মুখ্য নির্বাচনী কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি লিখে উদ্বেগের কথা জানালেন মমতা ব্যানার্জি।
রাজ্যের ভোটার তালিকায়র বিশেষ নিবিড় সংশোধন নিয়ে প্রশাসনিক স্তরে ক্রমশ চাপ বাড়ছে। প্রক্রিয়ার শুরু হওয়ার পর থেকেই আতঙ্কে রয়েছে অনেকেই। কয়েকজন মারাও গেছেন। শুধু সাধারণ মানুষই নন, কাজের চাপে বিএলও–রও মৃ্ত্যুর ঘটনা সামনে উঠে আসছে। এই পরিস্থিতিতে মুখ্য নির্বাচনী কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি লিখে উদ্বেগের কথা জানালেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। পাশাপাশি তিনি এসআইআর স্থগিত করার আর্জিও জানিয়েছেন।
মমতা ব্যানার্জির অভিযোগ, সরকারি আধিকারিক থেকে শুরু করে সাধারণ নাগরিক, সকলের ওপর অপরিকল্পিতভাবে এই এসআইআর জোর করে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে রাজ্য জুড়ে আতঙ্ক ও বিভ্রান্তি বেড়েই চলেছে। চিঠিতে রাজ্যে বিএলওদের মৃত্যুর প্রসঙ্গ উত্থাপন করে নির্বাচন কমিশনকেই দায়ী করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। চিঠিতে তিনি লিখেছেন, এসআইআর প্রক্রিয়ার অব্যবস্থা ক্রমশ অসহ্য হয়ে উঠেছে। মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলে এসআইআর প্রক্রিয়া করা হচ্ছে৷ সঠিক পরিকল্পনা এবং প্রস্তুতি ছাড়াই সরকারি কর্মীদের ওপর এসআইআর–এর দায়িত্ব চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। এমনভাবে প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে, যা রাজ্য প্রশাসনের কাছে আশঙ্কার জায়গা তৈরি হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি স্পষ্ট জানিয়েছে, বুথ লেভেল অফিসাররাই সবথেকে বেশি চাপে রয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, কমিশনের নির্দিষ্ট করে দেওয়া ৪ ডিসেম্বরের মধ্যে পুরো প্রক্রিয়া শেষ করা সম্ভব নয়। দ্রুত কাজ করতে গিয়ে বিএলও–দের ভুল ফর্ম আপলোড করাটা অস্বাভাবিক নয়। এতে আসল ভোটাররা বিপাকে পড়তে পারেন। মুখ্যমন্ত্রী আরও অভিযোগ করেছেন, বিএলও–দের ওপর অমানুষিক কাজের চাপ দেওয়া হচ্ছে। এই ব্যাপারে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিকের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন মমতা।
আরও পড়ুনঃ আবার যুদ্ধের প্রস্তুতি? মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ট্যাঙ্ক বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র কিনতে চায় ভারত, ৯৩ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি
বিএলও–দের প্রশিক্ষণেও ফাঁক রয়েছে বলে মুখ্যমন্ত্রী চিঠিতে উল্লেখ করেছেন। বহু জায়গায় সময়সীমা, ডকুমেন্টেশন ও জনসংযোগ নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে৷ ভুলে ভরা নির্দেশনা ও বারবার নিয়ম বদলের ফলে কর্তাদের পাশাপাশি বিএলও–দেরও হয়রান হতে হচ্ছে। মমতার অভিযোগ, তথ্য সংগ্রহ ও অনলাইন তথ্য আপলোড করতে গিয়ে ব্যর্থ হচ্ছেন বিএলওরা৷ এই অজুহাতে তাঁদের শোকজ নোটিস পাঠানো হচ্ছে৷ এতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে৷
মুখ্য নির্বাচনী কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে লেখা চিঠিতে সাম্প্রতিক মৃত্যুর ঘটনার কথাও উল্লেখ করেছেন মমতা ব্যানার্জি। মুখ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেছেন, ‘জলপাইগুড়ির মালবাজারের বিএলও হিসেবে কাজ করা এক অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী এসআইআর–এর চাপ সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করেছেন। অতিরিক্ত কাজের চাপের কারণে অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন, অনেকে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন, কারও কারও মৃত্যু হয়েছে৷ যে কাজ করতে সাধারণত তিন বছর সময় লাগে, সেটি মাত্র তিন মাসে শেষ করতে বলা হচ্ছে। এই অযথা চাপের কারণেই পরপর প্রাণহানি ঘটছে।’
এই পরিস্থিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে দ্রুত হস্তক্ষেপের আবেদন জানিয়েছেন মমতা ব্যানার্জি। তিনি জ্ঞানেশ কুমারকে অনুরোধ করেছেন, এসআইআর প্রক্রিয়া এখনই স্থগিত করা হোক। এখনই স্থগিতের সিদ্ধান্ত না নিলে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হবে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে এসআইআর পুনর্মূল্যায়ন করুক ৷