নিজেকে ক্রমশ বিচক্ষণ নেতা হিসেবে তৈরি করেছেন আইএসএফ চেয়ারম্যান তথা বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী। বিধানসভায় যে কোনও ইস্যুতে বরাবরই সরব। তৃণমূল সরকারের নানা দুর্নীতি ও অনিয়ম তুলে ধরেছেন। সাধারণ মানুষের বিভিন্ন দাবি–দাওয়া নিয়ে বিধানসভায় সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। এবার নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধেও সরব এই আইএসএফ নেতা। রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার আগেই নির্বাচন কমিশন ভোট ঘোষণা করায় কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন নওশাদ সিদ্দিকী।
সোমবার কলকাতা হাইকোর্টে তিনি রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার অথবা বাতিল করার জন্য আবেদন জানিয়েছেন নওশাদ সিদ্দিকী। আবেদনে তিনি উল্লেখ করেছেন, এখনও ৪৫ লক্ষেরও বেশি নামের এডজুডিকেশনের কাজ বাকি। এই অবস্থায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত করা উচিত নয়। নওশাদের অভিযোগ, এডজুডিকেশন পর্যায়ে বিভিন্ন কেন্দ্রে বেছে বেছে মুসলিম ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি আদালতের কাছে তিনি আর্জি জানিয়েছেন, ভোটার তালিকায় প্রতিদিন যাদের নাম যুক্ত হচ্ছে কিংবা যাদের নাম বাদ যাচ্ছে, নির্বাচন কমিশন সেই তালিকা প্রকাশ করুক।
সোমবার কলকাতা হাইকোর্টে এসে নওশাদ বলেন, ‘প্রায় ৬০ লক্ষ মানুষ এখনও এডজুডিকেশনের পর্যায়ে রয়েছেন। তাসত্ত্বেও ভোট দিনক্ষণ ঘোষণা করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। আদৌও ভোট দিতে পারবেন কিনা, তা নিয়ে সাধারণ মানুষ আতঙ্কে রয়েছেন। এসআইআর প্রক্রিয়া নিস্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ভোট স্থগিত রাখার কিংবা বাতিল করার জন্য আদালতের কাছে আবেদন জানিয়েছি। পাশাপাশি, প্রতিদিন যেসব ভোটারদের নাম তালিকায় যুক্ত হচ্ছে এবং যাদের নাম বাদ যাচ্ছে, সেই তালিকা প্রকাশ করার আবেদন জানিয়েছি।’
বিভিন্ন বিধানসভায় বেছে বেছে যে মুসলিম ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে, সেই প্রসঙ্গও তুলে ধরেন নওশাদ। তিনি বলেন, ‘সুজাপুর কেন্দ্রে মাত্র ১ শতাংশ আনম্যাপড হয়েছে। কিন্তু এডজুডিকেশনের পর্যায়ে রয়েছে প্রায় ৪৯ শতাংশ। ভগবানগোলা কেন্দ্রে আনম্যাপড হয়েছে মাত্র ৩ শতাংশ। এখানে এডজুডিকেশন পর্যায়ে রয়েছে প্রায় ৪০ শতাংশ। এই দুটি কেন্দ্রের অধিকাংশ ভোটার মুসলিম। ভারতীয় সংবিধানে সব নাগরিকের ভোটদানের অধিকার রয়েছে। সেখানে একটা অংশের মানুষ যদি ভোটদান থেকে বঞ্চিত হয়, তাহলে কীভাবে গনতন্ত্রের উৎসব সম্পন্ন হবে?’
এসআইআর নিয়ে বিতর্কের মাঝেই রবিবার রাজ্যে ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা করেছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার৷ রাজ্যে এবার দু’দফায় ভোট হচ্ছে৷ উত্তরবঙ্গ ও পশ্চিমাঞ্চলের কিছু জেলা মিলিয়ে প্রথম দফায় ২৩ এপ্রিল ১৫২ আসনে ভোটগ্রহন করা হবে। কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, পূর্ব বর্ধমান, দুই পরগনা, নদিয়াসহ দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলির ১৪২ আসনে দ্বিতীয় দফায় ২৯ এপ্রিল ১৪২ কেন্দ্রে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে৷ লক্ষাধিক ভোটারের নাম বিচারাধীন থাকা সত্ত্বেও কীভাবে ভোট হবে, তা নিয়ে কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে তৃণমূল, সিপিএম, আইএসএফ, কংগ্রেসসহ সব বিরোধী দল৷