মুল্লানপুরে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে মাঠে নামার আগে শেষ ৬টা ম্যাচে হাফ সেঞ্চুরি নেই শুভমান গিল ও অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবের ব্যাটে। দলের ওই দুই সেরা ব্যাটারের ফর্মে ফেরার দিকে তাকিয়েছিল টিম ম্যানেজমেন্ট। দুই তারকাই ব্যর্থ। বল হাতে জ্বলে উঠতে পারলেন না যশপ্রীত বুমরা ও অর্শদীপ সিংও। ভারতকে দ্বিতীয় টি২০ ম্যাচে ৫১ রানে হারিয়ে সিরিজে সমতা ফেরাল দক্ষিণ আফ্রিকা। দুরন্ত ব্যাটিং কুইন্টন ডিককের।
টস জিতে এদিন দক্ষিণ আফ্রিকাকে প্রথমে ব্যাট করতে পাঠান ভারতীয় দলের অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব। প্রথম ম্যাচের ব্যর্থতা কাটিয়ে এদিন দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ালেন প্রোটিয়া ব্যাটাররা। কুইন্টন ডিককের কথা আলাদা করে বলতেই হবে। প্রথম ম্যাচে দ্বিতীয় বলেই আউট হয়েছিলেন। মুল্লানপুরে দুরন্ত ব্যাটিং করলেন। পঞ্চম ওভারের বরুণ চক্রবর্তীর প্রথম বলেই রেজা হেনড্রিকস (১০ বলে ৮) আউট হওয়ার পর দলকে একাই টেনে নিয়ে যান ডিকক। তাঁর হাফ সেঞ্চুরি আসে ২৬ বলে।
প্রোটিয়া ব্যাটারদের সামনে এদিন দিশা খুঁজে পাননি ভারতের দুই সেরা বোলার যশপ্রীত বুমরা ও অর্শদীপ সিং। পাওয়ার প্লে ও ডেথ ওভারে ব্যাপক মার খান দুজনেই। ১০ ওভারেই ৯০/১ রান তুলে ফেলেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। একাদশ ওভারে ৭টি ওয়াইড দেন অর্শদীপ। ওই ওভারে মোট ১৩টি বল করেন। টি২০ ক্রিকেটে ভারতীয় বোলারদের মধ্যে সবথেকে দীর্ঘতম ওভার। ম্যাচে এদিন মোট ৯টি ওয়াইড দেন অর্শদীপ।
বরুণ চক্রবর্তীই দলকে দ্বিতীয় সাফল্য এনে দেন। দ্বাদশ ওভারের শেষ বলে তুলে নেন প্রোটিয়া অধিনায়ক এইডেন মার্করামকে (২৬ বলে ২৯)। মার্করাম ফিরে গেলেও কুইন্টন ডিককের দাপটে ১৫ ওভারেই ১৫৬/২ রানে পৌঁছে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা। শেষ পর্যন্ত ৪৬ বলে ৯০ রান করে আউট হন ডিকক। মারেন ৫টি চার ও ৭ ছক্কা। ডিকক আউট হওয়ার পরপরই ফিরে যান ডিওয়াল্ড ব্রেভিস (১০ বলে ১৪)। ফেরেইরা (১৬ বলে অপরাজিত ৩০) ও মিলারের দাপটে (১২ বলে অপরাজিত ২০) শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ২১৩/৪ তোলে দক্ষিণ আফ্রিকা।
২১৪ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করে জিততে গেলে ওপেনিং জুটিকে জ্বলে উঠতে হত। সেটাই হয়নি ভারতের। এদিনও ব্যর্থ দলের দুই ওপেনার। প্রথম ওভারের পঞ্চম বলে ফিরে যান শুভমান গিল (০)। মাত্র একবল ক্রিজে স্থায়ী হয়েছিলেন। পরের ওভারে আউট হন অভিষেক শর্মা (৮ বলে ১৭)। দুটি ছক্কা হাঁকিয়ে ভাল শুরু করেছিলেন। কিন্তু ধরে রাখতে পারেননি। অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবের (৪ বলে ৫) ব্যর্থতা ভারতের ওপর চাপ আরও বাড়িয়ে দেয়। শুভমানের মতো শেষ ৭ ম্যাচে হাফ সেঞ্চুরি নেই সূর্যর।
সূর্য আউট হওয়ার পর অক্ষর প্যাটেল ও তিলক ভার্মা দলকে কিছুটা এগিয়ে নিয়ে যান। অস্টম ওভারে অক্ষরকে (২১ বলে ২১) তুলে নিয়ে জুটি ভাঙেন ওটনেল বার্টম্যান। এরপর পর তিলকের সঙ্গে জুটি বাঁধেন হার্দিক। ২৩ বলে ২০ রান করে তিনি আউট হন। হার্দিক আউট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে যায়। একা দলকে টেনে নিয়ে যান তিলক ভার্মা। ২৭ বলে হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। শেষ পর্যন্ত ৩৪ বল ৬২ রান করে তিনি আউট হন। ১৯.১ ওভারে ১৬২ রানে গুটিয়ে যায় ভারতের ইনিংস। জিতেশ শর্মা ১৭ বলে করেন ২৭। শিবম দুবের ব্যাট থেকে আসে মাত্র ১ রান। দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে ওটনেল বার্টম্যান ২৪ রানে ৪ উইকেট নেন।