পরপর দুই ম্যাচে দুর্দান্ত জয়। সৈয়দ মুস্তাক আলি টি২০ প্রতিযোগিতার তৃতীয় ম্যাচে এসে ধাক্কা খেল বাংলা। ঘরোয়া টি২০ ক্রিকেটে অধিনায়ক অভিমন্যু ঈশ্বরণের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি সত্ত্বেও পাঞ্জাবের কাছে হারতে হল ১১২ রানের বিশাল ব্যবধানে। দুই দলের মধ্যে পার্থক্য গড়ে দিয়েছিলেন বিশ্বের ১ নম্বর টি২০ ব্যাটার অভিষেক শর্মা। তাঁর ঝড়ে উড়ে গেলেন সামি, আকাশদীপরা। ৫২ বলে ১৪৮ রান করেন অভিষেক।
হায়দরাবাদের জিমখানা মাঠে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় পাঞ্জাব। শুরু থেকেই ঝড় তুলেছিলেন অভিষেক শর্মা। তাঁর তাণ্ডবে খড়কুটোর মতো উড়ে যায় বাংলার বোলাররা। ১২ বলে হাফ সেঞ্চুরিতে পৌঁছন অভিষেক। সেঞ্চুরি আসে মাত্র ৩২ বলে। শেষ পর্যন্ত ৫২ বলে ১৪৮ রান করে আউট হন অভিষেক। তাঁর ইনিংসে রয়েছে ১৬টি চার ও ৮টি ছয়। সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফিতে এটা তাঁর পঞ্চম শতরান। তিনিই সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির মালিক।
পাঞ্জাবের ওপেনিং জুটি ভাঙে ১২.৩ ওভারে। ততক্ষণে ২০৫ রানে পৌঁছে গিয়েছিল পাঞ্জাব। অভিষেকের পাশাপাশি প্রভসিমরণ সিং (৩৫ বলে ৭০) দুর্দান্ত ব্যাটিং করেন। রমনদীপ সিং ১৫ বলে করেন ৩৯, সনবীর সিং ৯ বলে ২২। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ৩১০ রান তোলে পাঞ্জাব।
আকাশদীপ ৪ ওভারে ৫৫ রানে ২ উইকেট নেন। মহম্মদ সামি ৪ ওভারে ৬১, সক্ষম চৌধুরি ২ ওভারে ৩৫ ও প্রদীপ্ত প্রামাণিক ৩ ওভারে ৪১ রান দিয়ে ১টি করে উইকেট পান। সৈয়দ মুস্তাক আলি টি২০ ক্রিকেটে পাঞ্জাবের এই রান দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড বরোদার দখলে। গত বছর ইন্দোরে সিকিমের বিরুদ্ধে তুলেছিল ৩৪৯/৫।
জয়ের জন্য ৩১১ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে বাংলা। ১.৪ ওভারের মধ্যেই স্কোরবোর্ডে ৭ রান ওঠার ফাঁকে ডাগ আউটে তিন ব্যাটার। করণলাল ৩ বলে ১, অভিষেক পোড়েল ৪ বলে ৬ ও শাহবাজ আহমেদ ২ বলে কোনও রান না করে আউট হন। সুদীপ কুমার ঘরামি (৯ বলে ৪), শাকির হাবিব গান্ধী (২ বলে ১), ঋত্ত্বিক চ্যাটার্জি (২ বলে ১), সক্ষম চৌধুরিরাও (৫ বলে ২) ব্যর্খ। একসময় বাংলার রান ছিল ৭ উইকেটে ৮৯।
একপ্রান্তে পরপর উইকেট পড়লেও অন্যপ্রান্ত আটকে রাখার পাশাপাশি ঝড় তোলেন অভিমন্য ঈশ্বরণ। ১৫.৩ ওভারে ১৫২ রানে নবম উইকেট পড়ার পর মহম্মদ সামিকে নিয়ে ২০ ওভার পর্যন্ত ক্রিজে কাটান অভিমন্যু। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৯৮ রান তোলে বাংলা। ১৩টি চার ও ৮টি ছয়ের সাহায্যে ৬৬ বলে ১৩০ রান করে অপরাজিত থাকেন অভিমন্যু। আকাশদীপ ৭ বলে করেন ৩১, মারেন ৫টি ৬। পাঞ্জাবের হরপ্রীত ব্রার ৪ ওভারে ২৩ রান দিয়ে ৪ উইকেট নেন। নেহাল ওয়াধেরা ১৯ ও গুরনুর ব্রার ৪০ রানে ২টি করে উইকেট নেন।