আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে ড্র করলেই এসে যেত ২০২৬ বিশ্বকাপের ছাড়পত্র। অথচ সেই সুযোগ হেলায় হারাল পর্তুগাল। আয়ারল্যান্ডের কাছে ২–০ ব্যবধানে হেরে বিশ্বকাপ খেলার রাস্তা কঠিন করে ফেলল পর্তুগীজরা। সবচেয়ে বড় কথা, পর্তুগাল যদি বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতাও অর্জন করে, প্রথম ম্যাচে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর মাঠে নামা নিয়ে তৈরি হয়েএ অনিশ্চয়তা। কারণ, ২২ বছরের আন্তর্জাতিক ফুটবলজীবনে এই প্রথম দেশের জার্সি গায়ে লালকার্ড দেখলেন রোলান্ডো।
ডাবলিনের আভিভা স্টেডিয়ামে আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচ খেলতে নেমেছিল পর্তুগাল। ড্র করলেই বিশ্বকাপের ছাড়পত্র। কিন্তু আয়ারল্যান্ডের ঘরের মাঠে নিজেদের মেলে ধরতে ব্যর্থ হয় পর্তুগাল। আসলে
পর্তুগালের বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলার এদিন ছিলেন না। কার্ড সমস্যার জন্য মাঠে নামতে পারেননি ব্রুনো ফার্নান্ডেজ। এছাড়াও চোটের জন্য ছিলেন না পেদ্রো নেটো, পেদ্রো গনকালভাস এবং নুনো মেন্ডেস। ঘরের মাঠে দাপট দেখিয়ে প্রথমার্ধেই ২ গোল তুলে নেয় আয়ারল্যান্ড। গোল দুটি করেন ট্রয় প্যারোট।
আরও পড়ুনঃ লুধিয়ানায় হামলার ছক সন্ত্রাসীদের, পরিকল্পনা ভেস্তে দিল পাঞ্জাব পুলিশ, উদ্ধার গ্রেনেড, গ্রেফতার ১০
ম্যাচের ১৭ মিনিটেই গোল করে দলকে এগিয়ে দেন প্যারোট। প্রথমার্ধের একেবারে শেষলগ্নে তাঁর গোলেই ব্যবধান বাড়ে। দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়ানোর মরিয়া চেষ্টা করে পর্তুগাল। কিন্তু সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি। উল্টে মাথা গরম করে লাল কার্ড দেখে দলকে সমস্যায় ফেলে দেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। ম্যাচের ৬১ মিনিটে বল ছাড়াই আয়ারল্যান্ড ডিফেন্ডার দারা ও’শিয়ার মুখে কনুই দিয়ে আঘাত করেন পর্তুগীজ তারকা। রেফারি গ্লেন নাইবার্গ প্রথমে রোনাল্ডোকে হলুদ কার্ড দেখান। কিন্তু ভিএআর রিভিউয়ের পর রেফারি নিজের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে রোনাল্ডোকে লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠ থেকে বার করে দেন। একেই প্রথম একাদশের একঝাঁক ফুটবলার ছিলেন না। তার ওপর রোনাল্ডো বেরিয়ে যাওয়ায় আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি পর্তুগাল।
রোনাল্ডোর এই লালকার্ড পর্তুগালের ভবিষ্যৎকেও জটিল করে তুলেছে। কারণ, সরাসরি বিশ্বকাপের ছাড়পত্র পেতে গেলে পরের ম্যাচে আর্মেনিয়ার বিরুদ্ধে জিততেই হবে পর্তুগালকে। ২২ বছরের আন্তর্জাতিক ফুটবলজীবনে এই প্রথম লালকার্ড দেখলেন রোনাল্ডো। লালকার্ড দেখার ফলে আর্মেনিয়ার বিরুদ্ধে গ্রুপ ‘এফ’–র চূড়ান্ত বাছাইপর্বের ম্যাচে খেলতে পারবেন না। এই নিষেধাজ্ঞা ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ পর্যন্ত কার্যকরী হতে পারে।
যেহেতু রোনাল্ডোর এই আচরণ খুবই গুরুতর, তাই ফিফার শৃঙ্খলাবিধিতে কঠোর শাস্তির কথা বলা হয়েছে। অধ্যায় ২, অনুচ্ছেদ ১৪(১) উল্লেখ রয়েছে, ‘প্রতিপক্ষকে কনুই মারা, ঘুষি মারা, লাথি মারা, কামড়ানো, থুতু ফেলা বা আঘাত করা সহ আক্রমণের জন্য লালকার্ড দেখা খেলোয়াড়কে তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া উচিত।’ আরও নির্দেশিকা অনুসারে, সহিংস আচরণের জন্য কমপক্ষে তিনটি ম্যাচ অথবা আক্রমণের জন্য কমপক্ষে তিন ম্যাচ নির্বাসিত করতে হবে। যদি শৃঙ্খলা কমিটি কঠোর শাস্তির সিদ্ধান্ত নেয় এবং পর্তুগাল গ্রুপ ‘এফ’–র শীর্ষে থাকে, তাহলে রোনাল্ডো আর্মেনিয়ার ম্যাচ এবং বিশ্বকাপের প্রথম দুটি গ্রুপ পর্বের ম্যাচে খেলতে পারবেন না। যদি পর্তুগাল প্লেঅফে যায়, তাহলে সেই ম্যাচগুলিও নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে।