গতমাসে জলসীমা লঙ্ঘন করার অপরাধে দুদিনে বাংলাদেশের ৫৫ জন মৎসজীবীকে আটক করেছিল ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনী। ১৫ দিন কাটতে না কাটতেই আবার বাংলাদেশি ট্রলারের বিরুদ্ধে ভারতের জলসীমা লঙ্ঘন করার অভিযোগ। অনুপ্রবেশের অভিযোগে ট্রলারসহ ১৫ জন মৎস্যজীবীকে আটক করেছে ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনী। আটকের পর তাঁদের পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পুলিশ ওই বাংলাদেশি মৎসজীবীদের গ্রেফতার করেছে।
সোমবার ভোরে ফ্রেজারগঞ্জের কাছে বঙ্গোপসাগরে টহল দিচ্ছিল ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনী। সেই সময় একটা সন্দেহভাজন ট্রলার চোখে পড়ে। এরপরি স্পিডবোড নিয়ে ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনী ওই ট্রলারটিকে ধাওয়া করে। কিছুক্ষণ ধাওয়া করার পর ট্রলারটিকে ধরে ফেলে। ট্রলারের মৎস্যজীবীদের জিজ্ঞাসাবাদ করে উপকূলবাহিনীর জওয়ানরা জানতে পারে, তাঁরা বাংলাদেশের মৎসজীবী। এরপরই ট্রলারসহ ১৫ জন মৎসজীবীকে আটক করে ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনী।
আটক করা এফবি আল্লা মালিক নামে বাংলাদেশি ওই ট্রলারটিকে ফ্রেজারগঞ্জ বন্দরে নিয়ে আসে উপকূলরক্ষী বাহিনী। এরপর মৎস্যজীবীদের ফ্রেজারগঞ্জ উপকূল থানার পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। বাংলাদেশের মৎসজীবীদের গ্রেফতার করে ফ্রেজারগঞ্জ উপকূল থানার পুলিশ। তাঁদের বিরুদ্ধে অনুপ্রবেশের মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেফতার হওয়া মৎসজীবীদের কাকদ্বীপ মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ ২০০৯ সালে হাসিনার নির্দেশেই বিডিআরের বিদ্রোহ, ইন্ধন ছিল ভারতের, ইউনূস সরকারের তদন্ত কমিশনের রিপোর্ট
এর আগে ১৬ ও ১৭ নভেম্বর পরপর দুদিন ভারতীয় জলসীমা লঙ্ঘন করার অভিযোগে দুটি বাংলাদেশের ট্রলার আটক করেছিল ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনী। দু’দিনে মোট ৫৫ জন মৎস্যজীবীকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তাদের কাকদ্বীপ মহকুমার আদালতে পেশ করে ফ্রেজারগঞ্জ উপকূল থানার পুলিশ। কেন বারবার বাংলাদেশের মৎসজীবীরা ভারতীয় জলসীমায় ঢুকে পড়ছে, এই নিয়ে সুন্দরবন মৎস্যজীবী শ্রমিক ইউনিয়নের সম্পাদক সতীনাথ পাত্র বলেন, ‘শীতের মরশুমে ভারতের জলসীমায় একটা বিশেষ ধরনের মাছ পাওয়া যায়। বাংলাদেশে সেই মাছের ব্যাপক চাহিদা। সেই মাছের লোভেই বারবার বাংলাদেশি ট্রলার ভারতের জলসীমা লঙ্ঘন করে ঢুকে পড়ছে।’
ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক খারাপ হওয়ায় জলসীমায় নজরদারি বাড়িয়েছে ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনী। আগে মৎসজীবী গ্রেফতার হলে জেলাশাসক এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের সঙ্গে কথাবার্তা বলার পর বাংলাদেশি মৎস্যজীবীদের পুনরায় সেদেশে ফিরিয়ে দেওয়া হত। অন্যদিকে, ভারতের যে সকল মৎস্যজীবী বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের কাছে আটক হত তাঁদেরকেও বাংলাদেশ ভারতে ফিরিয়ে দিত। কিন্তু বর্তমানে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক ভালো না হওয়ায় দুই দেশেই বহু মৎসজীবী বন্দী রয়েছে। কিছুদিন আগেই বাংলাদেশের সংশোধনাগারে বন্দি অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে এক ভারতীয় মৎস্যজীবীর।