মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জে বাবা ও ছেলেকে নৃশংসভাবে পিটিয়ে খুনের ঘটনায় ১৩ জন অভিযুক্তকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা দিল জঙ্গিপুর মহকুমা আদালত। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি মৃতের পরিবারকে ১৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণেরও নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। নতুন ফৌজদারি আইনের অধীনে গণপিটুনিতে মৃত্যুর ঘটনায় দেশে এটা দ্বিতীয় দোষী সাব্যস্তের নজির। যদিও মৃতের পরিবার এই রায়ে সন্তুষ্ট নয়। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযুক্তদের ফাঁসির সাজা দাবি করা হয়েছে।
এবছর ১২ এপ্রিল জঙ্গিপুর পুলিশ জেলার সামশেরগঞ্জ থানা এলাকার জাফরাবাদ গ্রামে উত্তেজিত জনতার হাতে নৃশংসভাবে খুন হন হরগোবিন্দ দাস ও তাঁর ছেলে চন্দন দাস। ঘটনায় গোটা এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়। ঘটনার পরপরই তদন্তে নামে সামসেরগঞ্জ থানার পুলিশ। মামলার গুরুত্ব বিবেচনা করে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে একটা বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করা হয়।
তদন্তে নামার পর সিট দিলদার নদাব, আসমাউল নদাব, এনজামুল হক, জিয়াউল হক, ফেকারুল সেখ, আজফারুল সেখ, মনিরুল সেখ, একবাল সেখ, নুরুল ইসলাম, সাবা করিম, হযরত সেখ, আকবর আলি এবং ইউসুফ সেখকে গ্রেফতার করে। ওড়িশার ঝাশুগুড়া, ঝাড়খণ্ডের পাকুড়, বীরভূমের পাইকর, হাওড়া, ফারাক্কা, সামশেরগঞ্জ ও সুতিসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক এফআইআরে ৫ জনের নাম ছিল। তদন্তে বাকি অভিযুক্তদের নাম উঠে আসে।
তদন্ত শেষে ১৩ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেয় পুলিশ। দীর্ঘদিন ধরে জঙ্গিপুর আদালতে এই মামলার শুনানি চলে। সাক্ষ্যগ্রহণ, প্রমাণ যাচাই ও উভয়পক্ষের সওয়াল–জবাব শেষে আদালত ১৩ জন অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করে। মঙ্গলবার রায় ঘোষণা উপলক্ষে এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়। যেকোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী। কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানও মোতায়েন করা হয়।
মঙ্গলবার জঙ্গিপুর মহকুমা আদালতের অতিরিক্ত জেলা বিচারক রায় ঘোষণা করেন। সব অভিযুক্তকেই দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। নতুন ফৌজদারি বিধির ১০৩(২) ধারায় গণপিটুনিতে মৃত্যুর অভিযোগে দেশে এটা দ্বিতীয় সাজা। মাত্র ৯ মাসের মধ্যে দোষীদের সাজা নিশ্চিত করায় জঙ্গিপুর জেলা পুলিশকে অভিনন্দন জানিয়েছে রাজ্য পুলিশ। উল্লেখ্য, ওয়াকফ ইস্যুতে গণ্ডগোলে চলতি বছরের এপ্রিল মাসে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে সামসেরগঞ্জ। উত্তাপের আগুন ছড়ায় রঘুনাথগঞ্জ থানা থেকে। পরে তার আঁচ গিয়ে পড়ে সামশেরগঞ্জে। দফায় দফায় অশান্তি ছড়ায় এলাকাজুড়ে। সেই আবহের মধ্যেই জাফরাবাদ গ্রামে হরগোবিন্দ দাস ও তাঁর ছেলে চন্দন দাসকে নৃশংসভাবে খুন করা হয়। দুষ্কৃতীরা বাড়িতে ঢুকে বাবা–ছেলেকে কুপিয়ে খুন করে। বাড়িতে লুটপাট চালানো হয়। ঘটনাস্থলেই বাবা ও ছেলের মৃত্যু হয়।