দিল্লির সেন্ট কলুম্বা স্কুলের ছাত্রের আত্মহত্যার ঘটনায় বরখাস্ত করা হল প্রধান শিক্ষকসহ আরও তিন শিক্ষককে। বৃহস্পতিবার স্কুল কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মেট্রো স্টেশনের উঁচু প্ল্যাটফর্ম থেকে লাফিয়ে আত্মহত্যার ২ দিন পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হল। ওই শিক্ষকদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন মৃত ছাত্রর বাবা।
মঙ্গলবার বিকেলে রাজেন্দ্র প্লেস মেট্রো স্টেশনের উঁচু প্ল্যাটফর্ম থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করে ১৬ বছর বয়সী শৌর্য পাটিল। আত্মহত্যা করার আগে শিক্ষকদের দোষারোপ করে একটা চিরকুট রেখে যায়। সুইসাইড নোটে শৌর্য লিখেছিল, ‘সরি মা, আমি অনেকবার তোমার হৃদয় ভেঙেছি এবং শেষবারের মতো এটা করছি। স্কুলের শিক্ষকরা এমনই, আমি কী বলব?’ বুধবার দায়ের করা এফআইআরে শৌর্যর বাবা প্রদীপ পাটিল স্কুলের পঞ্চম থেকে দশম শ্রেণীর প্রধান শিক্ষক অপরাজিতা পাল, অন্যান্য তিন শিক্ষক জুলি ভার্গিস, মনু কালরা এবং যুক্তি আগরওয়াল মহাজনের নাম উল্লেখ করেছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে ছেলেকে মানসিকভাবে হয়রানির অভিযোগ করেছেন।
স্কুলের অধ্যক্ষ রবার্ট ফার্নান্ডেজ ওই শিক্ষকদের দেওয়া চিঠিতে লিখেছেন, ‘আপনার বিরুদ্ধে ১৯ নভেম্বর ২০২৫ তারিখের ৩৩৬এ তিস হাজারি আদালতে দায়ের করা একটা এফআইআর সম্পর্কে অবহিত হয়েছে। অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে কর্তৃপক্ষ আপনাকে তাৎক্ষণিকভাবে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তদন্ত সম্পন্ন না হওয়া এবং কর্তৃপক্ষ পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত আপনাকে বরখাস্ত করা হল। বরখাস্তের সময়কালে আপনাকে যে কোনও সরকারি যোগাযোগ বা অনুসন্ধানের জন্য উপলব্ধ থাকতে হবে এবং প্রশাসনের পূর্ব লিখিত অনুমতি ছাড়া আপনার স্কুল প্রাঙ্গণে যাওয়া বা ছাত্র, কর্মী বা অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হল।’
এফআইআরে শৌর্যর বাবা প্রদীপ অভিযোগ করেন যে প্রধান শিক্ষক এবং অন্যানয় তিন শিক্ষক তাঁর ছেলেকে ছোটখাটো বিষয়ে বকাঝকা করতেন এবং মানসিকভাবে হয়রানি করতেন। শৌর্যর বন্ধুদের কাছ থেকে তিনি জেনেছেন, জুলি ভার্গিস চার দিন ধরে তাঁর ছেলেকে স্কুল থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। এফআইআর–এ প্রদীপ পাটিল আরও উল্লেখ করেছেন, মনু কালরা একবার শৌর্যকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়েছিলেন।
প্রদীপ পাটিল সংবাদমাধ্যমকে বলেন, যেদিন শৌর্য আত্মহত্যা করে মারা যায়, সেদিন একটা নাটকের ক্লাস চলাকালীন সে পড়ে গিয়েছিল। যুক্তি মহাজন তাকে অপমান করে এবং উপহাস করে বলেছিলেন, শৌর্য নাকি অতিরিক্ত অভিনয় করছেন। তাকে এতটাই তিরস্কার করা হয়েছিল যে, শৌর্য কাঁদতে শুরু করেছিল। এই ঘটনার সময় প্রধান শিক্ষক অপরাজিতা পালও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু তিনি কোনও হস্তক্ষেপ করেননি।
দিল্লি সরকার ছাত্রের আত্মহত্যার ঘটনায় উচ্চ পর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। পাঁচ সদস্যের একটা কমিটি গঠন করে শিক্ষা অধিদপতর বলেছে যে, ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত তথ্য, পরিস্থিতি এবং প্রশাসনিক জবাবদিহি প্রতিষ্ঠিত করা খুবই প্রয়োজনীয়। যুগ্ম পরিচালক হর্ষিত জৈনের সভাপতিত্বে গঠিত তদন্ত কমিটিকে পুঙ্খানুপুঙ্খ ও বস্তুনিষ্ঠ তদন্ত পরিচালনা করতে এবং তিন দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে।