রাজ্যে শান্তি ফিরিয়ে নিয়ে আসার ব্যাপারে রবিবার দিল্লিতে দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করলেন মণিপুর বিধানসভার বিজেপি–র বিধায়করা। বৈঠকে ৩০ জনেরও বেশি বিধায়ক উপস্থিত ছিলেন। যাদের মধ্যে কুকি মেইতেই সম্প্রদায়ের বিধায়করাও ছিলেন। ২০২৩ সালের মে মাসের পর প্রথমবারের মতো একই ছাদের নীচে মিলিত হলেন কুকি ও মেইতেই সম্প্রদায়ের বিধায়করা। এই বৈঠকে শান্তির অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সরকার গঠনের বিষয়টি নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
বিজেপি–র পক্ষ থেকে এক্স–এ এক পোস্টে বলা হয়েছে, ‘রবিবার দিল্লিতে বিজেপি সদর দফতরে বিজেপি–র জাতীয় সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) শ্রী বিএল সন্তোষ এবং উত্তর–পূর্বাঞ্চলের সমন্বয়কারী শ্রী সম্বিত স্বরাজজি–র উপস্থিতিতে বিজেপি মণিপুর আইনসভা দলের সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই বৈঠকে মণিপুরের শান্তি ও অগ্রগতির বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।’ দলীয় সূত্র জানিয়েছে, বিজেপি নেতারা রাজ্যে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব একটা সরকার গঠনের বিষয়েও আলোচনা করেছেন। উন্নয়ন প্রকল্পগুলিকে গতিশীল করার জন্য কেন্দ্র থেকে আর্থিক সহায়তা আনার বিষয়টিও বৈঠকে আলোচনা করা হয়েছে।
বৈঠকের পর বিজেপির জাতীয় সাধারণ সম্পাদক বিএল সন্তোষ এক্স–এ এক পোস্টে বলেছেন যে, বৈঠক ফলপ্রসূ হয়েছে এবং মণিপুরের শান্তি ও উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি লিখেছেন,‘আজ বিজেপি মণিপুর আইনসভা দলের সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই বৈঠক অত্যন্ত ফলপ্রসূ ছিল, যেখানে রাজ্যের শান্তি ও উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করা হয়েছিল। সকলেই রাজ্যে স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনার জন্য এবং উন্নয়নমূলক কাজ পুরোদমে এগিয়ে নেওয়ার জন্য কঠোর প্রচেষ্টা করার সংকল্পবদ্ধ হয়েছেন।’
২০২৩ সালের মে মাস থেকে মেইতেই এবং কুকিদের মধ্যে জাতিগত সহিংসতায় ২৬০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত এবং হাজার হাজার মানুষ গৃহহীন হয়েছেন। অনেকেই এখনও রাজধানী ইম্ফলের ত্রাণ শিবিরে রয়েছেন। কদিন আগেই কুকি সম্প্রদায়ের এক বিধায়ক ত্রাণ শিবির পরিদর্শন করেন। তাঁর কাছে উপযুক্ত নিরাপত্তা সহকারে নিজেদের বাসস্থানে ফেরানোর দাবি জানান বাস্তুচ্যুতরা।
এন বীরেন সিং মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগ করার চার দিন পর, ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে সংঘাত বিধ্বস্ত মণিপুরে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি রয়েছে। রাষ্ট্রপতি শাসন জারির পর ৬০ সদস্যের রাজ্য বিধানসভা স্থগিত রাখা হয়েছে, যার মেয়াদ ২০২৭ সাল পর্যন্ত। বিজেপির দুই সিনিয়র কেন্দ্রীয় নেতা জাতীয় সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) বিএল সন্তোষ এবং দলের উত্তর–পূর্ব সমন্বয়কারী সম্বিত পাত্র গত মাসে তিন দিনের জন্য মণিপুর সফর করেছিলেন এবং রাজ্য দলের নেতা এবং বিধায়কদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছিলেন। এই বৈঠক মণিপুরে সম্ভাব্য নতুন সরকার গঠনের বিষয়ে জল্পনাকে আরও উস্কে দিয়েছিল।
অক্টোবরে বীরেন সিংসহ ২৬ জন বিজেপি বিধায়ক দিল্লিতে সন্তোষ এবং সম্বিত পাত্রর সঙ্গে দেখা করেছিলেন এবং মণিপুরে একটা জনপ্রিয় সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য আহ্বান জানিয়েছিলেন। ঐক্যবদ্ধ দল হিসেবে শাসনব্যবস্থা পুনরায় শুরু করার প্রস্তুতি প্রকাশ করেছিলেন। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বীরেন সিং সম্প্রতি বলেছেন যে, মণিপুরের সমস্ত বিজেপি বিধায়ক রাজ্যে একটা জনপ্রিয় সরকার গঠনের প্রচেষ্টায় ঐক্যবদ্ধ রয়েছেন। তিনি বলেন যে, সরকার গঠনের প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে।
রবিবারের বৈঠকটি মেইতেই এবং কুকি সম্প্রদায়ের বিজেপি বিধায়কদের মধ্যে সম্পর্কের বরফ ভাঙার মতো কাজ করেছে। এর আগে, কুকি সম্প্রদায়ের ৭ জন বিজেপি বিধায়ক পৃথক প্রশাসনের দাবি তুলেছিলেন। তবে, বিধায়কদের একত্রিত হওয়া ইঙ্গিত দেয় যে, তারা রাজ্যের সকল সম্প্রদায়ের কল্যাণের দাবি তুলেছেন। মণিপুরের থাডু উপজাতির নেতা মাইকেল থাডু বলেছেন, ‘মণিপুরের কুকি•মেইতেই দ্বন্দ্ব দিল্লিতে আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়েছে। কুকি, জোমি, হামার এবং মেইতেই বিধায়করা একত্রিত হয়েছেন। এটা একটা পুনর্মিলন এবং পুনর্নবীকরণ সহযোগিতার সূচনা করে। অভিনন্দন।’