ভারতের কাছে টি২০ সিরিজে বিধ্বস্ত হতে হয়েছিল নিউজিল্যান্ডকে। বিশ্বকাপে কিউয়িরা নিজেদের কতটা মেলে ধরতে পারবে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছিল সন্দেহ। কিন্তু পরপর দুটি ম্যাচ জিতে যাবতীয় জল্পনা উড়িয়ে দিল কিউয়িরা। দ্বিতীয় ম্যাচে রেকর্ড গড়ে সংযুক্ত আরব আমিরশাহিকে উড়িয়ে দিল ১০ উইকেটে। রেকর্ড গড়লেন ওপেনার টিম সেইফার্টও।
চেন্নাইয়ের এমএ চিদাম্বরম স্টেডিয়ামে প্রথমে ব্যাট করে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৭৩ রান তোলে। দ্বিতীয় ওভারে মাত্র ১২ রানের মাথায় আর্যংশ শর্মা (৮) ফিরে গেলে আমিরশাহির বড় রানের ভিত গড়ে দেন অধিনায়ক মুহাম্মদ ওয়াসিম (৪৫ বলে অপরাজিত ৬৬) ও আলিশান শরাফু (৪৭ বলে ৫৫)। ১৩ বলে ২১ রান করেন মায়াঙ্ক কুমার। ম্যাট হেনরি ৩৭ রানে ২ উইকেট নেন।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ১৫.২ ওভারে কোনও উইকেট না হারিয়ে জয়ের জন্য ১৭৪ রানের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় নিউজিল্যান্ড। টি২০ বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই প্রথম কোনও দল ১৭০ রানের বেশি লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে উইকেট না হারিয়ে জয় তুলে নিল। ওপেনিং জুটিতেও বিশ্বরেকর্ড গড়েছে নিউজিল্যান্ড। নিউজিল্যান্ডের দুই ওপেনার ফিন অ্যালেন এবং টিম সেইফার্ট দুর্দান্ত পারফরমেন্স করেছেন। তাঁরা অপরাজিত ১৭৫ রানের জুটি গড়ে তোলেন, যা টি২০ বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। ভেঙে দিয়েছেন ইংল্যান্ডের জস বাটলার এবং অ্যালেক্স হেলসের জুটিতে তোলা ১৭০ রানের রেকর্ড।
ফিন অ্যালেন ৫০ বলে অপরাজিত ৮৪ রান করেন। তাঁর ইনিংসে রয়েছে ৫টি চার এবং ৫টি ছক্কা। অন্যদিকে, টিম সেইফার্ট ৪২ বলে অপরাজিত ৮৯ রান করেন। তাঁর ইনিংসে রয়েছে ১২টি চার এবং ৩টি ছক্কা। টিম সেইফার্ট এদিন নিউজিল্যান্ডের হয়ে টি২০ বিশ্বকাপে দ্রুততম হাফ সেঞ্চুরির রেকর্ড স্পর্শ করলেন। তিনি ২৩ বলে হাফ সেঞ্চুরিতে পৌঁছন। এর আগে ২০০৯ সালের টি২০ বিশ্বকাপে আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে ২৩ বলে ৫০ করেছিলেন অ্যারন রেডমন্ড। এই জয়ের ফলে নিউজিল্যান্ড গ্রুপ ডি–তে শীর্ষে উঠে এসেছে। তারা এখনও পর্যন্ত দুটি ম্যাচ খেলেছে এবং দুটিতেই জিতেছে।
দিনের অন্যম্যাচে, নামিবিয়াকে ৭ উইকেটে হারিয়েছে হল্যান্ড। প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৫৬ রান তোল নামিবিয়া। জবাবে ১৮ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ১৫৯ তুলে ম্যাচ জিতে নেয় হল্যান্ড। ৪৮ বলে অপরাজিত ৭২ রানের দুরন্ত ইনিংস খেলে হল্যান্ডের জয় নিশ্চিত করেন বাস ডি লিড। ২৮ বলে ৩২ রান করেন কলিন অ্যাকেরম্যান।