কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ঘোষণা করেছিলেন ২০২৬ সালের ৩১মার্চের মধ্যেই গোটা দেশে মাওবাদীদের নির্মূল করবেন। সেই লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছে সরকার। অভিযান চালিয়ে একের পর এক মাওবাদীদের হত্যা করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। অসংখ্য মাওবাদী অস্ত্রসমর্পন করে সমাজের মুলস্রোতে ফিরে এসেছেন। অনেকে এখনও সরকারবিরোধী কার্যকলাপ চালিয়ে যাচ্ছে। যারা এখনও আত্মসমর্পন করেনি, তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে প্রশাসন। এইরকমই এক অভিযান চালিয়ে রবিবার ছত্তিশগড়ের বস্তার রেঞ্জের সুকমা জেলায় দুই মহিলাসহ ৩ মাওবাদীকে হত্যা করেছে নিরাপত্তা বাহিনী।
১৬ নভেম্বর রাতে ছত্তিশগড়ের সুকমা জেলার ভেজ্জি–চিন্তাগুফা সীমান্তে মাওবাদীদের উপস্থিতি সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জেলা রিজার্ভ গার্ড, বস্তার ফাইটার্স ও সিআরপিএফের যৌথ বাহিনী তল্লাশি অভিযান শুরু করে। যৌথ বাহিনী ভেজ্জি পুলিশ স্টেশনের কাছাকাছি ঘন তুমালপাদ জঙ্গলে পৌঁছনোর সঙ্গে সঙ্গে মাওবাদীরা গুলি চালাতে শুরু করে। নিরাপত্তা বাহিনীও পাল্টা গুলি চালায়। নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে ২ মহিলাসহ ৩ মাওবাদী নিহত হয়।
এরপর গুলিবর্ষণ থেমে গেলে পুলিশ চিরুনি তল্লাশি শুরু করে। সেই সময় ৩ জন মাওবাদীর দেহ উদ্ধার হয়। নিহতদের মধ্যে রয়েছে জনমিলিশিয়া কমান্ডার এবং স্নাইপার বিশেষজ্ঞ মাধবী দেবী। মোস্ট ওয়ান্টেড মাওবাদী ছিলেন মাধবী। তাঁর মাথার মূল্য ছিল ৫ লক্ষ টাকা। যৌথ বাহিনী ঘটনাস্থল থেকে একটা .৩০৩ রাইফেল, একটা বিজিএল গ্রেনেড লঞ্চার এবং প্রচুর পরিমাণে গোলাবারুদ উদ্ধার করে।
আরও পড়ুনঃ বিহার নির্বাচনে বিশ্বব্যাঙ্কের ১৪ হাজার কোটি টাকার তহবিল ব্যবহার, নীতীশ কুমারের বিরুদ্ধে মারাত্মক অভিযোগ
বস্তার রেঞ্জের আইজি সুন্দররাজ পি বলেছেন যে, ২০২৫ সালে এখনও পর্যন্ত বস্তার রেঞ্জে ২৩৩ জন মাওবাদী নিহত হয়েছে। তিনি জোরের সঙ্গে জানিয়েছেন, শীঘ্রই মাওবাদ নির্মূল করা হবে। ১১ নভেম্বর বিজাপুর জেলায় একটা বড় অভিযানের পর সুকমা সংঘর্ষের ঘটনাটি ঘটেল। বিজাপুর জাতীয় উদ্যান এলাকায় ৩ মহিলাসহ ৬ জন মাওবাদী নিহত হন। নিহতদের মধ্যে ছিলেন মাদ্দীদ এরিয়া কমিটির ইনচার্জ বুচান্না এবং শীর্ষ মাওবাদী কমান্ডার পাপারাওয়ের স্ত্রী উর্মিলা। এই অভিযানে ভৈরামগড় এরিয়া কমিটির ইনচার্জ কমলু এবং গঙ্গালোর এরিয়া কমিটির প্রধান দীনেশ মোদিয়ামের আত্মসমর্পণ করেন। বুচান্নার মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে তিনটি এরিয়া কমিটি, ভৈরামগড়, গঙ্গালোর এবং মদ্দীদ এখন নেতৃত্বহীন।
কর্তাদের মতে, মাওবাদীদের উপস্থিতি এখন এই অঞ্চলের মাত্র দু–একটা স্থানে সীমাবদ্ধ রয়েছে। দক্ষিণ বস্তারের গভীর জঙ্গলে প্রায় ৩০০ জন কট্টর মাওবাদী যোদ্ধা এখনও তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। যাদের নেতৃত্বে রয়েছেন ৪ জন কুখ্যাত বিদ্রোহী কমান্ডার দেবজি, পাপারাও, হিদমা এবং গণেশ উইকে, যাদের প্রত্যেকের জন্য ১ কোটি টাকা পুরস্কার রয়েছে। মাওবাদী আন্দোলনের উত্তর সাব–জোনাল ব্যুরো মূলত ভেঙে পড়লেও, পশ্চিম বস্তার, দক্ষিণ বস্তার এবং দর্ভা অঞ্চলকে অন্তর্ভুক্ত করে দক্ষিণ সাব-জোনাল ব্যুরো এখনও অবাধ্য।