ইউরোপীয় সীমান্তে হামাসের আদলে সুড়ঙ্গ খনন করছে রাশিয়া। রাশিয়ার লক্ষ্য হল, এই সুড়ঙ্গগুলির মাধ্যমে ইউরোপে ভাড়াটে সৈন্য অনুপ্রবেশ করানো। এখনও পর্যন্ত পোল্যান্ডের সীমান্তের কাছে চারটি সুড়ঙ্গ আবিষ্কৃত হয়েছে। এই সুড়ঙ্গগুলি ব্যবহার করে রাশিয়া তার ভাড়াটে সৈন্যদের ইউরোপে পাঠাতে চায়। এই ভাড়াটে সৈন্যদের অধিকাংশই পাকিস্তান এবং আফগানিস্তানের। সুড়ঙ্গ খননের জন্য হামাস সহযোগীদের সাহায্য নিয়েছে রাশিয়া।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন তাঁর বাহিনীকে ইউরোপে অনুপ্রবেশ করানোর জন্য হামাসদের ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গ মডেল ব্যবহার করছেন। বেলারুশ এবং পোল্যান্ডের মাধ্যমে এই উদ্যোগ শুরু হয়েছে। ‘দ্য টেলিগ্রাফ ইউকে’ জানিয়েছে, রাশিয়ান সেনারা বেলারুশের কাছে সুড়ঙ্গ খনন করছে। রাশিয়ার লক্ষ্য হল বেলারুশের মধ্য দিয়ে তাদের ভাড়াটে সৈন্যদের প্রথমে পোল্যান্ড এবং তারপর ইউরোপে পাঠানো। ভাড়াটে সৈন্যদের ইউরোপে পাঠানোর আগে রাশিয়ায় কঠোর প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। রাশিয়া এখনও এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও মন্তব্য করেনি।
পোলিশ কর্তারা ‘দ্য টেলিগ্রাফ ইউকে’–কে জানিয়েছেন, রাশিয়া বেলারুশে সুড়ঙ্গ খননের জন্য হামাসের সহযোগীদের ব্যবহার করছে। রাশিয়া ভূগর্ভে একটা বড় ধরণের অভিযান চালানোর চেষ্টা করছে। হামাসরা গাজায় দীর্ঘদিন ধরে ইজরায়েলি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার জন্য সুড়ঙ্গ ব্যবহার করে আসছে। সেই মডেলই গ্রহন করেছে রাশিয়া। ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে রাশিয়ার জন্য ইউরোপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
খবর অনুসারে, এই সুড়ঙ্গটি নারওয়েকার কাছে নির্মিত হচ্ছে। সুড়ঙ্গটি ১.৫ মিটার ব্যাসের, যার ফলে একজন ব্যক্তি সহজেই বাঁক নিতে এবং এর মধ্য দিয়ে যেতে পারবেন। সুড়ঙ্গটি তৈরিতে কাদামাটি, লোহা এবং কংক্রিট ব্যবহার করা হয়েছে। পোলিশ পুলিশ জানিয়েছে যে, তারা বেলারুশ সীমান্তবর্তী এলাকায় এখন পর্যন্ত চারটি সুড়ঙ্গ আবিষ্কার করেছে। এগুলো বন্ধ করার প্রস্তুতি চলছে।
‘দ্য সান’ জানিয়েছে, রাশিয়া ইউরোপকে হুমকি দেওয়ার জন্য একটা পরিকল্পনা তৈরি করেছে। ইউরোপীয় দেশগুলি ইউক্রেনীয় সীমান্তে পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েন করবে কিনা, তা বিবেচনা করছে। যদি ইউরোপীয় দেশগুলি ইউক্রেনীয় সীমান্তে পারমানবিক অস্ত্র মোতায়েন করে, তাহলে রাশিয়ার কাছে এটা হবে একটা বড় আঘাত। যদি মার্কিন নেতৃত্বে ইউক্রেনের সঙ্গে আলোচনা ফলপ্রসূ না হয়, তাহলে রাশিয়া আক্রমণ আরও তীব্র করবে।