ইরান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে। জেনেভায় আলোচনার পরও দুই দেশ এখনও কোনও চুক্তিতে পৌঁছতে পারেনি। যদিও বৈঠকের মধ্যস্থতাকারী ওমান জানিয়েছে যে, আলোচনা অনেকটাই অগ্রগতি হয়েছে। তবে কূটনীতির বাইরেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর আক্রমণের প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি করছে। স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা গেছে যে, গত বেশ কয়েকদিন ধরে সৌদি আরবের নিজেদের এক সামরিক ঘাঁটিতে জ্বালানি তেলবাহী ট্যাঙ্কারসহ সামরিক বিমানের সংখ্যা বৃদ্ধি করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
সৌদি আরব মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের মিত্র। কিন্তু ফেব্রুয়ারির শুরুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান আক্রমণের হুমকির পর পরিস্থিতি কিছুটা বদলে যায়। ইরানের ওপর আক্রমণের জন্য সৌদি আরব তার আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানায়। সম্প্রতি এক উপগ্রহ ছবিতে দেখা গেছে সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটিতে কমপক্ষে ৪৩ বিমান রয়েছে। ১৭ ফেব্রুয়ারি তোলা একটি ছবিতে ২৭টি বিমান ছিল। এই ছবি ইঙ্গিত দেয় যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সৌদি বিমান ঘাঁটি, সেইসঙ্গে ইজরায়েল এবং আরব সাগর থেকে আক্রমণের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।
কনটেস্টেড গ্রাউন্ডের ফরেনসিক চিত্র বিশ্লেষক উইলিয়াম গুডহিন্ড সংবাদসংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ‘২১ ফেব্রুয়ারির ছবিতে ১৩টি বোয়িং কেসি–১৩৫ স্ট্র্যাটোট্যাঙ্কার এবং ৬টি বোয়িং ই–৩ সেন্ট্রি বিমান, যা AWACS নামে পরিচিত, ঘাঁটিতে অবস্থানরত মোট ২৯টি বন আকারের সুইপ-উইং বিমান দেখানো হয়েছে।’ রয়টার্সের গণনা অনুযায়ী, ১৭ ফেব্রুয়ারির এক মাঝারি–রেজোলিউশনের ছবিতে ১১টি বন সুইপ–উইং বিমান দেখানো হয়েছে। তবে পেন্টাগন এই ব্যাপারে কোনও মন্তব্য করেনি। সৌদি সরকারের মিডিয়া অফিসও সংবাদ সংস্থার প্রশ্নের জবাবে কোনও মন্তব্য করেনি।
এদিকে, ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতাকারী ওমান জানিয়েছে যে, বৃহস্পতিবার উভয় পক্ষের আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে। যদিও সম্ভাব্য মার্কিন হামলা এড়াতে পারে এমন কোনও অগ্রগতির লক্ষণ দেখা যায়নি। ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সঈদ বদর আল–বুসাইদি বৃহস্পতিবার বলেছেন যে, উভয় পক্ষ তাদের রাজধানীতে পরামর্শের পর শীঘ্রই আলোচনা পুনরায় শুরু করার পরিকল্পনা করছে এবং আগামী সপ্তাহে ভিয়েনায় কারিগরি আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ১৯ ফেব্রুয়ারি বলেছিলেন যে, ইরানকে ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে একটা চুক্তিতে পৌঁছতে হবে এবং সতর্ক করে দিয়েছিলেন যে অন্যথায়, ‘খুব খারাপ ঘটনা ঘটবে।’ ফেব্রুয়ারির শুরুতে তোলা এবং জানুয়ারিতে তোলা চিত্রের তুলনায়, সমগ্র অঞ্চলে বিমান এবং অন্যান্য সামরিক সরঞ্জামের মজুদ থাকার বিষয়টিও প্রকাশ পেয়েছে। ট্রাম্পের সময়সীমা ঘনিয়ে আসছে, এবং সমস্ত লক্ষণ ইরানের ওপর সম্ভাব্য বড় আক্রমণের দিকে ইঙ্গিত করছে।