দিল্লি হামলার রেশ কাটতে না কাটতেই আবার নাশকতার ছক। পাকিস্তানেক আইএসআই সমর্থিত সন্ত্রাসীদের গ্রেনেড হামলার পরিকল্পনা ভেস্তে দিল পাঞ্জাব পুলিশ। এই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রত্যেকের বিরুদ্ধে বেআইনি কার্যকলাপ (প্রতিরোধ) আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পাঞ্জাবের এই দলের সঙ্গে পাকিস্তানের আইএসআই–ভিত্তিক সন্ত্রাসীদের যোগাযোগ ছিল। সন্ত্রাসীরা পাঞ্জাবের এই দলটিকে লুধিয়ানার জনবহুল এলাকা অশান্ত করার লক্ষ্যে গ্রেনেড হামলা চালানোর নির্দেশ দিয়েছিল। গোপনসূত্রে খবর পেয়ে অভিযান চালিয়ে পুলিশ এই গ্রেনেড হামলার পরিকল্পনা বানচাল করে দেয়। তিনজন মূল অভিযুক্ত কুলদীপ সিং, শেখর সিং এবং অজয় সিংকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। এরা সকলেই শ্রীমুক্তসর সাহেবের বাসিন্দা। পুলিশ তাদের কাছ থেকে একটা চীনা হ্যান্ড গ্রেনেড উদ্ধার করেছে।
পাঞ্জাব পুলিশের ডিজিপি গৌরব যাদব জানিয়েছেন, এই তিনজন বিদেশি হ্যান্ডলারদের মাধ্যমে নির্দেশ পাচ্ছিল। তিনি বলেন, ‘হ্যান্ডলাররা পাঞ্জাবকে অশান্ত করার জন্য জনবহুল এলাকায় গ্রেনেড হামলা চালানোর জন্য এদের দায়িত্ব দিয়েছিল। কোথা থেকে এই গ্রেনেড এসেছে, কারা নির্দেশ দিচ্ছিল, তদন্তকারীরা বিস্তৃতভাবে তদন্ত করে দেখছে।’ প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, মালয়েশিয়ায় অবস্থিত তিনজনের মাধ্যমে এই নেটওয়ার্কটি পাকিস্তান–ভিত্তিক হ্যান্ডলারদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল, যারা গ্রেনেড সংগ্রহ থেকে শুরু করে সরবরাহ, সব দায়িত্ব পালন করেছিল।
অভিযানে সহায়তাকারী হিসেবে অভিযুক্ত আরও সাতজন, অমরিক সিং, পারমিন্দর ওরফে চিরি, বিজয়, সুখজিৎ সিং ওরফে সুখ ব্রার, সুখবিন্দর সিং, করণবীর সিং ওরফে ভিকি এবং সজন কুমার ওরফে সঞ্জুকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। লুধিয়ানার পুলিশ কমিশনার স্বপন শর্মা জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছিল। প্রথমে যোধেওয়াল থানায় তিন প্রধান সন্দেহভাজনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়। এরপর দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিশেষ দল গঠন করা হয়েছিল। অভিযান চালিয়ে পুলিশ ১০ জনকে গ্রেফতার করে।’
পুলিশি তদন্তে মালয়েশিয়া–ভিত্তিক মাস্টারমাইন্ডদের দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। অজয় জাস বেহবল এবং পবনদীপের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল, যারা স্থানীয়ভাবে অমরিক সিং এবং পারমিন্দার নামে পরিচিত। দুজনেই আগে মাদক চোরাচালান অভিযানে কাজ করেছিল। তদন্তকারীরা মাদক মামলায় গঙ্গানগর কারাগারে বন্দী থাকা অজয়ের ভাই বিজয়কেও গ্রেফতার। পুলিশ জানিয়েছে, অজয় নেটওয়ার্কের সঙ্গে যোগাযোগ রাখত ও রসদ সরবরাহ করত। প্রত্যেকের বিরুদ্ধে বেআইনি কার্যকলাপ (প্রতিরোধ) আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিদেশ থেকে পরিচালিত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে রেড কর্নার নোটিশ জারি করা হয়েছে।