এক সপ্তাহের মধ্যে রাশিয়ায় আবার গ্যাস দুর্ঘটনা। গ্যাস দুর্ঘটনার ফলে অগ্নিকাণ্ডে ১৫ জন শ্রমিক নিহত হয়েছেন। নিহত শ্রমিকদের মধ্যে ১৪ জন বিদেশি। দেশের পূর্বাঞ্চলের আমুর গ্যাস রাসায়নিক কমপ্লেক্সে এই দুর্ঘটনার ঘটনাটি ঘটে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করা ভিডিওতে দেখা গেছে, দুর্ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে শ্রমিকরা কারখানা ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছেন।
আমুর গ্যাস কেমিক্যাল কমপ্লেক্স এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, নিহত সকলেই কারখানার কর্মচারী ছিলেন। নিহতদের মধ্যে একজন রুশ নাগরিক এবং ১৪ জন বিদেশি রয়েছেন। এই গ্যাস কমপ্লেক্সটি চীনের সীমান্তের কাছে রাশিয়ার আমুর অঞ্চলে অবস্থিত। এটা চীনের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তেল ও গ্যাস সংস্থা সিনোপেক এবং রাশিয়ার পেট্রোকেমিক্যাল কোম্পানি সিবুরের যৌথ উদ্যোগ।
রাশিয়ার তদন্ত কমিটি অগ্নিকাণ্ডের কারণ এবং নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের সম্ভাব্য ঘটনা তদন্ত করছে। তদন্তকারীরা কোনও নাশকতা বা অসৎ উদ্দেশ্যের চিহ্ন খুঁজে পায়নি। সিবুর জানিয়েছে, কোম্পানিটি রাশিয়ার জরুরি অবস্থা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে জরুরি উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে।
গ্যাস কোম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগুনে অক্ষত থাকা স্থাপনাগুলিতে নির্মাণ ও সংস্থাপনের কাজ স্বাভাবিকভাবে চলতে থাকবে। বায়ুর গুণমান ক্রমাগত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বর্তমানে ক্ষতিকর পদার্থের নির্গমন সর্বোচ্চ অনুমোদিত মাত্রা অতিক্রম করছে না। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে যে, এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা একটা সহায়ক প্রক্রিয়াকরণ এলাকায় শুরু হয়েছিল। কমপ্লেক্সটির প্রধান সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি।
স্থানীয় চীনা দূতাবাস দুর্ঘটনাস্থলে একটা দল পাঠিয়েছে। আমুর গ্যাস কেমিক্যাল কমপ্লেক্সটি এখনও নির্মাণাধীন এবং ২০২৭ সালের প্রথম দিকে এর কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা ছিল। এই গ্যাস কমপ্লেক্সটি পলিইথিলিন এবং পলিপ্রোপিলিন উৎপাদনের জন্য বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। যার এই দুটি পলিমার উৎপাদনের মোট বার্ষিক ক্ষমতা ২.৭ মিলিয়ন টন।