শেষ ওভারে লখনউ সুপার জায়ান্টসের জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ১৭ রান। টি২০ ক্রিকেটে লক্ষ্য খুব একটা কঠিনও নয়, আবার সহজও নয়। পরপর দুটি নো বল করে লখনউর কাজ কিছুটা হলেও সহজ করে দিয়েছিলেন কার্তিক ত্যাগী। ফ্রি হিটে ২ রান নিয়েছিলেন হিম্মত সিং। আবার নো বল। এবার বাউন্ডারি। তৃতীয় বলে আউট হিম্মত। শেষ বলে লখনউর জয়ের জন্য দরকার ছিল ৭ রান। মহম্মদ সামির শট সোজা গ্যালারিতে। ম্যাচ গড়াল সুপার ওভারে।
সুপার ওভারে অবশ্য বাজিমাত কলকাতা নাইট রাইডার্সের। লখনউকে হারিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ২ পয়েন্ট তুলে নিয়ে প্লে অফের আশা বাঁচিয়ে রাখলেন অজিঙ্কা রাহানেরা। সুপার ওভারে দুরন্ত বোলিং সুনীল নারাইনের। তাঁর ঘূর্ণিতে বেসামাল লখনউ। সুপার ওভারের প্রথম বলেই ছিটকে দিয়েছিলেন নিকোলাস পুরানের স্টাম্প (০)। দ্বিতীয় বলে দেন ১ রান। তৃতীয় বলে তুলে নেন এইডেন মার্করামকে (০)। ৩ বলে ২ উইকেট হারিয়ে মাত্র ১ রান তোলে লখনই। ব্যাট করতে নেমে প্রিন্স যাদবের প্রথম বলেই বাউন্ডারি হাঁকিয়ে নাইটদের মূল্যবান জয় এনে দেন রিঙ্কু সিং।
শুরুটা দেখলে কিন্তু মনেই হত না এই ম্যাচ নাইটরা জিততে পারে। সেখানেও কিন্তু রিঙ্কু সিংয়ের অবদান। ঘরের মাঠে লখনউ টস জিতে নাইটদের ব্যাট করতে পাঠিয়েছিল। ৩১ রানের মধধ্যে ডাগ আউটে টিম সেইফার্ট (০), অজিঙ্কা রাহানে (১৫ বলে ১০), অঙ্গকৃশ রঘুবংশী (৯ বলে ৮) ও রভম্যান পাওয়েল (১)। সেখান থেকে লড়াই শুরু ক্যামেরন গ্রিন ও রিঙ্কু সিংয়ের। দলীয় ৭৩ রানের মাথায় আবার ধাক্কা। ২১ বলে ৩৪ রান করে আউট হন গ্রিন। পরের বলেই ফিরে যান অনুকূল রায় (০)। রমনদীপ (৬) আউট হওয়ার পর চাপ আরও বাড়ে।
একপ্রান্তে উইকেট পড়তে থাকলেও অন্যপ্রান্ত আগলে থাকেন রিঙ্কু। তাঁর ব্যাটিংয়ের ওপর ভর করেই মান বাঁচায় নাইটরা। ৯৩/৭ থেকে দলকে ১৫৫/৭ রানে পৌঁছে দেওয়ার কৃতিত্ব রিঙ্কুরই। ইনিংসের শেষ ওভারে স্পিনার দ্বিগ্বেশ রাঠির হাতে বল তুলে দিয়েছিলেন লখনউ অধিনায়ক ঋষভ পন্থ। দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম বলে ৪টি ছক্কা হাঁকান রিঙ্কু। নাইটরা পৌঁছে যায় ১৫৫ রানে। ৫১ বলে ৮৩ রান করে অপরাজিত থাকেন রিঙ্কু। মারেন ৭টি ৪ ও ৫টি ৬। দুরন্ত বোলিং করে ২৩ রানে ৫ উইকেট নেন মহসিন খান।
দ্বিতীয় ওভারে মিচেল মার্শের (২) উইকেট হারালেও মনে হচ্ছিল লখনউর জয় খুব একটা কঠিন হবে না। সতর্কভাবে দলকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন এইডেন মার্করাম (২৭ বলে ৩১) ও ঋষভ পন্থ (৩৮ বলে ৪২)। নিকেলাস পুরান (১২ বলে ৯), মুকুল চৌধরিরা (১) পরপর ফিরে যাওয়ায় চাপ বাড়ে। আয়ুশ বাদোনি (১৯ বলে ২৪) ও হিম্মত সিংরা (১০ বলে ১৯) চেষ্টা করেছিলেন কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। তারপর শেষ ওভার ও সুপার ওভারে ওই নাটক।