই ঘটনাকে ইচ্ছাকৃত বলে অভিহিত করে কাসিম খান পাকিস্তান সরকারকে অভিযুক্ত করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘এই সম্পূর্ণ গোপনীয়তা বজয়া রাখার ঘটনা কোনও নিরাপত্তা প্রোটোকল নয়। এটা তাঁর অবস্থা গোপন করার এবং তিনি নিরাপদে আছেন কিনা, তা আমাদের পরিবারকে জানতে বাধা দেওয়ার একটা ইচ্ছাকৃত প্রচেষ্টা।’ তিনি সসরকারকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ‘আমার বাবার নিরাপত্তার জন্য এবং এই অমানবিক বিচ্ছিন্নতার প্রতিটি পরিণতির জন্য পাকিস্তান সরকার এবং এর পরিচালকদের, আইনত, নৈতিকভাবে এবং আন্তর্জাতিকভাবে জবাবদিহি করতে হবে।’
কাসিম আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে তাঁর বাবার বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি আন্তর্জাতিক মহলের কাছে আবেদন জানিয়ে বলেছেন, ‘আমি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার সংস্থা এবং প্রতিটি গণতান্ত্রিক কণ্ঠকে জরুরি ভিত্তিতে হস্তক্ষেপ করার আহ্বান জানাচ্ছি। জীবনের প্রমাণ দাবি করুন, আদালতের আদেশ কার্যকর করুন, এই অমানবিক বিচ্ছিন্নতার অবসান ঘটান এবং পাকিস্তানের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক নেতার মুক্তির আহ্বান জানান, যাকে কেবল রাজনৈতিক কারণে আটকে রাখা হয়েছে।’
ইমরানের দুই ছেলে কাসিম এবং সুলাইমান তা–দের মা জেমিমা গোল্ডস্মিথের সঙ্গে ইংল্যান্ডে বেড়ে উঠেছেন এবং পাকিস্তানের রাজনীতি নিয়ে প্রকাশ্যে খুব কমই মন্তব্য করেন। পাকিস্তান সরকার এক মাসেরও বেশি সময় ধরে ইমরান খানের পারিবারিক সাক্ষাতের ওপর অঘোষিত নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। সরকারের ইমরানের জীবিত থাকার কথা বললেও পিটিআই একটা আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এবং তাৎক্ষণিকভাবে পরিবারের প্রবেশাধিকার দাবি করেছে।