উপমহাদেশে আবার বেজে উঠল যুদ্ধের দামামা। সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ল পাকিস্তান ও আফগানিস্তান। কয়েকদিন আগে আফগানিস্তানের ওপর বিমান হামলা চালায় পাকিস্তান। আফগানিস্তানের প্রতিশোধমূলক হামলার পর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। বিমান হামলার জবাবে তালিবানরা পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আক্রমণ শুরু করেছে। কুনার প্রদেশে ইসলামিক আমিরাত বাহিনীর অভিযানে প্রায় ৫৫ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছে। ১৯টি পাকিস্তানি ঘাঁটি দখল করেছে আফগানরা। অন্যদিকে, আফগান হামলার কয়েক ঘন্টা পর পাকিস্তান কাবুল, কান্দাহার এবং পাকতিয়া এলাকায় বিমান হামলা চালিয়েছে। পাকিস্তানের দাবি, এই হামলায় ১৩৩ জন আফগান সেনা নিহত হয়েছেন।
আফগান জাতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় প্রতিশোধমূলক অভিযানের বিষয়ে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ১৪৪৭ সালের ৯ রমজানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বৃহস্পতিবার রাত ৮টায় অভিযান শুরু হয়েছিল। আফগান ভূখণ্ড লঙ্ঘন করে পাকিস্তান অনেক নারী ও শিশুকে হত্যা করেছিল। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘কয়েকদিন আগে, পাকিস্তানি সামরিক গোষ্ঠীগুলি সীমান্ত লঙ্ঘন করে আফগান ভূখণ্ডে প্রবেশ করে এবং এখানে নারী ও শিশুদের হত্যা করেছে।’
এই হামলার প্রতিশোধ হিসেবে বৃহস্পতিবার রাতে আফগান বাহিনী পাকতিকা, পাকতিয়া, খোস্ত, নাঙ্গারহার, কুনার এবং নুরিস্তান প্রদেশের কাছে ডুরান্ড লাইনের পূর্ব ও দক্ষিণ–পূর্ব সেক্টরে পাল্টা আক্রমণ চালায়। আফগান মন্ত্রণালয়ের দাবি, চার ঘন্টার এই অভিযানে ২ পাকিস্তানি সামরিক ঘাঁটি এবং ১৯টি পোস্ট দখল করা হয়েছে। পাকিস্তান সৈন্যরা আরও ৪ পোস্ট থেকে পালিয়ে গেছে। ৫৫ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘ডুরান্ড লাইন বরাবর ইই প্রতিশোধমূলক অভিযানে মোট ৫৫ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছে। বেশ কয়েকজন সেনাকে আটক করা হয়েছে। কয়েক ডজন হালকা ও ভারী অস্ত্র, গোলাবারুদ এবং সামরিক জিনিসপত্র নিজেদের হেফজতে নিয়েছে আফগান সেনা। একটা পাকিস্তানি ট্যাঙ্কও ধ্বংস করা হয়েছে।’
যুদ্ধে নিজেদের সেনার নিহত হওয়ার কথাও জানিয়েছে আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘দুই পক্ষের সংঘর্ষে ৮ জন তালিবান যোদ্ধা নিহত এবং ১১ জন আহত হয়েছে।’ মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে যে, নাঙ্গারহারের একটা শরণার্থী শিবিরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নারী ও শিশুসহ ১৩ জন আফগান বেসামরিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন।
পাকিস্তান অবশ্য আফগানদের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার জানিয়েছেন, এই অভিযানে কমপক্ষে ১৩৩ জন আফগান তালিবান যোদ্ধা নিহত এবং ২০০ জনেরও বেশি আহত হয়েছে। তিনি বলেন, ‘কাবুল, পাকতিয়া এবং কান্দাহারে আফগান তালিবান প্রতিরক্ষা লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করা হয়েছে। আরও হতাহতের আশঙ্কা করা হচ্ছে। কমপক্ষে ২৭টি তালেবান চৌকি ধ্বংস করা হয়েছে। ৯টি চৌকি দখল করা হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, হামলায় দুটি কর্পস সদর দপ্তর, তিনটি ব্রিগেড সদর দপ্তর, দুটি গোলাবারুদ ডিপো, একটি লজিস্টিক বেস, তিনটি ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তর, দুটি সেক্টর সদর দপ্তর এবং ৮০ টিরও বেশি ট্যাঙ্ক, আর্টিলারি বন্দুক এবং সাঁজোয়া যান ধ্বংস করা হয়েছে।
২,৬১১ কিলোমিটার দীর্ঘ ডুরান্ড লাইন, যে সীমান্ত আফগানিস্তান আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়নি, দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনাপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কয়েক মাস ধরেই এই ডুরান্ড লাইন নিয়ে উত্তেজনা চরমে রয়েছে। অক্টোবরে মারাত্মক সংঘর্ষে সৈন্য, বেসামরিক লোক এবং সন্দেহভাজন জঙ্গি নিহত হয়। কাতারের মধ্যস্থতায় দুই দেশের যুদ্ধবিরতি হয়। যদিও বিক্ষিপ্তভাবে গুলি বিনিময় অব্যাহত থাকে।