৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে দু–দুবার ভয়াবহ ভূমিকম্প। আর তাতেই বিধ্বস্ত ভেনেজুয়েলা। ভয়াবহ ভূমিকম্পে ১০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হওয়ার আশঙ্কা। গত ১২৬ বছরের মধ্যে দেশে এটাই সবচেয়ে বড় ভূমিকম্প। ত্রাণ ও উদ্ধার অভিযান চলছে। ইউএসজিএসের তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় ঝাঁকুনিটির উৎপত্তিস্থল ছিল ইউমারে থেকে ২৩ কিলোমিটার দক্ষিণ–পূর্ব এবং ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে। মার্কিন সংস্থাটি জানিয়েছে, বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানী ও এর আশপাশের অঞ্চলে পরপর আঘাত হানা এই দুই ভূমিকম্পের কারণে ভেনেজুয়েলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি এবং বিপুলসংখ্যক মানুষের হতাহতের আশঙ্কা রয়েছে।
বুধবার সন্ধ্যায় দক্ষিণ আমেরিকার ভেনিজুয়েলায় দুটি বড় ভূমিকম্প আঘাত হানে। যার ফলে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ঘটে। দুটি কম্পনের মধ্যে মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধান ছিল। প্রথম ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৭.২ এবং এর কেন্দ্রস্থল ছিল রাজধানী কারাকাস থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে কারাবোবো রাজ্যে। এর মাত্র কয়েক সেকেন্ড পরেই কারাকাস থেকে প্রায় ২৯৩ কিলোমিটার পশ্চিমে ইউমারের কাছে ৭.৫ মাত্রার আরও শক্তিশালী একটি দ্বিতীয় কম্পন আঘাত হানে। ইউএসজিএসের তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় ঝাঁকুনিটির উৎপত্তিস্থল ছিল ইউমারে থেকে ২৩ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্ব এবং ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে।
ইউএস জিওলজিক্যাল সার্ভে (ইউএসজিএস) অনুসারে, গত ১২৬ বছরে ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা এটাই সবচেয়ে বড় ভূমিকম্প। এর আগের সবচেয়ে বড় ভূমিকম্পটি ছিল ১৯০০ সালের ৭.৭ মাত্রার একটা ভূমিকম্প। ইউএসজিএস সতর্ক করেছে যে, এই ভূমিকম্পে ব্যাপক প্রাণহানি হতে পারে। সংস্থাটি জানিয়েছে ইতিমধ্যেই ১০০০০–এর বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর সংখ্যা লক্ষাধিক ছাড়াতে পারে। সুনামির সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
রাজধানী কারাকাসে শক্তিশালী ভূমিকম্পের কারণে অসংখ্য বাড়ি, অফিস ভবন ভেঙে পড়েছে। পেট্রোল সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে এবং বহু মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়েছেন। বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষের সাহায্যের জন্য আবেদন জানানোর খবর পাওয়া গেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিওসদাদো ক্যাবেলো রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেছেন যে, বহু বাড়ি ও ভবন ধসে পড়েছে। উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমের জন্য দ্রুত দমকল বাহিনী, পুলিশ এবং দুর্যোগ ত্রাণ দল মোতায়েন করা হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ ভিনিসিয়াসের পায়ে সাম্বার ঝলক, মাঠে ফিরলেন নেইমার, স্কটল্যান্ডকে উড়িয়ে গ্রুপ শীর্ষে থেকে নক আউটে ব্রাজিল
সন্ধের সময় উদ্ধারকারীদের ধসে পড়া ভবনগুলির ধ্বংসস্তূপের মধ্যে থেকে মানুষদের উদ্ধার করতে দেখা যায়। নিখোঁজ আত্মীয়দের খোঁজে বহু পরিবার ঘটনাস্থলে ছুটে আসে। কারাকাসের পূর্বে অবস্থিত উপশহর চাকাও–তেও অসংখ্য ভবন ধসে পড়েছে। স্থানীয় মেয়র গুস্তাভো দুকে বলেছেন, অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন এবং বেশ কয়েকজন নিহত হয়েছেন। যদিও মৃতের সঠিক সংখ্যা এখনও প্রকাশ করা হয়নি। হাসপাতালগুলিকেও সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। আগামী সোমবার পর্যন্ত অনেক শহরে স্কুল ও জনসমাগম বাতিল করা হয়েছে।
ভূমিকম্পের পর পুয়ের্তো রিকো, মার্কিন ও ব্রিটিশ ভার্জিন দ্বীপপুঞ্জে সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। আরুবা, কুরাকাও এবং বোনায়ারও সুনামি হুমকির মুখে ছিল। কিন্তু প্রায় এক ঘণ্টা পরে এই সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে মাত্র ২ ঘণ্টার মধ্যে দুটি বড় ভূমিকম্প হতে পারে, যা সাধারণত প্রতি ১০০০ থেকে ১২০০ বছরে একবারই ঘটে থাকে। ভেনিজুয়েলার একই স্থানে প্রায় সমান শক্তির দুটি বড় ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এটা ব্যতিক্রম। একই সঙ্গে জাপানে ৬.৯ মাত্রার একটা শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে, এত অল্প সময়ের মধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন অংশে এত বড় ভূমিকম্প হওয়া অত্যন্ত অস্বাভাবিক ও বিরল। ভেনেজুয়েলা এমন একটি অঞ্চলে অবস্থিত যেখানে ক্যারিবিয়ান এবং দক্ষিণ আমেরিকান টেকটোনিক প্লেট মিলিত হয়েছে, যা এটিকে ভূমিকম্পপ্রবণ করে তুলেছে। ১৯৬৭ সালে কারাকাসে ৬.৬ মাত্রার একটি ভূমিকম্পে ২০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছিল, অন্যদিকে ১৮১২ সালের বিধ্বংসী ভূমিকম্পে প্রায় ৩০,০০০ মানুষের প্রাণহানি ঘটে। এই সাম্প্রতিক ভূমিকম্পটিকে ভেনিজুয়েলার আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম বড় বিপর্যয় হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।