দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ও তেহরিখ–ই–ইনসাফ (পিটিআই) পার্টির নেতা ইমরান খানকে ঘিরে আবার উত্তপ্ত হয়ে উঠল পাকিস্তান। বুধবার হাজার হাজার ইমরান সমর্খক পাকিস্তানের অ্যাটক ব্রিজ দখল করে। পাঞ্জাব ও খাইবার পাখতুনখোয়ার সংযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ পথ অবরোধ করে। ফলে খাইবার পাখতুনখোয়া দেশের বাকি অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ইসলামাবাদে সংসদের কাছে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে পিটিআই সমর্থকরা। অন্যদিকে, ইমরানের বোনরা দাবি করেছেন যে, দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান মহসিন নাকভি তাঁদের হুমকি দিচ্ছেন।
সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃক নিযুক্ত একজন আইনজীবী একসপ্তাহ আগে জানিয়েছেন যে, ২০২৩ সাল থেকে কারাগারে বন্দী ইমরান খান অন্ধ হয়ে যাচ্ছেন। সাত পাতার এক প্রতিবেদনে আইনজীবী উল্লেখ করেছেন, ৭৩ বছর বয়সী পাকিস্তানের এই প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর ডান চোখে ৮৫% দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন। প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর থেকে উত্তেজনা তুঙ্গে ওঠে। বুধবার হাজার হাজার ইমরান সমর্থক এবং পিটিআই কর্মীরা অ্যাটক ব্রিজ দখল করে নেয়। যার ফলে খাইবার পাখতুনখোয়া দেশের বাকি অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়, শত শত যানবাহন ঘণ্টার পর ঘণ্টা দীর্ঘ লাইনে আটকে থাকে। একইসঙ্গে বিরোধী জোট তেহরিক–ই–তাহাফুজ–ই–আইন পাকিস্তান, রাজধানীর পার্লামেন্ট এবং খাইবার পাখতুনখোয়া হাউসের কাছে বিক্ষোভ দেখায়। বিক্ষোভের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে একটা মূল দাবি, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসার জন্য ইমরানকে ইসলামাবাদের শিফা আন্তর্জাতিক হাসপাতালে স্থানান্তর করা।
এদিকে, ইমরানের দুই বোন উজমা খান এবং আলিমা খান পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির এবং মহসিন নাকভির বিরুদ্ধে ইমরানকে হত্যার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলেছেন। পাশাপাশি তাঁদের হুমকি দেওয়ার কথাও বলেছেন। সাংবাদিক সম্মেলনে উজমা বলেন, ‘মহসিন নাকভি আমাদের হুমকি দিচ্ছে। ওরা রক্তের স্বাদ পেয়েছে। যদি ইমরান খান বা আমাদের কিছু হয়, মনে রাখবেন, আমরা কারও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকেও রেহাই দেব না।’ সপ্তাহের শুরুতে, ইমরানের আরেক বোন নওরীন নিয়াজিও ইমরানের স্বাস্থ্যের অবনতির জন্য আসিফ মুনিরকে দায়ী করেছিলেন।
তবে সোমবার সরকার কর্তৃক নিযুক্ত এক মেডিকেল বোর্ড জানিয়েছে যে, ইমরানের দৃষ্টিশক্তির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। আল জাজিরার এক প্রতিবেদন অনুসারে, দুই চিকিৎসকের একজন ইমরানের ব্যক্তিগত চিকিৎসক আসিম ইউসুফের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। পিটিআইয়ের সাধারণ সম্পাদক সলমান আকরাম রাজা বলেছেন, ‘কারাগারে ইমরানের সঙ্গে দেখা করা দুই চিকিৎসক জানিয়েছেন, ইমরান কয়েক সপ্তাহ ধরে দেওয়ালে রাখা ঘড়িটি দেখতে পাচ্ছিলেন না। এখন ঘড়ির কাঁটাও দেখতে পাচ্ছেন।’
এদিকে, বুধবার ইমরান খানের তোশাখানা মামলার শুনানি শুরু হয়েছে। তাঁর আইনজীবীর মতে, সুপ্রিম কোর্ট যদি তোশাখানা মামলার রায় বাতিল করে, তাহলে ইমরান খান মুক্তি পাবেন। তিনি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করারও যোগ্য হবেন। এই বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট নির্বাচন কমিশনকে নোটিশ জারি করেছে। অন্যদিককে, ইসলামাবাদের একটা আদালত ইমরান খানের বিরুদ্ধে পাঁচটি মামলার শুনানি চলাকালীন তাঁর অন্তর্বর্তীকালীন জামিনের মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই মামলাগুলির মধ্যে প্রাক্তন মন্ত্রী মহসিন শাহনওয়াজ রাঞ্জার বিরুদ্ধে হত্যার চেষ্টা মামলাও ছিল।
ইমরান খানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভকারী বিরোধী সাংসদরা তাঁদের বিক্ষোভ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এসেছে যখন পাকিস্তানের রাজনৈতিক মহলে সেনাবাহিনী এবং ইমরান খানের মধ্যে মধ্যস্থতার আলোচনা চলছে। মধ্যস্থতাকারীদের মধ্যে রয়েছেন পিটিআইয়ের আলী আমিন গন্ডারপুর এবং সরকারের পক্ষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি। বিরোধী সাংসদদের মতে, ইমরান খানকে শীঘ্রই শিফা ইন্টারন্যাশনালে স্থানান্তরিত করা হতে পারে।