বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের সাজা ঘোষণা করেছে সে দেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল। হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের তীব্র সমালোচনা করেছেন বাংলাদেশের নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, মুহাম্মদ ইউনূসকে অপরাধী হিসেবে বিবেচনা না করে শেখ হাসিনাকে কেন অপরাধী সাজানো হয়েছে? তসলিমার আরও প্রশ্ন, ছাত্র বিদ্রোহের পর কেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস এবং তাঁর সহযোগীরা হাসিনার মতো একই রকম তদন্তের মুখোমুখি হননি।
সোমবার এক যুগান্তকারী রায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত শেখ হাসিনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। হাসিনার বিরুদ্ধে ৫টি অভিযোগ নিয়ে আসা হয়েছিল। যার মধ্যে গত বছরের ছাত্র বিদ্রোহের সময় একাধিক ব্যক্তিকে হত্যা করাও অন্তর্ভুক্ত ছিল। হাসিনার শাস্তি নিয়ে সরব হয়েছেন তসলিমা নাসরিন। সোমবার গভীর রাতে এক্স–এ এক পোস্টে ১৯৯৪ সাল থেকে ভারতে নির্বাসিত তসলিমা নাসরিন মুহাম্মদ ইউনূসের শাসনব্যবস্থার সমালোচনা করে প্রশ্ন তোলেন যে, বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালানোর নির্দেশ দেওয়া সন্ত্রাসীদের কেন বিচারের আওতায় আনা হচ্ছে না।
এক্স–এ তসলিমা নাসরিন লিখেছেন, ‘যেসব কর্মকাণ্ডের জন্য মুহাম্মদ ইউনূস এবং তাঁর জিহাদি বাহিনী হাসিনাকে দোষী বলে ঘোষণা করেছে, ইউনূস এবং তাঁর জিহাদি বাহিনী যখন একই কর্মকাণ্ড করে, তখন তারা সেগুলোকে ন্যায্য বলে ঘোষণা করে। হাসিনার মৃত্যুদণ্ড বাংলাদেশে ন্যায়বিচারের নামে প্রহসন। এই প্রহসন কবে শেষ হবে তা জানি না।’ তিনি আরও লিখেছেন, ‘যখন কেউ নাশকতামূলক কাজ করে এবং বর্তমান সরকার তাদের গুলি করার নির্দেশ দেয়, তখন সরকার নিজেকে অপরাধী বলে দাবি করে না। তাহলে গত জুলাইয়ে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকাদের গুলি করার নির্দেশ দেওয়ার জন্য হাসিনাকে কেন অপরাধী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে?’
আরও পড়ুনঃ দিল্লি বিস্ফোরণ মামলায় আল–ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সদর দফতরে ইডি–র হানা, চেয়ারম্যান জাভেদ সিদ্দিকিকে জেরা
‘লজ্জা’ উপন্যাসের জন্য ১৯৯৪ সালে তসলিমা নাসরিনকে বাংলাদেশ ছেড়ে যেতে বাধ্য করে মৌলবাদীরা। মৌলবাদীদের কাছ থেকে মৃত্যুর হুমকি পেয়েছিলেন লেখিকা। তাঁর ‘লজ্জা’ উপন্যাস বাংলাদেশে নিষিদ্ধ হলেও অন্যান্য জায়গায় বেস্টসেলার হয়ে ওঠে। দেশ থেকে নির্বাসিত হওয়ার পর থেকেই তসলিমা ভারতে বসবাস করছেন। মুহাম্মদ ইউনূস অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তাঁর শাসনব্যবস্থার সমালোচনা করে আসছেন তসলিমা। হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতিকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তসলিমা ইউনূসের নোবেল শান্তি পুরস্কার কেড়ে নেওয়া ও তাঁকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়ার দাবিও তুলেছেন। ছাত্র–জনতা আন্দোলনের ফলে ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটলে হাসিনা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার তিন দিন পর, ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট ইউনূস অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।