গ্রুপ ১ থেকে আগেই সেমিফাইনালে পৌঁছে গিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। রবিবার দিনের প্রথম ম্যাচে জিম্বাবোয়েকে হারিয়ে শীর্ষস্থানেও পৌঁছে গিয়েছিল। ইডেনে ভারত–ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচ ছিল দুই দলের কাছেই কার্যত কোয়ার্টার ফাইনাল। যে দল জিতবে, তারাই গ্রুপের দ্বিতীয় দল হিসেবে সেমিফাইনালে খেলার ছাড়পত্র পাবে। মরণবাঁচন ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৫ উইকেটে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার টি২০ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ভারত। দুরন্ত ব্যাটিং করে ভারতকে সেমিফাইনালে তুললেন সঞ্জু স্যামসন। সেমিফাইনালে সামনে ইংল্যান্ড।
টস জিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে প্রথমে ব্যাট করতে পাঠায় ভারত। ভারতীয় অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবের লক্ষ্য ছিল টার্গেট দেখে ব্যাটিং পরিকল্পনা করা। এছাড়া রাতের শিশিরের কথাও মাথায় রাখতে হয়েছিল ভারত অধিনায়ককে। ব্যাট করতে নেমে ভাল শুরু করেছিলেন দুই ক্যারিবিয়ান ওপেনার। ওপেনিং জুটিতে ৬৮ তুলে ফেলেন অধিনায়ক সাই হোপ ও রস্টন চেজ। বরুণ চক্রবর্তীর হাত ধরেই আসে প্রথম সাফল্য। নবম ওভারে সাই হোপকে (৩৩ বলে ৩২) তুলে নিয়ে ক্যারিবিয়ানদের প্রথম ধাক্কা দেন বরুণ।
হোপ ফিরে যাওয়ার পর ক্রিজে নেমেই রানের গতি বাড়ানোর দিকে নজর দেন শিমরন হেটমায়ের। রস্টন চেজও দলকে ভালোই এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন। দ্বাদশ ওভারে যশপ্রীত বুমরার জোড়া ধাক্কায় বেসামাল হয়ে পড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ২ বলের ব্যবধানে তুলে নেন হেটমায়ের (১২ বলে ২৭), রস্টন চেজকে (২৫ বলে ৪০)। পরপর ২ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় ক্যারিবিয়ানরা। রান তোলার গতিও কমে যায়। শেরফানে রাদারফোর্ডও (৯ বলে ১৪) রান পাননি। শেষদিকে ঝড় তোলেন রভম্যান পাওয়েল ও জেসন হোল্ডার। এই দুই ব্যাটারের দাপটেই নির্ধারিত ২০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৯৫ তোলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। রভম্যান পাওয়েল ১৯ বলে ৩৪ ও জেসন হোল্ডার ২২ বলে ৩৭ রান করে অপরাজিত থাকেন। ভারতের হয়ে যশপ্রীত বুমরা ৩৬ রানে ২টি, হার্দিক পান্ডিয়া ৪০ রানে ও ৪০ রানে ১টি করে উইকেট নেন।
ভারত এদিনও রিঙ্কু সিংকে প্রথম একাদশের বাইরে রেখে মাঠে নেমেছিল। অভিষেক শর্মার সঙ্গে ওপেন করতে নেমেছিলেন সঞ্জু স্যামসন। সঞ্জু সফল হলেও অভিষেক আবার ব্যর্থ। ১১ বলে মাত্র ১০ রান করে আকিল হোসেনের বলে হেটমায়েরের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান। দিনটা অভিষেকের ছিল না। ফিল্ডিংয়ের সময় দু’দুটি ক্যাচ ফস্কান। অভিষেকের মতো ঈশান কিষাণও আসল ম্যাচে ব্যর্থ। ৬ বলে ১০ রান করে জেসন হোল্ডারের বলে শিমরন হেটমায়েরের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান।
ঈশান ফিরে যাওয়ার পর দলকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন সঞ্জু ও সূর্যকুমার। দলীয় ৯৯ রানের মাথায় ফিরে যান ভারত অধিনায়ক। ১৬ বলে ১৮ রান করেন সূর্য। তিলক ভার্মা ১৫ বলে ২৭ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলে দলের চাপ কাটিয়ে দেন। যখন ১১ বলে জয়ের জন্য ১৭ রান দরকার ছিল, সেই সময় আউট হন হার্দিক পান্ডিয়া (১৪ বলে ১৭)। এরপর দলকে জয় এনে দেন সঞ্জু ও শিবম দুবে। ৪ বল বাকি থাকতে ৫ উইকেটে জয় তুলে নিয়ে সেমিফাইনালে পৌঁছে যায় ভারত (১৯৯/৫)। ৫০ বলে অপরাজিত ৯৭ রানের দুরন্ত ইনিংস খেলেন সঞ্জু স্যামসন। ৪ বলে ৮ রান করে অপরাজিত থাকেন শিবম দুবে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে জেসন হোল্ডীর ও সামার জোসেফ ২টি করে উইকেট নেন। মুম্বইতে ৫ মার্চ দ্বিতীয় সেমিফাইনালে খেলবে ইংল্যান্ড ও ভারত।