গালওয়ানে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখায় সংঘর্ষের পর ভারত ও চীনের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি হয়েছিল। দুই দেশ আবার সম্পর্ক উন্নতি করা দিকে নজর দিয়েছে। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে চীনা নাগরিকদের জন্য আবার পর্যটন ভিসা দেওয়া শুরু করল ভারত। ৫ বছর পর পুনরায় ভিসা চালু করা হল। এই পদক্ষেপ ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দুই দেশের মধ্যে যাত্রীবাহী বিমান চালু করার ধারাবাহিকতা অনুসরণ। চলতি বছরের জুলাই মাসে চীনা নাগরিকদের জন্য পর্যটন ভিসা পুনরায় চালু করার পরামর্শ দেওয়ার নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
২০২০ সালের এপ্রিল–মে মাসে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখায় ভারত ও চীনের সেনাদের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। গালওয়ান উপত্যকায় সামরিক সংঘর্ষে ২০ জন ভারতীয় সেনা এবং ৪ জন চীনা সেনা নিহত হন। এই সংঘর্ষের ঘটনা দুই দেশের সম্পর্ককে ছয় দশকের মধ্যে সবথেকে খারাপ পর্যায়ে পৌঁছে দেয়। ভারত সরকার চীনা নাগরিকদের ভিসা দেওয়া বন্ধ করেছিল ভারত সরকার। শুধু তাই নয় ভারত–চীন বিমান পরিষেবাও বন্ধ করে দিয়েছিল।
২০২৪ সালের অক্টোবরে ভারত ও চীন প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে একটা সমঝোতায় পৌঁছেছিল। এরপর রাশিয়ার কাজান শহরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং চীনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিংয়ের মধ্যে একটা বৈঠক হয়েছিল। বৈঠকে দুই দেশের শীর্ষ নেতারা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার এবং দীর্ঘস্থায়ী সীমান্ত বিরোধ সমাধানের জন্য বেশ কয়েকটি প্রক্রিয়া পুনরুজ্জীবিত করতে সম্মত হয়েছিল। তারপর থেকে ভারত ও চীনের বিদেশ ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রী এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের মধ্যে বেশ কয়েকটি বৈঠক হয়। পাশাপাশি সীমান্ত সমস্যা সংক্রান্ত বিশেষ প্রতিনিধি,জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল এবং চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইয়ের মধ্যেও বেশ কয়েকটি বৈঠক হয়।
এরপর ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তিতে আবার বিমান চলাচলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পাঁচ বছর ধরে বন্ধ থাকা কৈলাস মানস সরোবর যাত্রাও ২০২৫ সালের জুনে পুনরায় চালু হয়। ভারতীয় তীর্থযাত্রীদের প্রথম দল তিব্বতে প্রবেশ করে। এর আগে ১ এপ্রিল, কূটনৈতিক সম্পর্কের ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে চীনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং ও ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এবং চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং ও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে স্থিতিশীলতার প্রতি নতুন করে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে অভিনন্দন বার্তা বিনিময় করেছিলেন।
এবছর জুলাইয়ে ভারত ও চীনের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরালো হয়ে ওঠে। ভারতীয় বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বেজিং সফর করে উল্লেখ করেন যে, সম্পর্ক ধীরে ধীরে ইতিবাচক দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই আগস্ট মাসে দু’দিনের দিল্লি সফরে এসে সীমান্ত উত্তেজনা হ্রাস এবং স্বাভাবিকীকরণ নিয়ে আলোচনা করার জন্য জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্করের সঙ্গে দেখা করেন।
১০ নভেম্বর সাংহাইয়ে ভারতের কনসাল জেনারেল প্রতীক মাথুর সোমবার দিল্লি থেকে আগত যাত্রীদের প্রথম দলকে স্বাগত জানান। কারণ ভারত ও চীনের মধ্যে সরাসরি বাণিজ্যিক বিমান পাঁচ বছর পর আনুষ্ঠানিকভাবে পুনরায় চালু হয়েছে। সাংহাইয়ের ভারতীয় দূতাবাস এক্স–এ এক পোস্টে লিখেছে, ‘সুন্দর বাতাস এবং পরিষ্কার আকাশ! মানুষে মানুষে সম্পর্ক আরও দৃঢ় হওয়ার সাথে সাথে ভারত একটি বৈশ্বিক কেন্দ্র হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে। নতুন দিল্লি এবং সাংহাইয়ের মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট পুনরায় শুরু হওয়ার সাথে সাথে যাত্রীদের প্রথম সেট গ্রহণের জন্য কনসাল জেনারেল প্রতীক মাথুর হাজির ছিলেন।’