নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে সুপার এইটের শেষ ম্যাচে মাঠে নামার আগেই সেমিফাইনালে পৌঁছে গিয়েছিল ইংল্যান্ড। গ্রুপের দ্বিতীয় দল হিসেবে কারা যাবে তা এখনও চূড়ান্ত নয়। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে জিতলেই সেমিফাইনালে পৌঁছে যেত নিউজিল্যান্ড। কিন্তু সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারল না কিউয়িরা। ইংল্যান্ডের কাছে ৪ উইকেটে হেরে পাকিস্তানেরও সেমিফাইনালের আশা বাঁচিয়ে রাখল নিউজিল্যান্ড।
কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ভাল শুরু করেছিলেন নিউজিল্যান্ডের দুই ওপেনার টিম সেইফার্ট (২৫ বলে ৩৫) ও ফিন অ্যালেন (১৯ বলে ২৯)। ওপেনিং জুটিতে দুজনে তুলে ফেলেন ৬৪ তুলেছিলেন। সেইফার্টকে তুলে নিয়ে প্রথম আঘাত হানেন আদিল রশিদ। এরপর ফিন অ্যালেনকে ফেরান উইল জ্যাকস। ইংল্যান্ডের এই স্পিনার অলরাউন্ডার এদিনও বল হাতে দারুণ নজর কাড়েন। বিধ্বংসী হয়ে ওঠে অ্যালেনকে শুরুতে ফেরানোর পর ডেথ ওভারে তুলে নেন গ্লেন ফিলিপসকে (২৮ বলে ৩৯)।
মাঝের ওভারগুলিতে ইংল্যান্ডের স্পিনারদের বিরুদ্ধে সেভাবে আক্রমণাত্মক হয়ে উঠতে পারেননি রাচিন রবীন্দ্র (১৩ বলে ১১), মার্ক চ্যাপম্যান (৯ বলে ১৫), ড্যারিল মিচেলরা (৩)। ফলে ভাল শুরু করেও বড় রান করতে ব্যর্থ হয় নিউজিল্যান্ড। আটকে যায় ১৫৯/৭ রানে আটকে যায় নিউজিল্যান্ড। উইল জ্যাকস (২/২৩), রেহান আমেদ (২/২৮), আদিল রশিদ (২/২৮) ও লিয়াম ডসনরা (১/৩২) দারুণ বোলিং করেন।
জয়ের জন্য ১৬০ রানের লক্ষ্য খুব একটা কঠিন ছিল না ইংল্যান্ডের কাছে। কিন্তু ইংল্যান্ডের দুই ওপেনার ফিল সল্ট ও জস বাটলার একেবারেই ছন্দে নেই। প্রথম ওভারেই ম্যাট হেনরির বলে আউট হন ফিল সল্ট (২)। পরের ওভারেই জস বাটলারকে (০) তুলে নিয়ে ইংল্যান্ডের ওপর চাপ আরও বাড়িয়ে দেন লকি ফার্গুসন। শুরুর ধাক্কা সামলে দলকে এগিয়ে নিয়ে যান হ্যারি ব্রুক (১৬ বলে ২১), টম ব্যান্টন (২৪ বলে ৩৩), সাম কারেনরা (২২ বলে ২৪)। শেষ ৩ ওভারে ইংল্যান্ডের জয়ের জন্য দরকার ছিল ৪৩ রান। ১৮তম ওভারে গ্লেন ফিলিপসের বলে ২২ রান তুলে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন জ্যাকস ও রেহান। চাপের মুখে দলকে দুরন্ত জয় এনে দেন উইল জ্যাকস (১৮ বলে অপরাজিত ৩২) ও রেহান আমেদ (৭ বলে অপরাজিত ১৯)। ৩ বল বাকি থাকতে ১৬১/৬ রান তুলে ম্যাচ জিতে নেয় ইংল্যান্ড। রাচিন রবীন্দ্রর (৩/১৯) দুরন্ত বোলিং কাজে এল না বাকিদের ব্যর্থতায়।
ইংল্যান্ডের জয়ের ফলে পাকিস্তানের সেমিফাইনালের আশা বেঁচে থাকল। ৩ ম্যাচে ৬ পন্টেন নিয়ে টেবিলের শীর্ষে ইংল্যআন্ড। সমসংখ্যক ম্যাচে ৩ পয়েন্ট নিউজিল্যান্ড দ্বিতীয় স্থানে। তাদের নেট রান রেট +১.৩৯০। ২ ম্যাচে ১ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে পাকিস্তান। নেট রান রেট -০.৪৬১। শেষ ম্যাচে পাকিস্তান খেলবে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে। সেমিফাইনালে উঠতে হলে পাকিস্তানকে শেষ ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে শুধু জিতলেই হবে না, নেট রান রেটও বাড়াতে হবে। পাকিস্তান যদি প্রথমে ব্যাট করে ৬৫ রানে জেতে, কিংবা ১৩ ওভারের মধ্যে রান তাড়া করে জিততে পারে, তাহলে নেট রান রেটে নিউজিল্যান্ডকে পেছনে ফেলে সেমিফাইনালে পৌঁছে যাবে।