নাসার ৪ জন নভোচারীকে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে পাঠিয়েছে স্পেসএক্স। প্রায় ছয় মাসব্যাপী এই অভিযানে দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন কৃষ্ণাঙ্গ মহিলা নভোচারী জেসিকা ওয়াটকিন্স। মহাকাশে কোনও দলের নেতৃত্বদানকারী প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ মহিলা হিসেবে ইতিহাস গড়লেন তিনি। কানাডিয়ান জশুয়া কুট্রিকের স্ত্রী হেদার নভেম্বরের শেষে তৃতীয় সন্তানের জন্ম দেবেন। নাসা তাঁকে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে সাহায্য করবে।
বৃহস্পতিবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেপ ক্যানাভেরাল স্পেস সেন্টার থেকে ৪ মহাকাশচারীকে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে পাঠিয়েছে স্পেসএক্স। এই অভিযানটি নাসার। মহাকাশ যানের জ্বালানি ব্যবস্থায় একটা ছিদ্র মেরামত করার কারণে অভিযান তিন সপ্তাহ বিলম্বিত হয়েছিল। এই অভিযানে ৪ মহাকাশচারী প্রায় ছয় মাস মহাকাশ স্টেশনে থাকবেন।
উৎক্ষেপণের প্রায় ৮ ঘণ্টা পর চারজন মহাকাশচারীর আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে পৌঁছানোর কথা। সব ঠিকঠাক থাকলে এটি স্পেসএক্স–এর এখনও পর্যন্ত আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে সবচেয়ে দ্রুততম যাত্রা হতে পারে। আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে পৌঁছে তাঁরা চারজন মহাকাশচারীর স্থলাভিষিক্ত হবেন, যারা ফেব্রুয়ারি মাস থেকে এই কক্ষপথের গবেষণাগারে রয়েছেন। এই অভিযান মহাকাশ স্টেশনে পরিচালিত ধারাবাহিক দীর্ঘমেয়াদী মানব অভিযানের একটা অংশ।
ইই অভিযানের নেতৃত্ব দিচ্ছেন নাসার মহাকাশচারী জেসিকা ওয়াটকিন্স। তিনি কক্ষপথে কোনও দলকে নেতৃত্বদানকারী প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ মহিলা। পেশায় ভূতত্ত্ববিদ ওয়াটকিন্স প্রায় এক দশক আগে মঙ্গল গ্রহে নাসার কিউরিওসিটি রোভারের সঙ্গে কাজ করেছিলেন। ২০২২ সালে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনেও তাঁর দীর্ঘ সময় কাটানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে।
এই অভিযানে জেসিকা ওয়াটকিন্সের সঙ্গে রয়েছেন নাসার লিউক ডেলানি, কানাডার জোশুয়া কুট্রিক এবং রাশিয়ার সের্গেই টেটেরিয়াতনিকভ। ডেলানি একজন অবসরপ্রাপ্ত মেরিন কোর অফিসার, কুট্রিক কানাডিয়ান এয়ার ফোর্সের একজন কর্নেল এবং টেটেরিয়াতনিকভ আগে একটা সাবমেরিনে কর্মরত ছিলেন। এই তিনজনের কাছে এটাই প্রথম মহাকাশ অভিযান। জেসিকা ওয়াটকিন্স মহাকাশে একটা ক্রুকে নেতৃত্বদানকারী প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ মহিলা হিসেবে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। এই অভিযানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং রাশিয়ার মহাকাশচারীরা রয়েছেন।
কানাডার জশুয়া কুট্রিকের স্ত্রী হেদার নভেম্বরের শেষের দিকে তাঁদের তৃতীয় সন্তানের জন্ম দেবেন। সেই সময় কুট্রিক মহাকাশে থাকবেন। তিনি হবেন চতুর্থ ব্যক্তি যিনি পৃথিবীর কক্ষপথে থাকাকালীন বাবা হবেন। কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সি প্রসবকালীন সময়ে পুরো পরিবারকে তাঁদের সমর্থনের আশ্বাস দিয়েছে। নাসার প্রশাসক ডানা ওয়েগেল মহাকাশযাত্রার আগে বলেন যে, ছয় মাসে জীবনে অনেক বড় পরিবর্তনকারী ঘটনা ঘটতে পারে। সংস্থাটি নিশ্চিত করার চেষ্টা করবে যে কুট্রিক যেন তাঁর পরিবারের সঙ্গে সংযুক্ত থাকেন।
সন্তান প্রসবের সময় কুট্রিককে তাঁর পরিবারের সঙ্গে সংযুক্ত রাখতে নাসা সব ধরনের সাহায্য করবে। আগেও এমন ঘটনা ঘটেছে। ২০০৪ সালে মহাকাশচারী মাইক ফিঙ্কের মেয়ের জন্মের সময় নাসা মহাকাশ স্টেশন থেকে হাসপাতালের প্রসব কক্ষে রেডিও সংযোগ স্থাপন করেছিল। ২০০৯ সালে র্যান্ডি ব্রেসনিকও মহাকাশ থেকে হাসপাতালে থাকা তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। অস্ট্রিয়ান মহাকাশচারী ফ্রাঞ্জ উইবকের মেয়ের জন্ম হয়েছিল ১৯৯১ সালে, যখন তিনি সোভিয়েত ইউনিয়নের মির মহাকাশ স্টেশনে একটা মিশনে ছিলেন। তিনি তাঁর মেয়ের জন্মের খবর পরের দিন জানতে পারেন।