জমজমাট বাজারের মধ্যে ফাস্টফুডের দোকান। বিক্রি হয় এগরোল, চাউমিনের দোকান৷ দোকানে কাস্টমারদের ভিড় লেগেই থাকে। যুবক–যুবতীদের আনাগোনা। সকলেই ভাবেন, যুবক–যুবতীরা হয়তো খেতে এসেছেন। কিন্তু ওরা যে অন্য ‘কাস্টমার’ তা আর কে জানত? সর্ষের মধ্যে ভূত! এগরোল, চাউমিন বিক্রির আড়ালে ফাস্টফুড দোকানে কীনা চলত মধুচক্রের আসর! হ্যাঁ, এমনই অভিযোগ উঠে এসেছে। বাজারের ভেতর দোকানে মধুচক্রের পর্দা ফাঁস করেছেন নদীয়ার বেতাই বাজারের ব্যবসায়ীরা৷
নদীয়ার তেহট্ট মহকুমার বেতাই বাজারে পায়েল ফাস্টফুড সেন্টার নামে একটা দোকান আছে। দোকানে মোটামুটি ভিড় লেগেই থাকত। কিছুদিন ধরে যুবক–যুবতীদের যাতায়াত অনেকটাই বেড়ে যায়। সময়–অসময়ে দোকানে ভিড় করতে থাকেন যুবক–যুবতীরা। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মনে সন্দেহ জাগে। তারা ওই ফাস্টফুড দোকানের ওপর নজরদারি শুরু করেন৷ নজরদারিতে চোখে পড়ে, যুবক–যুবতীরা দোকানের মালিকের হাতে টাকা দিয়ে ভেতরের গোপন একটা ঘরে ঢুকে যাচ্ছেন। এমনই অভিযোগ স্থানীয় ব্যাবসায়ীদের।
শুক্রবার সকালে একজোড়া যুবক–যুবতী দোকানের ভেতরে প্রবেশ করে। তাঁরা দোকানে প্রবেশ করার কিছুক্ষণ পরপরই স্থানীয় ব্যবসায়ীরা নাকি ওই ফাস্টফুড সেন্টারে হানা দেন৷ ব্যাবসায়ীদের দাবি, গোপন কক্ষে ঢুকে দেখেন, ওই যুবক–যুবতী বিবস্ত্র অবস্থায় রয়েছেন৷ এরপর তাঁদের আটকে রেখে পুলিশে খবর দেওয়া হয়৷ পুলিশ এসে যুবক–যুবতীকে আটক করে থানায় নিয়ে। অন্যান্য ব্যবসায়ীরা ফাস্টফুড সেন্টারে হানা দেওয়ার সময় দোকানের মালিক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
কৃষ্ণনগর জেলা পুলিশে সুপার কে অমরনাথ সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ‘স্থানীয় সূত্রে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে দু’জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে৷ দোকানের মালিক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেছে। তার খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ।’ স্থানীয় এক ব্যবসায়ী জানান, ‘প্রায়ই দেখতাম দোকানে ছেলে–মেয়েরা আসত৷ তারপর দোকানের ভেতরে ঢুকে যেত৷ আধঘণ্টা থেকে ৪৫ মিনিট পর দোকানের ভেতর থেকে বেরিয়ে আসত। সন্দেহ হওয়ায় বেশ কিছুদিন ধরে নজরদারি চলছিল। এদিন হাতেনাতে ধরা পড়েছে।’ দোকানের মালিক নাকি যুবক–যুবতীদের কাছ থেকে ৫০০ থেকে ৮০০ নিতেন। এমনি অভিযোগ উঠে আসছে।