ভারতের ডিজিটাল মূল্যবান ধাতু শিল্প একত্রিত হয়ে ‘ডিজিটাল প্রেশাস মেটালস অ্যাসিওরেন্স কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া’ গঠন করেছে। ভারতের ডিজিটাল ধাতু ইকোসিস্টেমে স্বচ্ছতা, পরিচালনগত অখণ্ডতা এবং গ্রাহক সুরক্ষাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার লক্ষ্যে এই স্বনিয়ন্ত্রক সংস্থাটি গঠিত হয়েছে।
শ্রীমতি নিরুপমা সৌন্দরারাজনের নেতৃত্বে এই সংস্থাটি গঠিত হয়েছে। তিনিই ডিপিএমএসিআই–এর চেয়ারপার্সন হিসেবে দায়িত্ব গ্রহন করেছেন। কঠোর নিয়ম–নীতি এবং স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও গ্রাহক–বান্ধব ইকোসিস্টেম নিশ্চিত করতে সরকার ও নীতি নির্ধারকদের যুক্ত করবে। এর মাধ্যমে সংস্থাটি গ্রাহকের আস্থা বজায় রাখার পাশাপাশি এই শিল্পের জন্য একটা প্রযুক্তিকেন্দ্রিক ও গতিশীল অগ্রগতির পথ তৈরি করতে চায়।
ডিপিএমএসিআই–এর বর্তমান সদস্যদের মধ্যে রয়েছে ভারতের ডিজিটাল সোনা ও রুপোর শীর্ষস্থানীয় বিক্রেতা ও পরিবেশক যেমন এমএমটিসি–প্যাম্প, সেফগোল্ড, অগমন্ট, ফোনপে, ভারতপে, মোবিকুইক, গুল্লাক, লেন্ডেন ক্লাব এবং ক্রেড। সকল সদস্য যাতে শিল্পের সর্বোচ্চ মান মেনে চলে, তা নিশ্চিত করার জন্য ডিপিএমএসিআই কাঠামোটি ১:১ ভৌত ধাতব সমর্থনের ব্যবস্থা করবে। যা পর্যায়ক্রমিক নিরীক্ষার মাধ্যমে যাচাই করা হবে এবং সকল হোল্ডিংকে লন্ডন, ইউএই, ভারতীয় পণ্য সরবরাহ মান মেনে চলতে হবে। গ্রাহকদের অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য একটা ওমবুডসম্যান কাঠামো প্রতিষ্ঠার দিকেও কাজ করবে এবং নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে তার প্রতিকার নিশ্চিত করবে।
সংস্থাটির উদ্দেশ্য হল, একটা অভিন্ন আচরণবিধির অধীনে প্রধান বিক্রেতা ও পরিবেশকদের একত্রিত করার মাধ্যমে শিল্পব্যাপী মানদণ্ড এবং যাচাইকরণ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সক্রিয়ভাবে যে কোনও সমস্যার সমাধান করা, যা ভোক্তাদের আস্থা জোরদার করবে।
এই উদ্যোগ প্রসঙ্গে ডিপিএমএসিআই–এর চেয়ারপার্সন শ্রীমতি নিরুপমা সৌন্দরারাজন বলেন, ‘ডিপিএমএসিআই–এর গঠন এই শিল্পের জন্য একটা গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। স্বচ্ছতা এবং কঠোর মানদণ্ডের একটা সাধারণ কাঠামো সক্রিয়ভাবে প্রতিষ্ঠা করার মাধ্যমে, আমরা টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য এমন একটা ভিত্তি তৈরি করছি যা ভোক্তাদের আস্থাকে অগ্রাধিকার দেয়। স্বাধীন নিরীক্ষা এবং সুস্পষ্ট হেফাজত সুরক্ষার মতো অনুশীলনগুলোকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া পুরো খাতের জন্যই ভাল। কারণ এটা ভোক্তা সুরক্ষা এবং বাজারের বিশ্বাসযোগ্যতাকে শক্তিশালী করে।’
নিরুপমা আরও বলেন, ‘ডিপিএমএসিআই নীতি নির্ধারকদের একটি গঠনমূলক অংশীদার হতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যাতে এই সর্বোত্তম অনুশীলনগুলো ইকোসিস্টেমের জন্য একটা মানদণ্ড হয়ে ওঠে এবং একটা স্বচ্ছ ও সমৃদ্ধ ডিজিটাল অর্থনীতিকে সমর্থন করে।’